দূষণে যখন দিল্লিতে শ্বাস নেওয়াই কঠিন, তখন চিনের এগিয়ে আসা কি কূটনীতি না সহায়তা? জানুন
রাজধানী দিল্লি জুড়ে শীত নামার আগেই নেমে এসেছে ধোঁয়াশার দাপট। দিনের আলো ঢাকা পড়ে যাচ্ছে ধূসর কুয়াশায়, আর বাতাসে ভাসছে বিষাক্ত কণা। ঠিক এই সংকটের সময়ই ভারতকে দূষণ রোধে সহায়তা করার প্রস্তাব দিয়েছে প্রতিবেশী দেশ চিন।
ভারতে নিযুক্ত চিনা দূতাবাসের মুখপাত্র ইউ জিং এক্স হ্যাণ্ডেলে লিখেছেন, চিনও এক সময় ভয়াবহ দূষণের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। আমরা আমাদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে প্রস্তুত। বিশ্বাস করি, ভারতও খুব শীঘ্রই নীল আকাশ ফিরে পাবে।

এই বার্তা শুধু কূটনৈতিক সৌজন্য নয়, উপরন্তু দিল্লির বর্তমান পরিস্থিতির প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি সহানুভূতির ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ, বহু বছর ধরে ধোঁয়ার বিরুদ্ধে কঠোর লড়াই চালানোর পরেই উল্লেখযোগ্যভাবে বায়ুর মান উন্নত করতে সক্ষম হয়েছিল চিন।
মঙ্গলবারও দিল্লির বায়ুর মান সূচক তথা একিউআই ভয়াবহ ৪২০ তে পৌঁছায়। শহরের একাধিক এলাকার অবস্থা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আনন্দ বিহারে ৪০৩, অশোক বিহারে ৩৭০, বাওয়ানা ও
বুরারি ক্রসিং এ একিউআই ছিল ৩৯০ এর উপরে। শুধু দিল্লি নয়, তার পাশের নয়ডা ও গাজিয়াবাদেও পরিস্থিতি ভয়াবহ।
নয়ডার সেক্টর ১২৫ এ একিউআই ৩৪৫, সেক্টর ১১৬ তে ৩৫৭ ও গাজিয়াবাদের লোনিতে একিউআই ছুঁয়েছে ৪২০ তে, যা গুরুতর পর্যায়ের।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বায়ু শ্বাসযন্ত্রের রোগ, চোখে জ্বালা, কাশি ও ফুসফুসে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বিশেষ সতর্কতার প্রয়োজন শিশু, প্রবীণ নাগরিক, হাঁপানি ও শ্বাসকষ্টের রোগীদের মাস্ক ব্যবহার ও বাইরে কম বের হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে।
এছাড়া, বুধবার হালকা বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিনের বৃষ্টি দীর্ঘমেয়াদি স্বস্তি দেবে না।
দিল্লি ফের বছরের সেই সময়ের মুখোমুখি যখন বাতাসের প্রতিটি নিঃশ্বাস বিপদের সম্ভাবনা বয়ে আনে। প্রতিবেশী দেশের সহযোগিতার হাত বাড়ানো কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদি দূষণ নিয়ন্ত্রণে নিজস্ব উদ্যোগই ভারতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।












Click it and Unblock the Notifications