সম্পন্ন পোপ ফ্রান্সিসের শেষকৃত্য, ভ্যাটিকানের সেন্ট পিটার স্কোয়ারে শেষ শ্রদ্ধা জানালেন রাষ্ট্রপ্রধানরা
আজ শনিবার ভ্যাটিকান সিটির সেন্ট পিটার্স স্কয়ারে রাষ্ট্রপ্রধান এবং বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হল পোপ ফ্রান্সিসের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া। ৮৮ বছর বয়সে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করা পোপ ফ্রান্সিসকে শ্রদ্ধা জানাতে ভ্যাটিকানে হাজির হয়েছিলেন বিশ্বের শীর্ষ নেতারা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নেন এবং ব্যক্তিগতভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ট্রাম্প আগেই ঘোষণা করেছিলেন যে, তিনি পোপের প্রতি "শ্রদ্ধা জানাতে" এই সফর করছেন, যদিও জীবদ্দশায় বহু বিষয়ে তাঁদের মধ্যে মতপার্থক্য ছিল।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেয়েন, হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এবং আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট জাভিয়ের মিলেই-সহ বিশ্বের বহু গুরুত্বপূর্ণ নেতা পোপের শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন।
ভারতের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু পোপ ফ্রান্সিসের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তাঁর সাথে ছিলেন সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু, সংখ্যালঘু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জর্জ কুরিয়ান এবং গোয়া বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার জোশুয়া ডি সুজা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও পোপের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে X হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে জানান, "বিশ্ব সর্বদা সমাজের প্রতি তাঁর সেবাকে স্মরণ করবে"।
এদিন সকালে সেন্ট পিটার্স স্কয়ারে হাজার হাজার মানুষ ভিড় করেন শুধুমাত্র পোপকে শেষবার দেখার জন্যে। পোপের কফিনটি ২০১৫ সালে ব্যবহৃত বিশেষ পোপমোবাইলের পেছনে রাখা হয়, যাতে সমগ্র ৪ কিমি দীর্ঘ পথে শোকাহতরা তাঁকে শেষবারের মত দেখতে পারেন।
বিশাল নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছিল এদিনের এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে। ইতালি মোতায়েন করেছিল ২,৫০০ পুলিশ ও ১,৫০০ সৈন্য। সঙ্গে উপকূলে একটি টর্পেডো জাহাজও ছিল সতর্কতায়। যেহেতু বিশ্বের তাবড় তাবড় রাষ্ট্রপ্রধানেরা শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন, তাই নিরাপত্তার বলয়ও ছিল চোখে পড়ার মত।
সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকা থেকে ঘণ্টাধ্বনির মধ্য দিয়ে শুরু হয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার অনুষ্ঠান। বিশিষ্ট অতিথিরা পৃথকভাবে পোপের কফিনের সামনে প্রার্থনা করেন। ব্যাসিলিকার চারপাশের রাস্তায় প্রায় ১ লাখ মানুষ বড় পর্দায় অনুষ্ঠান অনুসরণ করেন এদিন।
অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শেষে সাদা পোপমোবাইলে করে পোপ ফ্রান্সিসের কফিন ভ্যাটিকান ত্যাগ করে রোমের সান্তা মারিয়া ম্যাগিওর ব্যাসিলিকার দিকে রওনা দেয়। রাস্তার দুই ধারে হাজার হাজার মানুষ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে শেষবারের মতো তাঁদের প্রিয় পোপকে বিদায় জানান। সুইস রক্ষীদের নিরাপত্তায় কফিন পৌঁছে যায় তাঁর শেষ বিশ্রামের স্থানে।
প্রায় ১,৩০০ বছরের মধ্যে পোপ ফ্রান্সিসই ছিলেন প্রথম অ-ইউরোপীয় পোপ। যাজক হিসেবে তিনি সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এবং বিশ্বের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতি সহানুভূতি দেখানোর জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তাঁর শেষযাত্রায় এই বার্তাই যেন প্রতিফলিত হল - পোপ ছিলেন নিছক একজন যাজক, যিনি বিশ্ববাসীর হৃদয়ে চিরকালীন ছাপ রেখে গেলেন।












Click it and Unblock the Notifications