আদালতের রায়ে ধাক্কা, তবু অনড় ট্রাম্প, ১৫% বৈশ্বিক শুল্কের হুঁশিয়ারিতে বিশ্ববাণিজ্যে নতুন চাপ
মার্কিন শুল্কনীতিতে ফের ঝড় তুললেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে আদালতের ধাক্কা, অন্যদিকে নতুন করে কড়া বার্তা সব মিলিয়ে বিশ্ববাণিজ্যে অস্থিরতার ইঙ্গিত স্পষ্ট।
সম্প্রতি আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আরোপিত একাধিক আমদানি শুল্ক খারিজ করে দেয়। জরুরি ক্ষমতা আইনের আওতায় প্রায় সব দেশের উপর যে বিস্তৃত শুল্ক চাপানো হয়েছিল, আদালত তা বাতিল করে। কিন্তু তাতেও নরম হননি ট্রাম্প। বরং তিনি ঘোষণা করেন, বিশ্বব্যাপী ১৫ শতাংশ হারে নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করছেন যা তাঁর আগের ঘোষিত ১০ শতাংশের থেকেও বেশি।

নিজস্ব সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় জানান, যেসব দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে 'খেলা' করতে চাইবে বা অতীতে আমেরিকাকে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তাদের উপর আরও কঠোর শুল্ক চাপানো হবে। তাঁর দাবি, পূর্বে যেসব শুল্ক চুক্তি স্বীকৃত হয়েছে, সেগুলো মানতেই হবে।
একটি নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন, প্রয়োজনে কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়েও বিশ্বজুড়ে আমদানির উপর ১০ শতাংশ কর বসাতে পারেন তিনি। এই ঘোষণা কার্যকর হওয়ার কথা তাঁর ভাষণের দিন থেকেই।
হোয়াইট হাউসে 'অ্যাঞ্জেল ফ্যামিলিজ'দের সম্মান জানাতে গিয়ে ট্রাম্প জানান, তাঁর আসন্ন ভাষণ হবে দীর্ঘ ও বিশদ। গত বছর কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে তিনি প্রায় ১০০ মিনিট বক্তব্য রেখেছিলেন, যা ছিল নজিরবিহীন দীর্ঘ। যদিও দায়িত্বের প্রথম বছরে দেওয়া ভাষণকে প্রযুক্তিগতভাবে 'স্টেট অফ দ্য ইউনিয়ন' বলা হয় না, তবুও তা কার্যত একই গুরুত্ব বহন করে।
অনুষ্ঠানে ফেব্রুয়ারি ২২ কে 'ন্যাশনাল অ্যাঞ্জেল ফ্যামিলি ডে' ঘোষণা করে একটি প্রজ্ঞাপনেও সই করেন ট্রাম্প। অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারী ব্যক্তিদের হাতে নিহতদের স্মরণে প্রদীপ প্রজ্বলন ও নাম পাঠ করা হয়। সেনাসদস্যরা পরিবেশন করেন অ্যামেজিং গ্রেস। পরিবারগুলির সদস্যরা সীমান্ত সুরক্ষায় প্রশাসনের ভূমিকার প্রশংসা করেন, আর ট্রাম্প সংবাদমাধ্যমের সমালোচনাও করেন।
এদিকে শুল্কনীতি নিয়ে তীব্র আপত্তি তুলেছে ডেমোক্র্যাট শিবির। ওরেগনের সেনেটর রন ওয়াইডেন, ম্যাসাচুসেটসের এড মার্কি ও নিউ হ্যাম্পশায়ারের জিন শাহীণ একটি বিল উত্থাপন করেছেন। তাঁদের প্রস্তাব যে শুল্ক বেআইনিভাবে আদায় হয়েছে বলে অভিযোগ, তা সুদ সহ ফেরত দিতে হবে ভোক্তাদের। বিশেষ অগ্রাধিকার পাবে ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ও বড় সংস্থাগুলিকেও গ্রাহকদের কাছে সেই অর্থ ফেরত পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানানো হবে।
শ্যাহিনের বক্তব্য, আমেরিকানদের উপর চাপিয়ে দেওয়া বেআইনি শুল্ক ফেরত দেওয়ার মধ্য দিয়েই ক্ষতির মেরামত শুরু হতে পারে। যদিও বিলটি আইনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ, তবুও নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে এই ইস্যুকে হাতিয়ার করছে ডেমোক্র্যাটরা।
ট্রাম্পের ১৫ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে। আদালতের রায়, রাজনৈতিক চাপ ও আসন্ন নির্বাচন, সব মিলিয়ে মার্কিন অর্থনীতি ও বৈদেশিক বাণিজ্যনীতি এখন অনিশ্চিত এক মোড়ে দাঁড়িয়ে।
-
প্রবল ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইন্দোনেশিয়া, আতঙ্কে পথে মানুষ -
কালিয়াচক কাণ্ডে উত্তেজনা চরমে! বিচারকদের ঘেরাও-ভাঙচুরে তৃণমূলকে নিশানা সুকান্তর, কী বললেন দিলীপ? -
ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামে উত্তাপ চরমে, শুভেন্দুর বিরুদ্ধে ভয়ের রাজনীতির অভিযোগে মনোনয়ন বাতিলের দাবি তৃণমূলের -
ইডেনে প্রথম জয়ের সন্ধানে কেকেআর-সানরাইজার্স, দুই দলের একাদশ কেমন হতে পারে? -
যুদ্ধ নয়, আলোচনায় সমাধান! হরমুজ ইস্যুতে বৈঠক ডাকল ব্রিটেন, যোগ দিচ্ছে ভারত -
কালিয়াচক কাণ্ডে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের! 'রাজনীতি নয়, বিচারকদের নিরাপত্তাই...', কী কী বলল শীর্ষ আদালত? -
ভোটার তালিকা ইস্যুতে ফের অগ্নিগর্ভ মালদহ, সকালে ফের অবরোধ -
মালদহের ঘটনার তদন্তভার নিল সিবিআই, মমতার তোপে কমিশন -
ভোটের আবহে জলপাইগুড়িতে চাঞ্চল্য, এক্সপ্রেস ট্রেনে জাল নথি সহ ১৪ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার, তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা -
'১৫ দিন বাংলায় থাকব', ভবানীপুরে মমতাকে হারানোর ডাক, শাহের চ্যালেঞ্জে তপ্ত রাজনীতি -
কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্ত! দেশের বিভিন্ন শহরে আই-প্যাকের দফতর ও ডিরেক্টরের বাসভবনে ইডি তল্লাশি -
কালিয়াচকে প্রশাসনিক গাফিলতি? জেলাশাসক, পুলিশ সুপারকে শোকজ, CBI অথবা NIA তদন্তের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট












Click it and Unblock the Notifications