'অনেক সময় নষ্ট হয়েছে'! ইরানের সঙ্গে বৈঠক ইস্যুতে মার্কিন প্রতিনিধিদের পাকিস্তান সফর বাতিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে নিয়ে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনার জন্য আমেরিকান প্রতিনিধিদলের পাকিস্তান সফর বাতিল করেছেন। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ভেস্তে গেল বলেই ধরে নেওয়া যায়।
ট্রাম্প বলেন, "আমি আমার লোকজনকে জানিয়ে দিয়েছি, তারা প্রস্তুত থাকলেও ১৮ ঘণ্টার ফ্লাইটে সেখানে যাবে না। সব কার্ড আমাদের হাতে। তারা যখন খুশি ফোন করতে পারে, কিন্তু বসে বসে কিছু বলার জন্য আর ১৮ ঘণ্টার ফ্লাইট হবে না।"

কয়েক মিনিট পরেই ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যাল-এ লেখেন: "আমি ইসলামাবাদ, পাকিস্তানে ইরানিদের সাথে দেখা করতে যাওয়া আমার প্রতিনিধিদের সফর বাতিল করেছি। ভ্রমণে অত্যধিক সময় নষ্ট, অত্যধিক কাজ! এছাড়া, তাদের 'নেতৃত্বের' মধ্যে প্রচণ্ড অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিভ্রান্তি রয়েছে। কে দায়িত্বে আছে, তা কেউ জানে না, এমনকি তারা নিজেরাও।"
ওই একই প্ল্যাটফর্মে তিনি আরও দাবি করেন: "সব তাস আমাদের হাতে, তাদের কিছুই নেই! যদি তারা কথা বলতে চায়, কেবল ফোন করলেই হবে।"
এই আলোচনার জন্য মার্কিন আলোচক স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ইসলামাবাদে যাওয়ার কথা ছিল। তবে বাতিল ঘোষণা আসে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সাথে বৈঠক শেষে দেশ ছাড়ার কয়েক ঘণ্টা পর।
এদিকে, আমেরিকা "চরম দাবি" করায় ইরান তা মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বরাবরই সন্দিহান; কারণ গত বছর ও এই বছরের শুরুতে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার পর আমেরিকা ও ইজরায়েল দ্বারা তারা আক্রান্ত হয়েছিল।
বর্তমানে, পাকিস্তানের অনুরোধে ট্রাম্পের ঘোষণা করা অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধবিরতি বিদ্যমান। তবে জ্বালানি সংকট, মূল্য বৃদ্ধি, তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ও সারের চালান ব্যাহত হওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর প্রায়-অবরোধের মতো অর্থনৈতিক প্রভাবগুলি অব্যাহত রয়েছে।
ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা হবে, যেখানে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তাদের বার্তা পৌঁছে দেবে। একটি ফলাফল না আসা পর্যন্ত ইসলামাবাদের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা প্রশংসিত হবে।
এই মাসের শুরুর দিকে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনার প্রথম পর্বের নেতৃত্ব দেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ২০ ঘণ্টা ধরে চলা সরাসরি এই বৈঠক ১৯৭৯ সালের ইরানি ইসলামিক বিপ্লবের পর দুই পক্ষের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরের হলেও, কোনো চুক্তি হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলিতে অবরোধ বজায় রেখেছে। ছোট যে নৌকা মাইন স্থাপন করতে পারে বলে ধারণা, সেগুলোর বিরুদ্ধে ট্রাম্পের "গুলি করে হত্যার" নির্দেশ জারি আছে। ইরান এই সপ্তাহে তিনটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে একটি ভারতের উদ্দেশ্যে আসছিল।












Click it and Unblock the Notifications