দ্বিতীয় দফার আলোচনা সাপেক্ষে ইসলামাবাদে যাচ্ছেন মার্কিন প্রতিনিধিরা, তার মাঝেই ফের ইরানে হামলার হুমকি ডোনাল্ড ট্রাম্পের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফের ইরানের উপর সম্ভাব্য 'ব্যাপক হামলার’ হুঁশিয়ারি দিলেন। ওদিকে তাঁর বিশেষ প্রতিনিধিরা আলোচনার জন্য সোমবার সন্ধ্যায় ইসলামাবাদে পৌঁছনোর কথা নিশ্চিত করেছেন। এই পদক্ষেপ এমন এক সময় ঘটছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি সামরিক উত্তেজনার পারদ চড়ছে।
ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন যে তাঁর বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার আলোচনার পরবর্তী ধাপে যোগ দিতে ইসলামাবাদে যাচ্ছেন। তিনি জানান, সোমবার সন্ধ্যায় তাঁরা পৌঁছবেন এবং দ্রুতই আলোচনা শুরু হবে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অবশ্য এই সফরে যাবেন না।

গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে প্রথম দফা আলোচনা ব্যর্থ হয়েছিল। ইরান সে সময় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে তাৎক্ষণিক সীমা আরোপের মার্কিন দাবি প্রত্যাখ্যান করে। এর প্রতিক্রিয়ায়, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালীতে একটি নৌ অবরোধ আরোপ করে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
আলোচনার কথা বললেও, ট্রাম্পের বক্তব্যে দ্রুতই হুমকির সুর স্পষ্ট হয়। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ইরান যদি তার প্রস্তাবিত একটি "ন্যায্য ও যুক্তিসঙ্গত চুক্তি" গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়, তবে ইরানের পরিকাঠামো লক্ষ্য করে একটি বড় মাপের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে অভিযোগ করেছেন যে ইরান হরমুজ প্রণালীতে গুলি চালিয়ে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। তিনি দাবি করেন, আন্তর্জাতিক জাহাজগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, "গতকাল ইরান হরমুজ প্রণালীতে গুলি চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে – যা আমাদের যুদ্ধবিরতি চুক্তির সম্পূর্ণ লঙ্ঘন! এর মধ্যে অনেকগুলো ফরাসি জাহাজ এবং যুক্তরাজ্যের একটি পণ্যবাহী জাহাজকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল। এটা ভালো কথা নয়, তাই না?"
ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন যে, হরমুজ প্রণালীতে ব্যাঘাত ঘটিয়ে ইরান আসলে নিজের অর্থনীতিকে নিজেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তিনি বলেন, "তারা না জেনেই আমাদের সাহায্য করছে এবং পথ বন্ধ থাকায় তারাই প্রতিদিন ৫০০ মিলিয়ন ডলার হারাচ্ছে! যুক্তরাষ্ট্রের কিছুই হারাচ্ছে না।" মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, জ্বালানি সরবরাহ এখন আমেরিকান বন্দরগুলিতে, বিশেষ করে টেক্সাস, লুইজিয়ানা এবং আলাস্কায়, ঘুরে যাচ্ছে।
আলোচনার আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও, ট্রাম্প স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন: "আমরা একটি অত্যন্ত ন্যায্য এবং যুক্তিসঙ্গত চুক্তি প্রস্তাব করছি, এবং আমি আশা করি তাঁরা এটি গ্রহণ করবেন, কারণ তাঁরা যদি তা না করেন, তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং প্রতিটি সেতু ধ্বংস করে দেবে।"
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের হামলার পর থেকে ইরান হরমুজ প্রণালী বেশিরভাগ জাহাজের জন্য বন্ধ রেখেছে। তেহরান শুক্রবার এটি পুনরায় খোলার কথা বললেও, পরিস্থিতি অনিশ্চিত। নৌযান ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, দুটি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (LPG) ট্যাঙ্কার প্রণালীর দিকে যাচ্ছিল, কিন্তু ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে যে তাদের সশস্ত্র বাহিনী সেগুলোকে ফিরিয়ে দিয়েছে। মধ্যরাতের পর খুব কম বা কোনও চলাচল রেকর্ড হয়নি।
এই সংঘাত এখন অষ্টম সপ্তাহে পড়েছে, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে নজিরবিহীন ধাক্কা দিয়েছে। বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহনকারী হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। ২২ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির সময়সীমা দ্রুত ঘনিয়ে আসছে, এতে ইরানের উপর চাপ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে চুক্তি না হলে তারা ব্যাপক নতুন নিষেধাজ্ঞা বা ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় সরাসরি সামরিক হামলার কথা বিবেচনা করতে পারে।












Click it and Unblock the Notifications