ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার উপর শুল্ক বাড়ালেন ২৫ শতাংশ, বললেন সিওল বাণিজ্য চুক্তি মানছে না
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার ঘোষণা করেছেন যে দক্ষিণ কোরিয়ার গাড়ি, কাঠ ও ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্যের আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হচ্ছে। ট্রাম্পের অভিযোগ, সিওল তার সঙ্গে করা বাণিজ্য চুক্তি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করছে না।
ট্রাম্প আরও বলেন, "দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় সংসদ এখনও ৩০ জুলাই ২০২৫ তারিখে আমার ও প্রেসিডেন্ট লি জে মিউংয়ের মধ্যে চূড়ান্ত হওয়া ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি অনুমোদন করেনি। তাই আমি এই পদক্ষেপ নিয়েছি।" ট্রাম্প 'ট্রুথ সোশ্যাল' পোস্টে উল্লেখ করেছেন, "যেহেতু কোরিয়ার আইনসভা আমাদের চুক্তি প্রণয়ন করেনি, তাই আমি দক্ষিণ কোরিয়ার গাড়ি, কাঠ, ফার্মা ও অন্যান্য পণ্যের উপর ১৫ শতাংশ শুল্ক বৃদ্ধি করে ২৫ শতাংশ করেছি।"

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও বলেছেন, "আমাদের বাণিজ্য চুক্তিগুলি আমেরিকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সবসময়ই দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছি শুল্ক কমাতে, ও আশা করি আমাদের বাণিজ্যিক অংশীদাররাও তা মেনে চলবে। তবে দক্ষিণ কোরিয়া এখনও তাদের প্রতিশ্রুতির প্রতি সঠিক মনোভাব দেখাচ্ছে না।"
এই সিদ্ধান্ত এমন সময় আসলো যখন দক্ষিণ কোরিয়া এখনও যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান আমদানিকারক দেশ। মার্কিন বানিজ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ১৩২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করা হয়েছে। এর মধ্যে মূলত গাড়ি ও অটোপার্টস, সেমিকন্ডাক্টর ও ইলেকট্রনিক্স রয়েছে, যা শুল্ক বৃদ্ধির ফলে ব্যয়বৃদ্ধির মুখে পড়তে পারে।
শুল্ক বৃদ্ধির ঘোষণা জুলাই মাসের চুক্তির বিপরীতধর্মী। সেই সময় ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্যের উপর ১৫ শতাংশ শুল্ক ধার্য হবে, যা পূর্বে তার হুমকির তুলনায় ১০ শতাংশ কম। একই চুক্তির অংশ হিসেবে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, দক্ষিণ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ৩৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রদান করবে, যা নির্বাচনিত হবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বে।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের ও দক্ষিণ কোরিয়ার সম্পর্ক সবসময় মসৃণ ছিল না। গত বছর জর্জিয়ার হুন্দাই উৎপাদন কেন্দ্রে অভিবাসন কর্মকর্তাদের অভিযান চলাকালে ৪৭৫ জনকে আটক করা হয়েছিল।
দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রপতির দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে শুল্ক বৃদ্ধির বিষয়ে তাদেরকে অবহিত করেনি। এছাড়া বলা হয়েছে, বর্তমান কানাডা সফরে থাকা শিল্প মন্ত্রী কিম জং কোয়ান শীঘ্রই মার্কিন বানিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিকের সঙ্গে আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সফর করবেন। পাশাপাশি, নীতি বিষয়ক প্রেসিডেন্টের চিফ অব স্টাফ কিম ইয়ং বিওম একটি বৈঠক ডেকে ট্রাম্পের ঘোষণার পরবর্তী পদক্ষেপ আলোচনা করবেন।












Click it and Unblock the Notifications