মৃত্যুদণ্ডের পর ফের এক সাজা ঘোষণা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে, কী রায় দিল বাংলাদেশের আদালত?
বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিক্ষোভের মধ্যেই সেদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দুর্নীতির দায়ে ২১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হল। গত সপ্তাহে তাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছিল। আর এবার এল কারাদণ্ডের রায়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত একটি মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়ার ঠিক এক সপ্তাহ পর এদিন বৃহস্পতিবার শেখ হাসিনাকে তিনটি ভিন্ন দুর্নীতির মামলায় মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রাজউকের পূর্বাচল নিউ টাউন প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ থেকে এই দুর্নীতি মামলার উৎপত্তি। প্রতিটি মামলায় হাসিনাকে ৭ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যা পরপর কার্যকর হবে।
আদালত তার রায়ে বলেছে, "কোনও আবেদন ছাড়াই এবং আইনগত ক্ষমতার বাইরে গিয়ে শেখ হাসিনাকে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।" বাংলাদেশের দীর্ঘতম সময়ের প্রধানমন্ত্রী হাসিনার অনুপস্থিতিতে বিচার করা হয় এবং বিচারক তাকে পলাতক ঘোষণা করে রায় দেন।
গত ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছিল। গত বছর জুলাই থেকে অগাস্ট মাসের মধ্যে সংঘটিত ছাত্র আন্দোলনের ওপর হিংস্র দমন-পীড়নের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
জাতিসংঘের একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, এই অস্থিরতায় প্রায় ১,৪০০ জনের মৃত্যু এবং হাজার হাজার মানুষ আহত হন। বেশিরভাগ হতাহতের ঘটনা ঘটেছিল নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর এটিই ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাণঘাতী রাজনৈতিক হিংসা।
গত বছরের অগাস্টে আন্দোলনের চরম মুহূর্তে হাসিনা প্রাণ বাঁচিয়ে ভারতে চলে আসেন। সর্বশেষ রায়ের প্রতিক্রিয়ায় হাসিনা একটি বিবৃতি প্রকাশ করে বিচার প্রক্রিয়ার বৈধতা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি আদালতকে একটি "প্রহসনমূলক ট্রাইব্যুনাল" বলে অভিহিত করেন।
আগামী ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, আর তার আগেই এই রায় এল। দেশের দীর্ঘতম সময়ের নেত্রীর এই কারাদণ্ড আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় আরও অস্থিরতা সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications