শেষে ট্রাম্প কি তাহলে পাকিস্তানে যাচ্ছেন? ইরান-মার্কিন আলোচনা থেকে যুদ্ধবিরতি, গোটা প্রক্রিয়া জুড়েই ধোঁয়াশা চরমে

যুদ্ধের সাময়িক বিরতি সত্ত্বেও উভয় পক্ষ, বিশেষত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সেদেশের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে নানারকম মন্তব্য উড়ে এসেছে। "চুক্তি খুব শীঘ্রই হতে পারে," এমন সম্ভাবনার মাঝেই "যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালী অবরোধ প্রক্রিয়া শুরু করবে" বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি একদিকে আসন্ন চুক্তির আলোচনা, অন্যদিকে ক্রমশ হিংসা বৃদ্ধির আশঙ্কার সংকেত দিচ্ছে, যেখানে বিশ্ব শান্তি বজায় রাখার একটি সমাধান খুঁজে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে। "যদি কোনো চুক্তি না হয়, তাহলে বোমা পড়া শুরু হবে," এমন মার্কিন হুঁশিয়ারির বিপরীতে "আমরা হুমকির মুখে কোনো আলোচনা গ্রহণ করি না," বলে ইরানের পাল্টা জবাব এসেছে।

গত দু'দিন ধরে পরিস্থিতি এতটাই বিভ্রান্তিকর ছিল যে, এমনকী সরকারি বিবৃতিগুলিও নির্ভরযোগ্য মনে হচ্ছে না। প্রথমে যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করেছিল যে, আলোচনার দ্বিতীয় দফা ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হবে এবং মার্কিন আধিকারিকদের সোমবার পাকিস্তানে যাওয়ার কথা ছিল। তবে, সোমবার রাত পর্যন্ত তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রেই ছিলেন, যা কেবল ঘোষণাকেই নয়, সামগ্রিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার বিশ্বাসযোগ্যতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।

কয়েক ঘণ্টা পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অবশ্য বলেছিলেন যে ভ্যান্স অবশ্যই পাকিস্তানে যাবেন, কিন্তু ইরান দ্রুত এই বক্তব্যকে অস্বীকার করে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাকের গালিবাফ স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, কোনো আলোচনা চলছে না। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনাকে "আত্মসমর্পণের টেবিলে" পরিণত করার অভিযোগ তোলেন। এর মধ্যে পাকিস্তান অবিরত বলে চলেছে যে, তারা ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার আলোচনার জন্য ইরানকে রাজি করাতে যথাসাধ্য চেষ্টা করছে।

গালিবাফ 'এক্স' প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, "ট্রাম্প অবরোধ আরোপ এবং যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের মাধ্যমে তাঁর নিজের কল্পনার এই আলোচনা টেবিলকে আত্মসমর্পণের টেবিলে পরিণত করতে চাইছে, অথবা নতুন করে যুদ্ধকে ন্যায্যতা দিতে চাইছে।" তাঁর এই মন্তব্য উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

যদিও গত ১৭ এপ্রিল ট্রাম্প আরেকটি মন্তব্যে বলেছিলেন যে, যদি একটি চুক্তি হয়, তবে তিনি ব্যক্তিগতভাবে পাকিস্তানে যেতে পারেন, এখন তা অত্যন্ত কঠিন মনে হচ্ছে। এর মূল কারণ হল, তিনি পরে নিজেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, আলোচনার জন্য ইরান অংশগ্রহণ না করলেও একটি মার্কিন প্রতিনিধিদল সেখানে যাবে। এই বিবৃতি আলোচনার কাঠামো এবং প্রকৃতি নিয়ে আরও বিভ্রান্তি তৈরি করে, যা পরোক্ষ হবে নাকি ফোনে পরিচালিত হবে তা অস্পষ্ট রয়ে গেছে।

অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন যে, বুধবার মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া যুদ্ধবিরতির সময়সীমা হয়তো আর বাড়ানো হবে না। এই ঘোষণাটি কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এটি কি আসন্ন চুক্তির সংকেত নাকি আবার সংঘাতের দিকে ফিরে যাওয়ার ইঙ্গিত, তা এখনো পরিষ্কার নয়, তবে পরিস্থিতি যে কোনো দিকে মোড় নিতে পারে।

ইসলামাবাদে আলোচনার আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে ১৫ দফার একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছিল, যার পাল্টা হিসেবে ইসলামিক রিপাবলিক নিজস্ব ১০ দফার একটি প্রস্তাব উত্থাপন করে। উভয় প্রস্তাবের মধ্যেই এমন বিতর্কিত বিষয় রয়েছে যেখানে কোনো পক্ষই সমঝোতা করতে আগ্রহী বলে মনে হচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্র যেখানে ইরানকে তাদের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করতে এবং ইউরেনিয়ামের মজুত ছেড়ে দিতে বলছে, সেখানে ইরান হরমুজ প্রণালীর ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চেয়েছে। এছাড়াও, তারা ইজরায়েলকে লেবাননে হিজবুল্লার ওপর হামলা বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে। যদিও হামলাগুলো সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে, যুদ্ধবিরতি কতদিন স্থায়ী হবে তা অস্পষ্ট। দুই পক্ষকে এই শর্তগুলোতে রাজি করানো পাকিস্তানের জন্য একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ হবে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+