করোনা ধাক্কায় পরাস্ত মার্কিন মুলুক, মহামারীর মাঝেই বড় শিক্ষা পেলেন ট্রাম্প! কি বলছেন বিশেষজ্ঞরা
করোনা ধাক্কায় পরাস্ত মার্কিন মুলুক, মহামারীর মাঝেই বড় শিক্ষা পেলেন ট্রাম্প! কি বলছেন বিশেষজ্ঞরা
করোনার বিরুদ্ধে লড়াই গড়ে তুলতে একের পর এক ব্যর্থ হয়েছে বিশ্বের তাবড় তাবড় দেশগুলি। আমেরিকাও এর ব্যতিক্রম নয়। পরমাণু শক্তি হোক বা অর্থনীতি, সব দিক থেকেই তালিকায় বিশ্বে একের দিকে থাকা মার্কিন মুলুকের এই চরম অবস্থার পিছনে রয়েছে বেশ কিছু কারণ। বর্তমানে বিশ্বে করোনা আক্রান্ত প্রায় ১,৮৪,৪৬,৪৯৮ মানুষ, যার মধ্যে প্রায় ৪৮ লক্ষ ৬২ হাজার মানুষই আমেরিকার নাগরিক!

ট্রাম্পের গা-ছাড়া মনোভাবেই বিপদ
এদিকে ২০২০ সালের শুরু থেকেই বিশ্বের তাবড় তাবড় চিকিৎসকেরা আমেরিকা সহ সমস্ত দেশকেই কোভিড-১৯ এর আশু বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করেন। কিন্তু সেসবের তোয়াক্কা করেননি ট্রাম্প। অর্থনীতিবিদদের ভবিষ্যদ্বাণীকে অগ্রাহ্য করে ট্রাম্পের গা-ছাড়া মনোভাবই যে আমেরিকার দুর্গতির কারণ, তা একবাক্যে মেনে নিচ্ছেন কূটনীতিকরা। বর্তমানে বিশ্বের মাত্র ৪% মানুষের বাসস্থানে গোটা বিশ্বের প্রায় ২৫% করোনা আক্রান্তের হার দেখে চক্ষু চড়কগাছ বিশেষজ্ঞদের।

প্রকাশ্যে আসছে না আমেরিকার সমস্ত খবর
বিশেষজ্ঞদের মতে দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, আইসল্যান্ড, স্লোভাকিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ার মত দেশগুলি যেভাবে মূলধন, জৈবরাসায়নিক শক্তি ও বৈজ্ঞানিক মগজের মেলবন্ধনে করোনাকে ঠেকিয়ে রাখতে পেরেছে, কিন্তু মার্কিন প্রশাসনের উদ্যোগের অভাবে তা হয়নি। রাজনীতিবিদদের মতে, আমেরিকায় দশকের পর দশক ধরে চলে আসা বর্ণবৈষম্য, শ্রমজীবী শ্রেণীর বেতনে কোপ এবং ট্রাম্পের আমলে একাধিক আইনের ভুল প্রয়োগ ও ভুল পরিচালনার দৌলতে আমেরিকা আজ এই অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে। ২০১৪-এ আফ্রিকার ইবোলা মহামারী ও ২০১৬-এ আমেরিকা নির্বাচনের মতোই যে ২০২০-তেও আমেরিকাতে সামাজিক মাধ্যমে সব খবর প্রকাশ করা হচ্ছে না, তা বলাই বাহুল্য।

রক্ষণাবেক্ষণ ও তহবিলের অভাবে ধুঁকছে স্বাস্থ্য-ব্যবস্থা
ক্ষমতায় আসার প্রথম থেকেই ট্রাম্পের নজর ছিল বৈদেশিক বাণিজ্য ও বিশ্ব রাজনীতির দিকে। ফলত দেশের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর দিকে যে প্রশাসনিক তদারকির অভাব হয়েছে, তা স্বীকার করছেন সরকারি আধিকারিকরা। আন্তর্জাতিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, আমেরিকার বিশালকায় জনস্বাস্থ্য বাজেটের মাত্র ২.৫% ব্যয় হয় স্বাস্থ্য খাতে। ফলে টাকার অভাবে এবং অন্যান্য রোগের প্রাদুর্ভাবে দেশের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো এমনিতেই ধাক্কা খেয়ে খেয়ে চলছে।

