'মৃত্য়ুর দ্বীপ'-এ শীর্ষ সম্মেলন ডোনাল্ড ট্রাম্প - কিম জং উনের

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি সারা স্যান্ডার্স জানিয়ে দিলেন টোনাল্ড ট্রাম্প ও কিম জং উনের বৈঠকটি হবে সিঙ্গাপুরের 'সেন্টোসা' দ্বীপের 'কাপেল্লা' নামে একটি পাঁচতারা হোটেলে।

আগেই জানানো হয়েছিল আগামী ১২ জুন স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় সিঙ্গাপুরে হবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উনের ঐতিহাসিক বৈঠক। এবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি সারা স্যান্ডার্স জানিয়ে দিলেন বৈঠকটি হবে সিঙ্গাপুরের 'সেন্টোসা' দ্বীপের 'কাপেল্লা' নামে একটি পাঁচতারা হোটেলে। ঘটনাক্রম এতদূর আসার পর আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন শেষপর্ষন্ত দুই রাষ্ট্রনেতার বৈঠকটি হবেই।

মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি তাঁর টুইটার হ্যান্ডেলে জানান, 'মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও উত্তর কোরিয় নেতা কিম জং উনের বৈঠককটি হবে সেন্টোসা দ্বীপের কাপেল্লা হোটেলে। সিঙ্গাপুরের হোস্টদের আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ জানাই।' সোমবারই স্যান্ডার্স জানিয়েছিলেন এই দিন স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় হবে দুই নেতার বৈঠক। এখনও পর্যন্ত জানা গেছে, একদিনের বৈঠকই হবে। দক্ষিণ কোরিয় প্রেসিডেন্ট এরপরদিন দুই নেতার সঙ্গে যোগ দিয়ে একটি ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের প্রস্তাব রেখেছেন। কিন্তু এব্যাপারে হোয়াইট হাউস বা উত্তর কোরিয়া কেউই কোনও উচ্চবাচ্চ না করায় শেষ পর্যন্ত সেই বৈঠকটি আদৌ হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

নিরাপত্তা ও অন্যান্য বিভিন্ন দিকদিয়েই সেন্টোসা দ্বীপের এই হোটেলটি উপযুক্ত বলে জানা গিয়েছে। হোটেলটি ঔপনিবেশিক-শৈলী ও অত্যাধুনিক ভবনের সমন্বয়ে সম্বৃদ্ধ। দু পক্ষেরই প্রধান চিন্তার বিষয় ছিল নিরাপত্তা। রিসর্টটি জনবসতি থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন এলাকায় হওয়ায় সেদিক থেকে দুপক্ষই সন্তুষ্ট। পরিবহণগত সুবিধাও আছে। দ্বীপটির প্রবেশ করতে হয় কেবল কার, মনোরেল অথবা একটি টানেল-এর মাধ্যমে। তাই সহজেই প্রবেশ পথগুলিও সুরক্ষি করা যায়। শুু নিরাপত্তাই নয় প্রমোদের দিক থেকেও হোটেলটি অনন্য। একটি নতুন নকশার বার তৈরি করা হয়েছে। সেই বারে 'নাভেগান্তে' নামে হোটেলে প্রস্তুত স্বতন্ত্র 'রাম'-ও মেলে।

সেন্টোসা দ্বীপের ইতিহাসও এই বৈঠকের সঙ্গে যথেষ্ট সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সিঙ্গাপুর দেশটি ৬৩টি দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত। তার অন্যতম এই সেন্টোসা দ্বীপ। ৫০০ হেক্টর জায়গার এই দ্বীপটি সিঙ্গাপুরের মূল ভূখণ্ডের কাছেই অবস্থিত। দ্বীপটি মূলত পর্যটকদের কথা মাথায় রেখেই বিকশিত হয়েছে। রয়েছে প্রচুর বিলাসবহুল হোটেল এবং অভিজাত গলফ কোর্স। তবে সেন্টোসা দ্বীপের ইতিহাস কিন্তু দস্যুতা, রক্তপাত এবং যুদ্ধের ঘটনায় মোড়া।

মৃত্য়ুর দ্বীপ-এ বৈঠকে বসছেন ট্রাম্প-কিম

উনিশ শতকে ভারত এবং চিনের মধ্যের সমুদ্র পথে ব্রিটেনের একটি বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে সিঙ্গাপুর গড়ে উঠেছিল। ব্যবসায়ীদের গন্ধে গন্ধে দস্যুদের আনাগোনাও ছিল। দস্যুদের কারণেই সেন্টোসা দ্বীপ পরিচিত ছিল 'মৃত্যুর দ্বীপ' হিসেবে। ১৯৪২ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটেনের আত্মসমর্পনের পর সিঙ্গাপুর জাপানের হাতে আসে। জাপানিরা এ দ্বীপের নাম দেয় 'সায়োনান' অর্থাৎ 'দক্ষিণের বাতি'। দ্বীপে মূলত চিনা সম্প্রদায়ের বসবাস ছিল। জাপান-বিরোধীদের সেখান থেকে হঠানোর নামে বহু চিনাকে মেশিনগান দিয়ে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করে সাগরে ফেলে দেওয়া হয়। 'কাপেল্লা' হোটেলের সামনের সৈকতও সেসময় রক্তে লাল হয়ে থাকত। ১৯৭০ সালে সিঙ্গাপুর সরকার দ্বীপটির নামকরণ করে সেন্টোসা, অর্থাত 'শান্তি'। দ্বীপটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে। এখন ১২ তারিখের বৈঠক শান্তি আনবে না মৃত্যু সেটাই দেখার।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+