আদানি কাণ্ডে তদন্ত চেয়ে ভারতের সাহায্য চাইল মার্কিন সংস্থা, প্রধানমন্ত্রী কি সাহায্য করবেন? প্রশ্ন বিরোধীদের
ভারতীয় শিল্পপতি গৌতম আদানি ও তার ভাগ্নে সাগর আদানির বিরুদ্ধে সিকিউরিটিজ জালিয়াতি ও ২৬৫ মিলিয়ন ডলারের ঘুষ সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্তে ভারত সরকারের সহায়তা চেয়েছে মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)।
মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কের একটি নিম্ন আদালতে দাখিল করা নথিতে এসইসি জানিয়েছে, তারা আদানিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং এ বিষয়ে ভারতের আইন মন্ত্রকের সহযোগিতা চেয়েছে।

এখনও পর্যন্ত যদিও আদানি গ্রুপ বা ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি। এদিকে, এই ঘটনার কয়েকদিন আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করে ছিলেন। সেই বৈঠকে আদানি মামলার প্রসঙ্গ উঠেছিল। তবে সেই প্রসঙ্গে মোদী স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, "দুই দেশের প্রধানরা কখনো ব্যক্তিগত বিষয়ে আলোচনা করেন না"।
আর এবার এসইসির পদক্ষেপের পর বিরোধী দল কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেস এ নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্র এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, "এবার বাস্তব পরীক্ষা শুরু হল! মার্কিন এসইসি ভারত সরকারকে আদানির কাছে অভিযোগ জানানোর নির্দেশ দিয়েছে। মোদীজি কি এটি বাধ্যতামূলক করবেন নাকি করবেন না? দেশের এই বিষয়ে জানা উচিত!"
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও প্রধানমন্ত্রী মোদীর বিরুদ্ধে আদানির দুর্নীতি ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি এক পোস্টে বলেছেন, "দেশে প্রশ্ন করলে নীরবতা, বিদেশে জিজ্ঞাসা করলে ব্যক্তিগত ব্যাপার! আমেরিকাতেও, মোদীজি আদানিজির দুর্নীতি ঢেকে রাখলেন!"
গত বছর ব্রুকলিনের ফেডারেল প্রসিকিউটররা অভিযোগ এনেছিলেন যে গৌতম আদানি ভারতীয় কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়েছিলেন, যাতে তারা আদানি গ্রিন এনার্জির বিদ্যুৎ ক্রয় করতে বাধ্য হয়। এ ছাড়াও, আদানি গ্রুপ মার্কিন বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করে কোম্পানির দুর্নীতি বিরোধী নীতির বিষয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়।
আদানি গ্রুপ অবশ্য সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে একে "ভিত্তিহীন" বলে দাবি করেছে এবং বলেছে যে তারা "আইনি প্রতিকার নেওয়ার সব পথ খোলা রাখছে"।
এই তদন্ত আদানি গ্রুপের ভবিষ্যতের ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে এবং ভারতীয় রাজনীতিতে কী ধরনের পরিবর্তন আনবে, তাই এখন দেখার বিষয়।












Click it and Unblock the Notifications