বিশ্ব রাজনীতিতে ত্রিমুখী সমীকরণ, পুতিনের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পর ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপ শি জিনপিংয়ের
বিশ্ব রাজনীতির অস্থির পটভূমিতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করল বেজিং। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দীর্ঘ ভিডিও বৈঠকের পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বললেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বুধবার এই ফোনালাপের বিষয়টি জানা গিয়েছে, যদিও আলোচনার নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি।
এর আগে পুতিনের সঙ্গে প্রায় দেড় ঘণ্টার ভিডিও বৈঠকে মিলিত হন শি। বৈঠকে ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে চিন ও রাশিয়া সম্পর্ককে 'স্থিতিশীলতার স্তম্ভ' হিসেবে তুলে ধরেন দুই নেতা। ক্রেমলিন সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে দুই রাষ্ট্রনেতার দৃষ্টিভঙ্গি প্রায় অভিন্ন।

ক্রেমলিনের উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ জানান, মোট ১ ঘণ্টা ২৫ মিনিট ধরে চলা এই আলোচনা ছিল "বন্ধুত্বপূর্ণ ও পারস্পরিক আস্থার পরিবেশে"। বৈঠকে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় হয় ও দুই দেশের কৌশলগত সমন্বয় আরও জোরদার করার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছন শি ও পুতিন।
চিনের সরকারি বিবৃতিতে শি জিনপিং বলেন, "২০২৬ সালের শুরু থেকে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে প্রধান শক্তি হিসেবে চিন ও রাশিয়ার উচিত ঘনিষ্ঠ কৌশলগত সমন্বয়ের মাধ্যমে সম্পর্ককে সঠিক পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।"
পুতিনও একই সুরে কথা বলেন। শি কে 'প্রিয় বন্ধু' আখ্যা দিয়ে তিনি জানান, মস্কো ও বেজিংয়ের অংশীদারিত্ব বিশ্ব রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থিতিশীল শক্তি হিসেবে কাজ করছে। পুতিন বলেন, "রাশিয়া ও চিন সর্বাঙ্গীন অংশীদারিত্ব ও কৌশলগত সহযোগিতা আজ বিশ্বের সামনে এক উদাহরণ।"
এই ভিডিও বৈঠক এমন এক সময়ে হলো, যখন সংযুক্ত আরব আমির শাহির আবুধাবিতে রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে নতুন দফার আলোচনা চলছে। প্রায় চার বছর ধরে চলা ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে এই আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ২০২২ সালে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর শুরু হওয়া এই সংঘাত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী যুদ্ধ হিসেবে বিবেচিত।
এদিকে, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শেষ অবশিষ্ট পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির মেয়াদ বৃহস্পতিবার শেষ হতে চলেছে। চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হবে নাকি নতুন করে আলোচনা শুরু হবে, সেদিকেও নজর আন্তর্জাতিক মহলের।
যদিও পুতিন প্রকাশ্যে ইউক্রেন প্রসঙ্গে কিছু বলেননি, তবে ক্রেমলিনের দাবি, শি জিনপিং চলমান শান্তি আলোচনায় সমর্থনের বার্তা দিয়েছেন। সব মিলিয়ে, বিশ্ব রাজনীতির এই মুহূর্তে বেজিং, মস্কো ও ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক যোগাযোগ নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications