ট্রাম্পের সহযোগীকে গুলি করে খুন আমেরিকায়, চলছে চিরুনি তল্লাশি
মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী চার্লি কির্ক গুলিতে নিহত হয়েছেন। খ্রিষ্টান জাতীয়তাবাদী বাগ্মিতা এবং তরুণ রক্ষণশীলদের সংগঠিত করার জন্য তিনি পরিচিত ছিলেন।
বৃহস্পতিবার উটার একটি কলেজ অনুষ্ঠানে এই ঘটনা ঘটেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই ঘনিষ্ঠ সহযোগী তরুণ রিপাবলিকান ভোটারদের একত্রিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

কলোরাডো থেকে ভার্জিনিয়া পর্যন্ত 'দ্য আমেরিকান কামব্যাক ট্যুর' নামে কির্কের একটি কলেজ সফরের সূচনা উপলক্ষ্যে এই ঘটনা ঘটে। এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল ট্রাম্প এবং রিপাবলিকান পার্টির জন্য তরুণ ভোটারদের সমর্থন জোগাড় করা।
হামলাকারীকে খুঁজে বের করতে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত কাউকে আটক করতে পারেনি প্রশাসন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কির্কের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন। তিনি এই হত্যাকাণ্ডের জন্য 'কট্টর বামপন্থীদের' দায়ী করে জড়িতদের খুঁজে বের করার অঙ্গীকার করেছেন।
ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প কির্কের সঙ্গে আমেরিকার তরুণ প্রজন্মের অনন্য সম্পর্কের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছেন, "চার্লির চেয়ে ভালো আর কেউ আমেরিকার তরুণদের হৃদয় জয় করতে পারেনি। সবাই তাঁকে ভালোবাসত এবং প্রশংসা করত। এখন সে আর আমাদের মাঝে নেই।"
কির্কের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ট্রাম্প আরও বলেন, "মেলানিয়া এবং আমি তাঁর স্ত্রী এরিকা এবং পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই।" চার্লি কির্কের স্মরণে ট্রাম্প এক প্রতীকী শোক প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন।
এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল জানিয়েছেন, রক্ষণশীল প্রভাবশালী চার্লি কির্কের মৃত্যুর ঘটনায় আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি এক্স-এ এক পোস্টে বলেছেন, "আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আমাদের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং স্বচ্ছতার স্বার্থে আমরা তথ্য প্রকাশ করে যাব।"
সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা ভিডিওয় দেখা গিয়েছে, কির্ক একটি হাতে ধরা মাইক্রোফোনে কথা বলছেন। তার এনজিও সংস্থা আয়োজিত একটি বিতর্কে তিনি অংশ নিয়েছিলেন। বন্দুকের হিংস্রতা নিয়ে প্রশ্নোত্তর পর্ব চলাকালীন হামলা করা হয়। প্রশ্নোত্তর পর্ব চলার সময় একটি গুলির শব্দ শোনা যায়। অর্থাৎ তখনই আক্রমণ করা হয়।
২০১২ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে চার্লি কির্ক উইলিয়াম মন্টগোমারি নামের একজন টি পার্টি কর্মীর সাথে 'টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ' প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর স্পষ্টভাষী রক্ষণশীলতা, নিয়মিত কেবল টেলিভিশনে উপস্থিতি এবং ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তাঁকে জাতীয় পরিচিতি এনে দেয়।
২০১৬ সালে টার্নিং পয়েন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কট্টর সমর্থক হয়ে ওঠে। কির্ক ট্রাম্পের বড় ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেন এবং পরবর্তীতে রক্ষণশীল গণমাধ্যমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠেন।












Click it and Unblock the Notifications