মক্কার তাপমাত্রা ৫২ ডিগ্রি ছুঁইছুঁই! প্রায় ৭০ জন ভারতীয়-সহ মৃত্যু ৯০০-র ওপর হজযাত্রীর
মক্কায় তীব্র দহনে মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা হাজারের কাছাকাছি বলে জানা গিয়েছে। মক্কার তাপমাত্রা ৫১.৮ ডিগ্রি হতেই অবস্থা সব থেকে খারাপ হয়। তীর্থযাত্রীদের আত্মীয়রা হাসপাতালগুলিতে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। অনলাইনেও খবরের জন্য আবেদন করেন।
সোশ্যাল মিডিয়া নেটওয়ার্কগুলিতে নিখোঁজদের ছবি ও তথ্যের জন্য ভরে গিয়েছে। তবে অনেকেই আশা করছেন তাঁদের প্রিয়জন ভাল আছেন এবং সুস্থ আছেন।

সারা বিশ্ব থেকে এবার প্রায় ১৮ লক্ষ মানুষ এবার হজে গিয়েছেন। এঁদের মধ্যে অনেকেই বৃদ্ধ। ফলে গরমে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তাঁরা। তীব্র দহনে তীর্থযাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন তাঁরা। গত মাসে প্রকাশিত সৌদি আরবের সমীক্ষা অনুসারে প্রতি দশকে এই এলাকার তাপমাত্রা ০.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এক সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, মৃতদের মধ্যে মিশরীয়দের সংখ্যাটা কমপক্ষে ৬০০। একদিন আগেও যা ৩০০ ছিল। এঁদের বেশিরভাগেরই তীব্র দহণের কারণে মৃত্যু হয়েছে। বিভিন্ন দেশে পরিসংখ্যান অনুসারে মৃতের সংখ্যা ৯২২ পেরিয়ে গিয়েছে।
সৌদি আরবের একজন কূটনীতিক সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, মৃতদের মধ্যে কমপক্ষে ৬৮ জন ভারতীয় রয়েছথেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, কিছু প্রাকৃতিক কারণে অনেক বৃদ্ধ তীর্থযাত্রী ছিলেন। মূলত আবহাওয়ার কথাই তিনি উল্লেখ করেছেন।
মৃতদের মধ্যে ভারতীয় ও মিশরীয় ছাাড়াও জর্ডন, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, সেনেগাল, তিউনিশিয়া এবং ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলের লোকজনও রয়েছেন। সৌদি আরব পাঁচ দিনের তীর্থযাত্রায় যোগদানকারীদের ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তার জন্য বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে। কিন্তু অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যাই তাদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে কঠিন করে তোলে।
তবে হজে মৃত্যুর ঘটনা অস্বাভাবিক কিছু নয়। গত বছরে ২০০-র বেশি তীর্থযাত্রীর মৃত্যু হয়েছিল হজ করতে গিয়ে। এছাড়াও তীর্থযাত্রার ইতিহাসে পদদলিত এবং মহামারীর উল্লেখ আছে। হজের সময় ২০১৫-তে মিনায় পদদলিত হয়ে প্রায় ২৪০০ তীর্থযাত্রীর মৃত্যু হয়েছিল। তবে সৌদি আরব কখনই সেখানে পদদলিত হওয়ার পুরো সংখ্যা স্বীকার করে না।
মিনায় বিপর্যয়ের আগে ক্রেন ধসে একশোর ওপরে মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। ১৯৯০ সালে পদদলিত হয়ে ১৪২৬ জনের মৃত্যুও একটা ইতিহাস।
হজ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি। সামর্থ্যসম্পন্ন সব মুসলিমকে অন্তত একবার তা সম্পন্ন করতে হয়। এর সময় ইসলামিক ক্যালেন্ডারে নির্ধারিত হয়। গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারে প্রতিবছর তা কয়েকদিন করে এগিয়ে যায়।












Click it and Unblock the Notifications