সরকারি চ্যানেলে সংবাদ পাঠ করতে পারবেন না মহিলারা, জারি হয়ে গেল তালিবানি ফতোয়া
সরকারি চ্যানেলে সংবাদ পাঠ করতে পারবেন না মহিলারা, জারি হয়ে গেল তালিবানি ফতোয়া
নারী স্বাধীনতা রক্ষার দাবি করেছিল তালিবানরা। সেই দাবির ২৪ ঘণ্টা কাটার আগেই জারি হল তালিবানি হুলিয়া। আফগানিস্তানের কোনও সরকারি নিউজ চ্যানেলে সংবাদ পাঠ করতে পারবেন না মহিলা সঞ্চালকরা। এমনই হুলিয়া জারি করা হয়েছে। অথচ গতকালই সাংবাদিক বৈঠক করে তালিবানদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল ২০ বছর আগের তালিবান আর তারা নেই। ইসলাম যতটা স্বাধীনতা দেয় নারীদের ততটা স্বাধীনতাই রক্ষা করা হবে।

জারি তালিবানি ফতোয়া
আশঙ্কাই সত্যি হতে চলেছে। তালিবান শাসনের দুদিনের মধ্যেই জারি হয়ে গেল ফতোয়া। দেশের কোনও সরকারি সংবাদ মাধ্যমে বা চ্যানেলে কোনও মহিলা সঞ্চালক খবর পড়তে পারবেন না। হুলিয়া জারি করেছে তালিবানরা। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য একদিন আগেই আফগানিস্তানের একটি নিউজ চ্যানেলে তালিবান নেতার ইন্টারভিউ নিয়েছিলেন এক সংবাদ পাঠিকা। সেই ঘটনা যাকে বলে ভাইরাল হয়েেছ গোটা বিশ্বে। তারপরেই তালিবানদের ফতোয়া জারি। ইতিমধ্যেই তালিবানদের দখলে গোটা দেশ যাওয়ার পর একাধিক মহিলা সাংবাদিক কাজ হারিয়েছেন। ফের ২০ বছর আগের দশাতেই ফিরে যাচ্ছে দেশ।

নারী স্বাধীনতা রক্ষার দাবি
গতকাল সাংবাদিক বৈঠক করে তালিবান মুখপাত্র দাবি করেছিলেন তাঁরা নারী স্বাধীনতার বিরোধী নয়। নারী স্বাধীনতে ততটাই রক্ষা করা হবে আফগানিস্তানে যতটা ইসলাম বলে। সেই ঘোষণার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই মহিলা সঞ্চালিকাদের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে তালিবানরা। সব মহিলা সংবাদ পাঠিকার জায়গায় নিজেদের সংবাদ পাঠক অর্থাৎ তালিবান সংবাদ পাঠককে নিযুক্ত করেছে তারা। এই ঘটনার পরেই আফগান সংবাদ চ্যানেলের এক সঞ্চালক খাদিজা আমিনা জানিয়েছেন গত ২০ বছরে যা অর্জন করেছিলাম এক মুহূর্তে সব কিছু শেষ হয়ে গেল। তালিবানরা তালিবানই তারা কিছুতেই বদলাতে পারে না।

আগের মতো নেই তালিবানরা
গতকাল সাংবাদিক বৈঠকে তালিবানরা দাবি করেছিল ২০ বছর আগের তালিবান আর নেই তারা। নীতি এবং আদর্শ এক থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কিছুই বদলে গিয়েছে তালিবানদের মধ্যে। নারী স্বাধীনতা তারা কোনও ভাবেই বিঘ্নিত হতে দেবে না। সরকার গঠনে মহিলাদের জায়গা দেওয়ার কথাও বলেছে তালিবানরা। তাঁরা জানিয়েছিলেন ইসলাম আইনে মহিলাদের কাজ করার অধিকার দেওয়া হয়েছে। সেই অধিকার তারা রক্ষা করবে। কিন্তু কথা এবং কাজের মধ্যে েয বিস্তর ফারাক রয়েছে সেটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।

কী ছিল ২০ বছর আগের নারী স্বাধীনতা
২০ বছর আগের নারী স্বাধীনতার কথা ভাবলে এখনও কেঁপে ওঠেন আফগাননারীরা। পড়াশোনা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল তাঁদের। কোনও আফগান মেয়ের স্কুলে, কলেজে যাওয়ার স্বাধীনতা ছিল না। ঘরের কোনে বন্ধ হয়ে থাকতে হত তাঁদের। মাথা থেকে পা পর্যন্ত ঢাকা পোশাক পরে তবেই বাড়ির বাইরে পেরোতে পারত। এমনকী পুরুষের সঙ্গ ছাড়া বাড়ির বাইরে বেরোনোর অনুমতি ছিল না তাঁদের। কোনও ভাবেবাইরে মেয়েদের মুখ দেখা গেলে প্রকাশ্য রাস্তায় ভয়ঙ্কর নির্যাতন করা হত নারীদের।












Click it and Unblock the Notifications