সয়ুজ ফেরে মাত্র ৩.৫ ঘণ্টায়, অথচ স্পেসএক্স ড্রাগন ফিরল ১৭ ঘণ্টায়, কেন এতটা সময় লাগল?
নয় মাসের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নাসার নভোচারী সুনীতা উইলিয়ামস ও বুচ উইলমোর অবশেষে পৃথিবীতে ফিরে এসেছেন। তাঁদের যাত্রা ছিল মূলত একটি পরীক্ষামূলক মিশন, কিন্তু যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রত্যাশার চেয়ে অনেক দীর্ঘ হয়ে যায় তাঁদের থাকার সময়। ৮ দিনের বদলে থাকতে হয় ৯ মাস।
মঙ্গলবার, স্পেসএক্স ড্রাগন ক্যাপসুলে করে তাঁরা মেক্সিকো উপসাগরে নিরাপদে অবতরণ করেন। এটি ফ্লোরিডার টালাহাসি উপকূলে একটি স্প্ল্যাশডাউনের মাধ্যমে শেষ হয়। চারটি প্যারাসুটে করে ধীরে ধীরে জলে অবতরণ করানো হয় ড্রাগনকে। তারপর নৌ কমান্ডো এবং নাসার সদস্যরা ধীরে ধীরে ক্যাপসুল থেকে বের করে আনেন চারজনকে।

ছবি সৌজন্য- PTI
২০২৪ সালের জুনে বোয়িংয়ের স্টারলাইনার ক্যাপসুলে আইএসএসে যান উইলিয়ামস ও উইলমোর। কিন্তু যান্ত্রিক সমস্যার কারণে ক্যাপসুলটি ফেরার জন্য বাধাপ্রাপ্ত হয়। ফলে, তাঁদের নাসার দীর্ঘমেয়াদী মহাকাশ মিশনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অবশেষে স্পেসএক্স ড্রাগন ক্যাপসুলের মাধ্যমে পৃথিবীতে ফিরে আসেন তাঁরা।
কেন ফেরার সময় তাঁদের ১৭ ঘণ্টা লেগে গেল?
রাশিয়ার সয়ুজ মহাকাশযান মাত্র ৩.৫ ঘণ্টায় পৃথিবীতে ফিরে আসে, কিন্তু স্পেসএক্স ড্রাগন ক্যাপসুল ১৭ ঘণ্টা সময় নিয়েছে ফিরতে। এতটা সময়ের ফারাক কেন, তা জানতে চাইছেন অনেকেই। এর কারণ হল -
১) কক্ষপথের সঠিক সারিবদ্ধতা: আইএসএস পৃথিবীর চারপাশে ২৮,০০০ কিমি/ঘণ্টা গতিতে আবর্তন করে, ফলে অবতরণের জন্য সঠিক কোণ খুঁজতে সময় লাগে।
২) ডিওরবিট বার্ন ও নিরাপদ প্রবেশ: মহাকাশযানটিকে সুনির্দিষ্টভাবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করানো হয় যাতে অতিরিক্ত তাপ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
৩) প্যারাসুট ও অবতরণ প্রক্রিয়া: মসৃণ ল্যান্ডিং নিশ্চিত করতে ধাপে ধাপে প্যারাসুট খোলা হয়।
৪) আবহাওয়া পরিস্থিতি: নাসা ও স্পেসএক্স সর্বোত্তম আবহাওয়ার জন্য অপেক্ষা করেছিল।
স্পেসএক্সের ক্যাপসুলের এই সাফল্যের পর তাঁর অনেক গুলো দিক প্রমাণিত হল। এর ফলে নাসার বাণিজ্যিক মহাকাশ কর্মসূচির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নতুনভাবে নির্ধারিত হবে। অন্যদিকে, নয় মাস মহাকাশে কাটানোর পর উইলিয়ামস ও উইলমোর এখন নতুন যাত্রার জন্য প্রস্তুতি শুরু করবেন।












Click it and Unblock the Notifications