ইরান ইস্যুতে কড়া অবস্থান, যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনার ইঙ্গিত ট্রাম্পের
পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে যুদ্ধের ছায়া। সংঘর্ষের দশম দিনে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন উঠছে এই যুদ্ধ আর কত দিন চলবে? এমন উদ্বেগের আবহেই ফের মুখ খুললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ করা হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনা করেই।
এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, যুদ্ধ থামানোর বিষয়ে একক সিদ্ধান্ত নয়, বরং ইজরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তাঁর কথায়, দুই দেশের মধ্যে এই বিষয়ে নিয়মিত আলোচনা চলছে ও সব দিক বিবেচনা করেই সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, তিনি ও নেতানিয়াহু একসঙ্গে না থাকলে ইজরায়েলের অস্তিত্বই বিপন্ন হয়ে পড়ত। তাঁর অভিযোগ, ইরান ইজরায়েল ও তার আশপাশের অঞ্চল ধ্বংস করার পরিকল্পনা করেছিল। সেই কারণেই দুই দেশ যৌথভাবে পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটে। সেই হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়তুল্লা আলী খামেনি। এরপর থেকেই পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ওই অঞ্চলে আমেরিকার মিত্র দেশগুলির উপর হামলা শুরু করে ইরান। ফলে গোটা পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিরতা আরও বেড়ে যায়।
এই সংঘাত ঘিরে ইতিমধ্যেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। ভারত সহ একাধিক রাষ্ট্র যুদ্ধের পথ পরিহার করে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে সোমবার ইরান নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার নামও ঘোষণা করেছে। দেশের শীর্ষ ধর্মীয় নেতৃত্বে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে খামেনি পুত্র মোজতাবা খামেনিকে। তবে তাঁর নাম ঘোষণার আগেই তেহরানকে কড়া বার্তা দেন ট্রাম্প। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, হোয়াইট হাউস চাইলে ইরানের নতুন নেতার ক্ষমতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের আবহ এখনো কাটেনি। বরং কূটনৈতিক টানাপোড়েন ও সামরিক উত্তেজনার মাঝেই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে এই যুদ্ধের শেষ কোথায়?












Click it and Unblock the Notifications