ভিতর থেকে ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে মার্কিন আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থা
এদিকে মার্কিন যুব-সমাজের নেশা করার প্রবণতা গোটা দেশের সামাজিক অবক্ষয়ের একটা বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। যার জেরে ক্রমেই ভিতর থেকে ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে মার্কিন আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থা। এদিকে উত্তর ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক জেইনেপ টাফেকি বলেছেন, "বিশ্বে প্রায় ৪০,০০০ রকমের অজানা ভাইরাস বহন করে প্রাণীকুল, যার মধ্যে বেশ কয়েকরকমের ভাইরাস মানবসমাজে মহামারী ঘটাতে সক্ষম। আমেরিকা যদি প্রথম ধাক্কাই সামলাতে না পারে, তাহলে এমন ব্যর্থ প্রশাসনকে কিছুই বলার নেই।"

সামাজিক মাধ্যমেও ছড়িয়েছে ভাইরাস
আন্তর্জাতিক সমাজবিদদের মতে, কয়েক দশক ধরে যেভাবে নিজ দেশের মধ্যেই অপ্রিয় খবরগুলিকে চেপে রাখতে সমর্থ হয়েছে চিন, একইভাবে সেই একই পথে এগিয়েছে আমেরিকা। সংবাদমাধ্যম থেকে সামাজিক মাধ্যম, সমস্ত ক্ষেত্রেই নাগরিকদের ভুল তথ্যে সমৃদ্ধ করার মাধ্যমে আসলে আমেরিকার দুর্দশাই ডেকে এনেছেন ট্রাম্প, এমনটাই মত বিশেষজ্ঞদের। কোভিড ভাইরাসের সম্বন্ধে সঠিক তথ্য না জানার অভাবে কি পরিণতি হতে পারে, তা বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে মার্কিন জনগণ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকাকে বারবার অগ্রাহ্য করেন ট্রাম্প
গোটা বিশ্বে করোনার দাপাদাপির জেরে যখন ত্রাহি ত্রাহি রব চারিদিকে, তখনও অর্থনীতিকে সামাল দেওয়ার লক্ষ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিধিকে বুড়োআঙুল দেখিয়ে উড়ান পরিষেবা ও জল-জাহাজ পরিষেবা বন্ধ করেনি মার্কিন প্রশাসন। একইভাবে চিন-আমেরিকা টানাপড়েনের জেরে চিন মুলুকে আমেরিকার রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র থেকে প্রায় ৩০ মার্কিন কর্মীকে দেশে ফেরত আনেন ট্রাম্প। ফলে চিন থেকে কোভিড সংক্রান্ত তথ্য আগাম পেতে অসমর্থ আমেরিকা সঠিক স্বাস্থ্যবিধি তৈরি করতে দেরি করে।

দুর্দশার মূলে রয়েছে আমেরিকার দুর্বল বিদেশনীতিও
রাজনীতিকদের মতে, আমেরিকার একাধিক বিদেশ বিরোধী নীতির কারণে একের পর এক দেশের সঙ্গে মতবিরোধে জড়িয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। নিজ দেশের পরিকাঠামোগত উন্নয়নের যে দর্প ছিল আমেরিকার, তাই কাল হয়ে নেমে এসেছে জনগণের উপরে। কানাডার রাষ্ট্রপতি জাস্টিন ট্রুডো এবং মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে যে আকাশ-পাতাল ফারাক, তা নিয়ে চলেছে বিস্তর আলোচনা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই যদি করোনার সম্ভাব্য প্রতিষেধকের বিষয়ে সমবণ্টনের রাস্তায় না হাঁটে আমেরিকা, তবে বিশ্বব্যাপী প্রতিরোধের সামনে পড়তে হতে পারে আমেরিকাকে। ফলত চরম চ্যালেঞ্জের মুখে ট্রাম্প প্রশাসন।












Click it and Unblock the Notifications