রুশ তেল কেনা নিয়ে ফের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, ভারতের উপর বিপুল শুল্ক বজায় রাখার হুমকি
রুশ তেল কেনা নিয়ে ফের ভারতের বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কতার বার্তা দিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প জানান, রুশ তেল আমদানি অব্যাহত রাখলে ভারতকে 'বিপুল শুল্ক' দিতে হবে, ও ওয়াশিংটনের সেই সিদ্ধান্ত বহালই থাকবে।
ট্রাম্পের কথায়, "আমি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বলেছেন, রুশ তেল কেনার বিষয়টি আর চালিয়ে যাবেন না। কিন্তু যদি ভারত তা করতে চায়, তবে তাদের বিপুল শুল্ক দিতে হবে, যা তারা দিতে চাইবে না।"

এটাই তৃতীয়বার, যখন ট্রাম্প প্রকাশ্যে দাবি করলেন যে প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁকে আশ্বাস দিয়েছেন, ভারত রুশ তেল কেনা বন্ধ করবে। ৭৯ বছর বয়সি রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ইতিমধ্যেই রুশ তেল আমদানির জন্য ভারতের উপর ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছেন, ফলে মোট শুল্কের হার দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০ শতাংশে। যদিও নয়াদিল্লি এই সিদ্ধান্তকে 'অন্যায্য' বলে দাবি করেছে, তবুও ট্রাম্প প্রশাসন নিজেদের পদক্ষেপের পক্ষে অটল রয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রক অবশ্য ট্রাম্পের দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার নিয়মিত সাংবাদিক বৈঠকে মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "প্রধানমন্ত্রী মোদি ও ট্রাম্পের মধ্যে রুশ তেল নিয়ে কোনও কথোপকথনের বিষয়ে আমরা অবগত নই।"
রুশ তেল কেনার বিষয়ে ভারতের অবস্থান একেবারে পরিষ্কার দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও সাধারণ নাগরিকের স্বার্থই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। মুখপাত্রের ভাষায়, "স্থিতিশীল জ্বালানি মূল্য ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখা এই দুটি আমাদের জ্বালানি নীতির মূল লক্ষ্য।"
ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকেই রাশিয়া ভারতের বৃহত্তম তেল সরবরাহকারী হিসেবে উঠে এসেছে, যা পশ্চিমা দেশগুলির অস্বস্তির কারণ হয়েছে। বেলজিয়ান বাজার বিশ্লেষক সংস্থা কে পি এল আর এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির ৩৪ শতাংশই আসে রাশিয়া থেকে। যদিও জানুয়ারির তুলনায় রুশ তেল আমদানিতে প্রায় ১০ শতাংশ হ্রাস ঘটেছে। সেপ্টেম্বরে প্রতিদিন ৪.৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ভারতকে সরবরাহ করেছে রাশিয়া, বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রাক্কালে ট্রাম্পের এই কড়া সুর মূলত দেশীয় রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে, তবে তা ভারত ও মার্কিন বাণিজ্য সম্পর্কের উপর নতুন চাপ তৈরি করতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications