Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

ভারত থেকে শেখ হাসিনার প্রত্যার্পণ কি তবে ইন্টারপোলের হাত ধরেই? বাড়ছে কি দুই দেশের কূটনৈতিক টানাপোড়েন?

বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা নোবেলজয়ী মহম্মদ ইউনুসের সরকার এবার ইন্টারপোলের সাহায্য নিতে প্রস্তুত। লক্ষ্য ভারতে অবস্থানরত অপসারিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে দেশে ফিরিয়ে আনা। কয়েকদিন আগেই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই দুজনের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেছে। এরপর থেকেই বাংলাদেশি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ইন্টারপোলের রেড নোটিস জারির উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে।

ঢাকার বিদেশ মন্ত্রক আগেই জানিয়েছিল, শেখ হাসিনা ও কামালের প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়ে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এখন তার পাশাপাশি ইন্টারপোলের সঙ্গেও যোগাযোগ শুরু করেছে আইসিটির প্রসিকিউশন টিম।

২০২৪ সালের জুলাই ও অগাস্টের ছাত্র আন্দোলনের সময় ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর দখলে পরিস্থিতি চলে যাওয়ার পর ক্ষমতা হারান শেখ হাসিনা। পরে তিনি ভারতে চলে আসেন বলে জানা যায়। আসাদুজ্জামান খান কামালের অবস্থানও গোপন, তবে তিনিও ভারতে আত্মগোপনে আছেন বলে বিভিন্ন সূত্রের দাবি।

আইসিটির রায়ের পরের দিনই প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম জানান, দণ্ডিত দুই 'পলাতক' অভিযুক্তের বিরুদ্ধে রেড নোটিস জারির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগে যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে আবেদন করা হয়েছিল, এখন নতুন করে দণ্ডাদেশের কপি ইন্টারপোলে পাঠিয়ে নোটিস পুনর্জারির অনুরোধ করবে ঢাকা।

অন্যদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের আইন ও বিচার উপদেষ্টা আসিফ নজরুল স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, শেখ হাসিনা ও কামালকে ভারতে থেকে ফেরত আনার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে নয়াদিল্লিকে চিঠি পাঠানো হবে।

যদিও ভারত এখনো প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গে সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি, তবে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর নয়াদিল্লি জানিয়েছে বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থেই তারা গঠনমূলক আলোচনায় আগ্রহী।

২০১৩ সালে স্বাক্ষরিত ভারত বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তিতে দণ্ডপ্রাপ্তদের হস্তান্তরের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে চুক্তিতে রাজনৈতিক চরিত্রের মামলার ক্ষেত্রে প্রত্যাখ্যানের সুযোগও রাখা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শেখ হাসিনার মামলা সেই 'ধূসর' ও সংবেদনশীল পরিসরে পড়ে।

এদিকে আইসিটি জানিয়েছে, বিশেষ ট্রাইব্যুনালের নিয়ম অনুযায়ী, ৩০ দিনের মধ্যে আত্মসমর্পণ করে আপিল করার সুযোগ আছে অভিযুক্তদের। কিন্তু শেখ হাসিনা ও কামাল দুজনই এই রায়কে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফসল বলে দাবি করছেন। আওয়ামী লীগও বিবৃতি দিয়ে বলেছে "অনির্বাচিত সরকারের সাজানো আদালতে এই রায় সম্পূর্ণ পক্ষপাতদুষ্ট।"

এক সাক্ষাৎকারে কামাল বলেছেন, এই রায় তাদের কাছে 'অপ্রত্যাশিত নয়', কারণ "আওয়ামী লীগ নেতৃত্বর ধ্বংসই ছিল আদালত গঠনের আসল উদ্দেশ্য।" পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়াকেও তিনি উল্লেখ করে বলেন "এতে পুরো চিত্রটাই স্পষ্ট।"

ঢাকা যখন শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের জন্য আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে, তখন ভারতের অবস্থান এই জটিল মামলার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে, এমনটাই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+