প্রথম ভাষণেই কড়া বার্তা তারেকের, সিন্ডিকেট ভাঙার অঙ্গীকার
প্রথম ভাষণেই কড়া বার্তা দিলেন বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শপথের পরদিনই জাতির উদ্দেশে ভাষণে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন দুর্নীতি, অনিয়ম ও 'সিন্ডিকেট রাজ' আর বরদাস্ত করা হবে না। একই সঙ্গে দলের সাংসদদের জন্য ঘোষণা করলেন একাধিক কঠোর বিধিনিষেধ। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়েও দিলেন আশ্বাস।
মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর বুধবার ছিল তাঁর মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক। সেই বৈঠকের পর রাতেই জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন বিএনপি প্রধান। সামনে রমজান মাস এই প্রেক্ষাপটে বাজারে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তা দেন তিনি। ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তাঁর আবেদন, রমজানকে যেন মুনাফা বৃদ্ধির সুযোগ হিসেবে না দেখা হয়। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিত্যপণ্যের দাম রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান স্পষ্ট করে তারেক বলেন, বহু ত্যাগের বিনিময়ে জনগণের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তাঁর সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে 'মাফিয়া সিন্ডিকেট' ভেঙে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি। সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথাও জোর দিয়ে তুলে ধরেন।
নির্বাচনী প্রচার পর্ব থেকেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিলেন তারেক। ক্ষমতায় এসে সেই অঙ্গীকারই পুনর্ব্যক্ত করলেন তিনি। তাঁর কথায়, দুর্বল অর্থনীতি, প্রশাসনিক কাঠামো ও অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলার মধ্যেই নতুন সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছে। তাই জনগণের নিরাপত্তা ও আস্থা ফিরিয়ে আনাই এখন প্রধান লক্ষ্য।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা প্রসঙ্গেও স্পষ্ট বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে পাহাড় ও সমতলের সব নাগরিকের জন্যই বাংলাদেশ। মুসলমান, হিন্দু, খ্রিস্টান সকলের সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায় তাঁর সরকার। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বানও জানান তিনি।
এদিকে দলের সংসদ সদস্যদের জন্যও কড়া নির্দেশ জারি করেছেন তারেক। সরকারি সুবিধা নিয়ে শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানি করা যাবে না, জমি বা 'প্লট' সংক্রান্ত বিশেষ সুবিধাও নেওয়া যাবে না এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে বিএনপির সংসদীয় দলের প্রথম বৈঠকেই। একই সঙ্গে মন্ত্রিসভার বৈঠকে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
শুরুতেই কড়া অবস্থান নিয়ে তারেক রহমান স্পষ্ট করে দিলেন তাঁর সরকারের অগ্রাধিকার হবে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জনস্বার্থ রক্ষা। এখন দেখার, এই ঘোষণাগুলি বাস্তবায়নে কতটা সফল হয় নতুন প্রশাসন।












Click it and Unblock the Notifications