'ট্রাম্প আত্মসমর্পণের জন্যে চাপ দিচ্ছেন', সামরিক সহায়তা বন্ধের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ইউক্রেন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনের জন্য সামরিক সহায়তা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় কিয়েভ ও তার মিত্রদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে এই বিষয়ে। ইউক্রেন সরকার এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে এবং একজন শীর্ষ কর্মকর্তা সতর্ক করেছেন যে এটি ইউক্রেনকে রাশিয়ার কাছে আত্মসমর্পণের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
ইউক্রেনের সংসদীয় পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির সভাপতি রয়টার্সকে জানান, "সহায়তা বন্ধ করে দেওয়া সত্যিই খারাপ বার্তা বহন করছে। এটি যেন কিয়েভকে আত্মসমর্পণের দিকে ঠেলে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত"।

সোমবার হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা ঘোষণা করেন যে ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি আলোচনায় রাজি করানোর জন্য এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। তবে এই সিদ্ধান্ত ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, "রাষ্ট্রপতি শান্তি চুক্তির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন এবং আমাদের অংশীদারদেরও এই লক্ষ্যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে। সামরিক সহায়তা স্থগিত রেখে পর্যালোচনা করা হচ্ছে যাতে এটি সমাধানের দিকে এগোয়"।
এই সিদ্ধান্তের ফলে ইউক্রেনের জন্য বরাদ্দ করা কয়েকশো মিলিয়ন ডলারের অস্ত্র সহায়তা আটকে যাবে। কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট নেতারা এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন।
হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি গ্রেগরি মিকস কড়া ভাষায় বলেছেন, "যারা পুতিনকে যুদ্ধাপরাধী বলেছেন এবং ইউক্রেনকে সমর্থন করেছেন, তাদের উচিত ট্রাম্পের এই বেআইনি ও বিপজ্জনক সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করা"।
ট্রাম্প এই সহায়তা স্থগিত করার পাশাপাশি ইউক্রেনের প্রতি তার হতাশা প্রকাশ করে বলেন যে, "জেলেনস্কিকে আরও কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত। রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি ছাড়া তিনি বেশিদিন টিকতে পারবেন না"।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি সতর্কতার সঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন যে কিয়েভ যুদ্ধের অবসান চায়, তবে তা অবশ্যই শক্তিশালী নিরাপত্তা নিশ্চিত ভিত্তিতে হতে হবে।
মার্কিন সহায়তা স্থগিত হওয়ার পর ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে জরুরি আলোচনা শুরু হয়েছে। জানা গেছে, ব্রিটেন ও ফ্রান্স ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করছে।
ফ্রান্সের ইউরোপ বিষয়ক মন্ত্রী বেঞ্জামিন হাদ্দাদ এই প্রসঙ্গে বলেন, "যদি আপনি সত্যিই শান্তি চান, তাহলে ইউক্রেনের কাছে অস্ত্র সহায়তা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত কি শান্তিকে এগিয়ে নেবে? বরং এটি রাশিয়াকে আরও শক্তিশালী করবে"।
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত কেবল ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করবে না, বরং রাশিয়ার আগ্রাসনকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কিয়েভ ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপের কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তবে ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications