Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

ইরান যুদ্ধের মাঝেই মাথায় হাত শাহবাজ শরিফের, এপ্রিলেই আমিরশাহীকে ৩৫০ কোটি ডলার ঋণ শোধ দিচ্ছে পাকিস্তান

পাকিস্তানের অর্থনীতি যখন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) কড়া নজরদারি এবং বিনিয়োগ প্রবাহের দুর্বলতার সঙ্গে লড়াই করছে, তখন এপ্রিল মাসে তারা সংযুক্ত আরব আমিরশাহীকে ৩৫০ কোটি ডলার ডলার ঋণ পরিশোধ করতে চলেছে। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ মূলত মিত্র দেশগুলোর দেওয়া আমানতের ওপর নির্ভরশীল।

সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, সম্প্রতি উপসাগরীয় দেশটি অর্থ দ্রুত ফেরত চাওয়ায় পাকিস্তান এই বিশাল অঙ্কের ঋণ পরিশোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একজন সিনিয়র পাকিস্তানি ক্যাবিনেট মন্ত্রী এই খবর নিশ্চিত করেছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র-ইজরায়েল-ইরান সংঘাতের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলে অস্থির পরিবেশ তৈরি হওয়ায় আমিরশাহী পাকিস্তানকে দেওয়া ঋণ দ্রুত পরিশোধের অনুরোধ করেছিল। সরকারের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্ব এই অর্থ পরিশোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ঋণ পরিশোধের একটি নির্দিষ্ট সময়সূচিও চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী ১১ এপ্রিল ৪৫০ মিলিয়ন ডলার, ১৭ এপ্রিল ২ বিলিয়ন ডলার এবং ২৩ এপ্রিল ১ বিলিয়ন ডলার ফেরত দেওয়া হবে।

পাকিস্তানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ১৬.৪ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে এই অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। উল্লেখযোগ্য যে, মোট ৪৫০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে একটি অংশ হচ্ছে ১৯৯৬-৯৭ সালে নেওয়া এক বছরের ঋণ, যা প্রায় তিন দশক পর পরিশোধ করা হচ্ছে।

এই পদক্ষেপটি ঋণের গতিশীলতার পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। এর আগে আমিরশাহী দীর্ঘমেয়াদী রোলওভারের বিষয়ে অনীহা দেখিয়েছিল এবং স্বল্পমেয়াদী মেয়াদ বাড়ানোর দিকে ঝুঁকেছিল। জানুয়ারিতে, দুটি ১ বিলিয়ন ডলারের ঋণ এক মাসের জন্য ৬.৫ শতাংশ সুদে রোলওভার করা হয়েছিল, যদিও পাকিস্তান প্রায় ৩ শতাংশ সুদে দুই বছরের মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করেছিল।

কর্মকর্তাদের বিশ্বাস, চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইজরায়েল-ইরান সংঘাত ঋণ পরিশোধের সিদ্ধান্ত দ্রুত নিতে সাহায্য করেছে এবং বর্তমান পরিশোধ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে ভূমিকা রেখেছে।

৭ বিলিয়ন ডলারের আইএমএফ কর্মসূচির অধীনে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, সৌদি আরব এবং চিন স্টেট ব্যাঙ্ক অফ পাকিস্তানে (SBP) মোট ১২.৫ বিলিয়ন ডলার আমানত সেপ্টেম্বরের ২০২৭ পর্যন্ত বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল।

গত কয়েক মাস ধরে ঋণ মকুব বা মেয়াদ বাড়ানোর প্রচেষ্টা চলছিল। ডিসেম্বরে, এসবিপি গভর্নর জামিল আহমেদ ২.৫ বিলিয়ন ডলারের আমিরাতি ঋণের সুদের হার কমিয়ে দুই বছরের জন্য রোলওভারের অনুরোধ করেছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও আমিরশাহীর প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন এবং প্রকাশ্যেই বলেছিলেন যে রোলওভারের বিষয়ে সম্মতি হয়েছে, যদিও তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দেননি।

পাকিস্তানের প্রতি আমিরশাহীর আর্থিক সহায়তা সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়েছে। ২০১৮ সালে দেওয়া ২ বিলিয়ন ডলারের এক বছরের ঋণ বারবার রোলওভার করা হয়েছে, এবং ২০২৩ সালে অতিরিক্ত ১ বিলিয়ন ডলার দেওয়া হয়েছিল ইসলামাবাদকে আইএমএফ-সম্পর্কিত বৈদেশিক অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তা মেটাতে।

গত মাসের শুরুতে, আহমেদ ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে ২ বিলিয়ন ডলারের ঋণ সুবিধাটি প্রত্যাহার করা হচ্ছে না বরং মাসিক রোলওভারে স্থানান্তরিত হচ্ছে। কিন্তু এখন জানা যাচ্ছে, আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঋণ পরিশোধের অনুরোধ করা হয়েছে।

'দি এক্সপ্রেস ট্রিবিউন' জানিয়েছে, মোট ৪.৮ বিলিয়ন ডলারের ঋণ এপ্রিল মাসে পরিশোধ করতে চলেছে পাকিস্তান, যার মধ্যে ৮ এপ্রিল ম্যাচিওর হতে চলা ১.৩ বিলিয়ন ডলারের একটি ইউরোবন্ড (Eurobond)-ও রয়েছে।

এই অর্থপ্রদান সত্ত্বেও, ক্যাবিনেট মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেছেন যে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ 'স্বস্তিদায়ক' পর্যায়ে রয়েছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, অতীতেও দেশ মাত্র এক সপ্তাহের আমদানি খরচের রিজার্ভ নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ চলতি বছরের শুরুতে স্বীকার করেছিলেন যে রিজার্ভের মাত্রা উন্নত হয়েছে, তবে এটি মূলত মিত্র দেশগুলি থেকে পাওয়া ১২ বিলিয়ন ডলার আমানতের কারণে ঘটেছে।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+