কানাডার পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হবেন? দৌড়ে আছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত অনিতা আনন্দ
কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো তার দল এবং দেশে উভয়ের সমর্থনের ক্রমবর্ধমান ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার পরে পদত্যাগের কথা ঘোষণা করেছেন। এখন ট্রুডোর লিবারেল পার্টিকে অবশ্যই একজন নতুন নেতা খুঁজে বের করতে হবে। কারণ নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনিই থাকার পরিকল্পনা করেছেন। তাই এই মুহুর্তে শীর্ঘ্রই প্রয়োজন ট্রুডোর প্রতিদ্বন্ধী।
এখন পর্যন্ত, বেশ কিছু জনপ্রিয় মুখ প্রথম সারিতে আছেন যারা ট্রুডোর স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন। আর তাঁর মধ্যেই রয়েছেন একজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নেতা অনিতা আনন্দ, যিনি বর্তমানে ট্রুডোর মন্ত্রিসভার পরিবহণ মন্ত্রী হিসেবে রয়েছেন।

- এখন প্রশ্ন হচ্ছে কে এই অনিতা আনন্দ?
অনিতা আনন্দ তার কর্মজীবনে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। ২০১৯ সালে ওকভিলের সংসদ সদস্য হিসাবে প্রথম নির্বাচিত, তিনি ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত পাবলিক সার্ভিসেস এবং প্রকিউরমেন্ট মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ট্রেজারি বোর্ডের সভাপতি এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসাবে তার মেয়াদকালে, আনন্দ সেনাবাহিনীর মধ্যে যৌন অসদাচরণ মোকাবেলায় সংস্কার বাস্তবায়ন করেছিলেন। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে, তিনি ট্রেজারি বোর্ডের সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রেখে পরিবহন মন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হন।
তার বাবা-মা দুজনেই চিকিৎসক ছিলেন। যদিও তার বাবার পরিবার তামিলনাড়ুর চেন্নাই থেকে। আর তার মা পাঞ্জাবের একটি ছোট শহরে জন্মগ্রহণ করেছেন। অর্থাৎ তাঁর মা হলেন পাঞ্জাবী এবং বাবা হলেন তামিল। তাঁদের জ্যেষ্ট কন্যা অনিতা আনন্দ। তিনি একজন পণ্ডিত, আইনজীবী এবং গবেষক হিসেবে কাজ করেছেন।
অনিতা আনন্দের পরিবার উত্তর আমেরিকায় অভিবাসন করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তারা ভারত ও নাইজেরিয়াতে বসবাস করেছিলেন। এরপর অনিতা ও তার ছোট বোন নোভা স্কটিয়াতে জন্মগ্রহণ করেন। সেখানেই বড় হয়ে ওঠেন তিনি।
আগামী ২৪ মার্চ পার্লামেন্ট পুনরায় শুরু হওয়ার আগে লিবারালদের একটি নতুন নেতা নির্বাচন করতে হবে। কারণ তিনটি বিরোধী দলই বলে যে তারা প্রথম সুযোগে অনাস্থা ভোটে লিবারেল সরকারকে ফেলে দেবে, আর তারপরই নির্বাচন হবে। নতুন মুখ হয়তো বেশিদিন প্রধানমন্ত্রী থাকবেন না। তবে তারপরই নতুন করে নির্বাচন হলে বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির পক্ষে যাবে সেই রায়।
অনিতা আনন্দ ছাড়াও আরও যারা প্রধানমন্ত্রীর দৌড়ে আছেন, তারা হলেন - উদ্ভাবন মন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেন, বিদেশ মন্ত্রী মেলানি জোলি, প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড এবং মার্ক কার্নি, ব্যাঙ্ক অফ কানাডা এবং ব্যাঙ্ক অফ ইংল্যান্ডের প্রাক্তন গভর্নর। এছাড়াও, নতুন অর্থমন্ত্রী ডমিনিক লেব্ল্যাঙ্ক। প্রাক্তন জননিরাপত্তা মন্ত্রী, এবং ট্রুডোর ঘনিষ্ঠ বন্ধু, লেব্ল্যাঙ্ক সম্প্রতি মার-এ-লাগোতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট-নির্বাচিত ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে একটি নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রীর সাথে যোগ দিয়েছিলেন। ট্রুডো যখন ছোট ছিলেন তখন লেব্ল্যাঙ্ক ছিলেন ট্রুডোর বেবিসিটার।
স্বাভাবিক ভাবেই পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর দৌড়ে রয়েছেন অনেকেই। যার মধ্যে উজ্জ্বল মুখ হিসেবে রয়েছেন প্রবাসী ভারতীয় অনিতা আনন্দ।












Click it and Unblock the Notifications