আমেরিকায় প্রতিভার সঙ্কট? ট্রাম্পের স্বীকারোক্তিতে কি স্বস্তির নতুন সুযোগ পেল ভারত? জানুন
আমেরিকায় দক্ষ কর্মীর অভাব এই স্বীকারোক্তিই মার্কিন রাজনীতিতে নতুন ঝড়ের উৎস হয়ে উঠেছে। বহুদিন ধরে বিরোধী সুরে কথা বলা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে বলছেন, বিদেশি প্রতিভার ওপরই ভরসা করতে হবে আমেরিকাকে। আর তাতেই উল্লসিত ভারতের আইটি খাত, যেখানে বহু পেশাজীবীর কর্মজীবন নির্ভর করে স্বপ্নের এইচ ১বি ভিসার ওপর।
চলতি মাসে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, "আমরা দক্ষ কর্মীর অভাবে ভুগছি। প্রতিভা আমদানি করাই আপাতত একমাত্র পথ।" এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই মার্কিন রাজনীতিতে চাঞ্চল্য। বিরোধীদের পাশাপাশি তাঁর নিজস্ব দল রিপাবলিকান শিবিরেও তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে কটাক্ষ "ট্রাম্প অলওয়েজ চিকেনস নেক!"

জর্জিয়ার উদাহরণ তুলে ট্রাম্প জানান, অবৈধ অভিবাসীদের ধরতে অভিযান চালানোর পর দেখা গিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার বহু কর্মী ব্যাটারি তৈরির মতো জটিল কাজে যুক্ত ছিলেন। তাঁরা সরে যাওয়ায় দক্ষ কর্মীর ঘাটতি দেখা দিয়েছে ওই অঞ্চলে। ট্রাম্পের দাবি এই কাজ শেখার মতো প্রস্তুতি এখনও মার্কিন কর্মীদের নেই।
তবে সঞ্চালিকা লরা ইনগ্রাহাম পাল্টা বলেন, আমেরিকায় প্রতিভার অভাব নেই, বরং বিদেশি কর্মীর আধিক্য মজুরি কমিয়ে দিতে পারে। কিন্তু ট্রাম্পের যুক্তি কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগকারী ব্যবসায়ীরা অদক্ষ স্থানীয়দের দিয়ে উচ্চমানের কাজ করাতে পারবেন না।
উল্লেখযোগ্য, গত নির্বাচনে বিদেশি অভিবাসীই আমেরিকানদের চাকরির সুযোগ কেড়ে নিচ্ছে এই অভিযোগে প্রচারের ঝড় তুলেছিলেন ট্রাম্প। এমনকি ক্ষমতায় এসে এইচ ১বি ভিসা বন্ধের কথাও বলেছিলেন। পরে নয়া নির্দেশে ভিসার খরচ বাড়িয়ে দেন, যাতে মার্কিন কোম্পানিগুলির মাথায় পড়ে বাড়তি চাপ। বছরে এক লক্ষ ডলার ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৮৮ লক্ষ এই খরচ নিয়ে প্রকাশ্যে ট্রাম্পকে কটাক্ষ করেছিলেন ইলন মাস্কও।
এবার সেই ট্রাম্পই বিদেশি প্রতিভা আমদানিকে 'অপরিহার্য' বলে দাবি করায় প্রশ্ন উঠছে, অভিবাসন নীতি কি আবার নতুন মোড় নিচ্ছে? বিশ্লেষকদের মতে, এই স্বীকারোক্তি ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় বড় ধাক্কা দিতে পারে। তবে ভারতের দক্ষ কর্মীদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে স্বস্তির বার্তা।












Click it and Unblock the Notifications