কাতার হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় ৭ জনের মৃত্যু, তদন্তে নেমেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক
রবিবার কাতারের জলসীমায় একটি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় সাতজন প্রাণ হারিয়েছেন। সেদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, হেলিকপ্টারটি 'প্রযুক্তিগত ত্রুটির' কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে। এই ঘটনায় নিহতদের মধ্যে কাতার ও তুরস্কের সামরিক এবং অসামরিক সদস্যরা রয়েছেন।
এই দুর্ঘটনার পর কাতার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক প্রথমে জানায়, হেলিকপ্টারের সাতজন আরোহীর মধ্যে ছয়জনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে এবং নিখোঁজ কাতারের ক্যাপ্টেন সাঈদ সামেখের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে। তবে পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক তাঁর মৃতদেহ উদ্ধারের খবর নিশ্চিত করলে মোট মৃতের সংখ্যা সাতজনে দাঁড়ায়।

কাতার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মতে, হেলিকপ্টারটি 'নিয়মিত দায়িত্ব' পালনের সময় 'প্রযুক্তিগত ত্রুটির' শিকার হয়েছিল। অন্যদিকে, তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে যে, এটি একটি প্রশিক্ষণ উড়ানের সময় ঘটেছে এবং তাতে প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা গিয়েছিল। কাতারের কর্তৃপক্ষ এই দুর্ঘটনার সঠিক ও বিস্তারিত কারণ নির্ণয়ে একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন কাতার সশস্ত্র বাহিনীর ক্যাপ্টেন মুবারক আল মারি, সার্জেন্ট ফাহাদ আল খায়ারিন এবং কর্পোরাল মহম্মদ মহম্মদ। এছাড়াও, কাতার-তুরস্ক যৌথ বাহিনীর মেজর সিনান তাসতেকিন, এবং তুর্কি অসামরিক নাগরিক সুলেমান কাহরামান ও ইসমাইল কান মারা গেছেন। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক নিশ্চিত করেছে যে, এই ঘটনায় একজন তুর্কি সৈনিক ও দেশটির প্রতিরক্ষা সংস্থা 'আসেলসান'-এর দুজন কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন।
কাতারের বিভিন্ন মন্ত্রক নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহী (ইউএই) এই বেদনাদায়ক ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারবর্গ এবং কাতার ও তুরস্কের প্রতি তাদের গভীর সমবেদনা এবং সংহতি জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কাতার ইরানের দিক থেকে উৎক্ষেপিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করে আসছে। ইজরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে গোটা অঞ্চলে রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে।












Click it and Unblock the Notifications