কলম্বিয়ায় বিমান দুর্ঘটনায় জনপ্রতিনিধি ও নির্বাচনী প্রার্থী সহ নিহত ১৫
কলম্বিয়ার উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় নোর্তে দে সান্তান্দের প্রদেশে বুধবার এক মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় শোকস্তব্ধ গোটা দেশ। প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকায় একটি ছোট বিমান ভেঙে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন বিমানে থাকা ১৫ জন যাত্রী ও ক্রু সদস্য। রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থা সাটেনা দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
স্থানীয় প্রশাসনের সূত্রে জানা গেছে, কুরাসিকা অঞ্চলের কাছে দুর্ঘটনাস্থলের সন্ধান পাওয়ার পরই উদ্ধারকারী দল দ্রুত সেখানে পৌঁছয়। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ। কলম্বিয়ার পরিবহণ মন্ত্রক জানিয়েছে, বিমানটির ধ্বংসাবশেষ উদ্ধারের পর নিশ্চিত করা হয় কেউই আর বেঁচে নেই।

দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানটির নম্বর এইচকে 4709, স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৪২ মিনিটে কুকুতা বিমানবন্দর থেকে ওকানার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। পাহাড়ি এই অঞ্চলে যাত্রার সময়সীমা ছিল মাত্র ৪০ মিনিটের। কিন্তু উড্ডয়নের কয়েক মিনিট পরেই এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে বিমানের শেষ যোগাযোগ হয়।
বিমানের যাত্রী তালিকায় ছিলেন প্রখ্যাত মানবাধিকার কর্মী ও রাজনীতিক ডিওজেনেস কুইন্তেরো। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তাঁর রাজনৈতিক দলের সদস্যরাও। এছাড়াও আসন্ন মার্চে কংগ্রেস নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চলা প্রার্থী কার্লোস সালসেদোর নামও যাত্রী তালিকায় ছিল। বিমানে দুই জন ক্রু সদস্যসহ মোট ১৩ জন যাত্রী ছিলেন।
মাত্র ৩৬ বছর বয়সে ডিওজেনেস কুইন্তেরোর অকালমৃত্যু কলম্বিয়ার রাজনৈতিক ও মানবাধিকার মহলে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে। পেশায় আইনজীবী কুইন্তেরো ২০২২ সালে অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হন। ভেনেজুয়েলা সীমান্তবর্তী অশান্ত অঞ্চলে তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিপীড়িত মানুষের পক্ষে লড়াই করে গিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি গুস্তাভো পেত্রো সামাজিক মাধ্যমে শোকবার্তায় লেখেন, "এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে ব্যথিত। নিহতদের পরিবারের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা। ঈশ্বর তাঁদের আত্মাকে শান্তি দিন।"
দুর্ঘটনার কারণ জানতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। আপাতত ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে দেহ উদ্ধার ও সঠিক তদন্তই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য। কলম্বিয়ার ইতিহাসে আরেকটি কালো অধ্যায় হিসেবে এই দুর্ঘটনা চিহ্নিত হয়ে রইল।












Click it and Unblock the Notifications