ট্রাম্প-জেলেনস্কির উত্তপ্ত বৈঠকের পর রাশিয়া নিজের অবস্থান স্পষ্ট করল, ক্ষোভ প্রকাশ হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রীরও
হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদোমির জেলেনস্কির মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের পর, রাশিয়ার ক্রেমলিন থেকে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করা হয়েছে। জেলেনস্কির হঠাৎ সফর সংক্ষিপ্ত করা এবং তার প্রস্থান নিয়ে রাশিয়ান কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেন, ট্রাম্প আলোচনার সময় সংযম প্রদর্শন করেছেন এবং জেলেনস্কিকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করেননি। তিনি মন্তব্য করেন, "আমি মনে করি জেলেনস্কির সবচেয়ে বড় মিথ্যা ছিল হোয়াইট হাউসে তার দাবি যে ২০২২ সালে কিয়েভ সরকার একা ছিল, কোনো সমর্থন ছাড়াই"।

রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপ-প্রধান ও প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভও জেলেনস্কিকে জোরাল ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন। তাঁর কথায়, "ওভাল অফিসে সে উপযুক্ত জবাব পেয়েছে"। তিনি আরও বলেন, "ট্রাম্প কিয়েভ সরকারের তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে খেলার বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। আমাদের অবশ্যই ইউক্রেনের প্রতি সামরিক সহায়তা বন্ধ করতে হবে"।
রাশিয়ান ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের প্রধান কিরিল দিমিত্রিভ এই ঘটনাকে "ঐতিহাসিক" বলে অভিহিত করেছেন। আবার অন্যদিকে, রাশিয়ার আন্তর্জাতিক মানবিক সহযোগিতা সংস্থার প্রধান ইয়েভগেনি প্রিমাকভ, জেলেনস্কির বিরুদ্ধে হিংসা উস্কে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন।
এই ঘটনার পর ইউরোপীয় নেতারা জেলেনস্কির প্রতি সমর্থন জানালেও, হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান ট্রাম্পের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, "শক্তিশালী মানুষ শান্তি প্রতিষ্ঠা করে, দুর্বল মানুষ যুদ্ধ করে"। তিনি আরও উল্লেখ করেন, "ট্রাম্প সাহসের সাথে শান্তির পক্ষে দাঁড়িয়েছেন, যদিও অনেকের জন্য তা গ্রহণ করা কঠিন ছিল"।
ওভাল অফিসের এই সংঘর্ষ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে যুদ্ধবিরতি আলোচনার প্রচেষ্টার মধ্যেই ঘটেছে। বৈঠকে ট্রাম্প জেলেনস্কিকে "অসম্মানজনক" বলে অভিযুক্ত করেন এবং সতর্ক করেন, "আপনি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে জুয়া খেলছেন"।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ইউক্রেনীয় নেতাকে তিরস্কার করে বলেন, "কিয়েভ কখনও আমাদের সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেনি"। এই উত্তেজনাপূর্ণ বৈঠকের কারণে নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলন বাতিল করা হয়। পরে ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করে জেলেনস্কিকে "অসম্মানজনক" এবং শান্তি আলোচনায় অনিচ্ছুক বলে নিন্দা করেন।
ট্রাম্প-জেলেনস্কির বৈঠকের আগে, ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ রাশিয়ার আমেরিকার সাথে সংলাপের আগ্রহ প্রকাশ করেন, তবে পারস্পরিক শ্রদ্ধার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন। তিনি বলেন, "আমরা কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথেই নয়, পারস্পরিক সম্মান এবং পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে সকল দেশের সাথে সংলাপ গড়ে তুলতে চাই"।
স্বাভাবিক ভাবেই এই ঘটনা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র-ইউক্রেন সম্পর্কে যে প্রভাব ফেলবে তা এক প্রকার স্পষ্ট। একই সাথে প্রভাব পড়বে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধেও। আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে এই বর্তমান পরিস্থিতি, এখন সেটাই দেখার।












Click it and Unblock the Notifications