আরজি কর আন্দোলনের অন্যতম মুখ অনিকেত মাহাতোর WBJDF থেকে পদত্যাগ
আরজি কর আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ অনিকেত মাহাতো পশ্চিমবঙ্গ জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্টের (WBJDF) বোর্ড অফ ট্রাস্টের সভাপতি পদ থেকে নতুন বছরের প্রথম দিনেই ইস্তফা দিয়েছেন। চিঠিতে তিনি পদত্যাগের কারণ হিসেবে এগজিকিউটিভ কমিটি গঠন নিয়ে ট্রাস্টের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে সংঘাতকে উল্লেখ করেছেন। অনিকেত তাঁর সিদ্ধান্তকে 'বেদনাদায়ক'-ও আখ্যা দিয়েছেন।
অনিকেতের অভিযোগ, আইনি পরামর্শ উপেক্ষা করে ট্রাস্টের সঙ্গে সুনির্দিষ্ট সম্পর্ক ছাড়াই কমিটি তৈরি হচ্ছে, যা 'অগণতান্ত্রিক' এবং 'ন্যায়বিচারের দাবিতে আন্দোলনের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ'। তাঁর আপত্তি বার বার উপেক্ষা করা হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

সূত্রের খবর, সম্প্রতি ভোটাভুটির মাধ্যমে এগজিকিউটিভ কমিটিতে ৩৭ জন নতুন সদস্য নিয়োগ করা হয়েছে, যা ট্রাস্ট ও এই কমিটির মধ্যে দায়িত্ববণ্টন ঘিরে সংঘাতের জন্ম দিয়েছে। পদত্যাগের পর অনিকেত বলেন, "কমিটির ভোটাভুটির আগেই আমি বেরিয়ে এসেছি। তাই এই কমিটি নিয়ে কিছু বলা আমার উচিত হবে না।"
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৯ অগাস্ট আরজি কর হাসপাতালে এক মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ-খুনের প্রতিবাদে জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলন শুরু হয়। অনিকেত সেই প্রতিবাদী আন্দোলনের প্রথম সারিতে ছিলেন। তিনি ন্যায়বিচার ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামো সংস্কারের দাবিতে অনশন, এমনকি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি প্রশ্ন করার জন্যও পরিচিত ছিলেন।
আরজি কর পর্বের পর প্রতিহিংসামূলকভাবে অনিকেত-সহ কয়েকজন জুনিয়র ডাক্তারকে কাঙ্ক্ষিত স্থান থেকে দূরে পোস্টিং দেওয়া হয়। দেবাশিস হালদার ও আসফাকুল্লা নাইয়া পরিবর্তিত পোস্টিং মেনে নিলেও অনিকেত আইনি লড়াই চালিয়ে যান। কলকাতা হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট তাঁর পক্ষেই রায় দেয়।
সর্বোচ্চ আদালত অনিকেতকে আরজি কর হাসপাতালেই পোস্টিংয়ের নির্দেশ দিলেও, তাঁর অভিযোগ, আজও তাঁকে কাজে যোগ দিতে দেওয়া হয়নি। ইস্তফাপত্রে তিনি এই বিষয়টি উল্লেখ করে মাথা নত না করে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন।
ডক্টরস ফ্রন্ট থেকে পদত্যাগের পর অন্যদের সমর্থন প্রসঙ্গে অনিকেত বলেন, "ফ্রন্টকে তো সাধারণ মানুষই টাকা দিয়েছে। তারা কী করবে, সেটা ফ্রন্টকেই ঠিক করতে হবে। আমরা সকলে একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছি। আমার কারও উপর কোনও ক্ষোভ নেই।"
আন্দোলন চলাকালীন কর্মপন্থা নিয়ে ফ্রন্টের অনেকের সঙ্গে তাঁর মতপার্থক্য হয়েছিল বলে অনিকেত ইস্তফাপত্রে উল্লেখ করেন। তিনি লেখেন, "আন্দোলন চলাকালীন কর্মপন্থা নিয়ে আপনাদের সঙ্গে আমার মাঝে মাঝে মতপার্থক্য হয়েছে। তবু ঐক্য বজায় রেখে আমার সাধ্যমতো ভূমিকা পালন করে গিয়েছি।" অনিকেত জানিয়েছেন, অতীতের সকল সংঘাত ভুলে তিনি আরজি কর কাণ্ডে ন্যায়বিচারের দাবিতে লড়াইতে থাকবেন।












Click it and Unblock the Notifications