পহেলগাঁও হামলায় নিরপেক্ষ তদন্তে প্রস্তুত পাকিস্তান, সহযোগিতার আশ্বাস শেহবাজ শরীফের
জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের জঙ্গি হামলার "নিরপেক্ষ তদন্তের" জন্য প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ। এই হামলায় একজন নেপালি নাগরিকসহ ২৬ জন নিরীহ মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হয়। যার প্রতিশোধের আগুনে ফুঁসছে গোটা দেশ। যদিও এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কড়া পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে ভারত।
২০১৯ সালে ৩৭০ ধারা বাতিলের পর থেকে এটি সবচেয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলা। এই ঘটনায় পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে ভারত। খাইবার-পাখতুনখোয়ার কাকুলে পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে এক অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী শরীফ বলেন, তাঁর দেশ একটি "বিশ্বাসযোগ্য" তদন্তে অংশ নিতে প্রস্তুত।

শরীফ বলেন, "পহেলগাঁওয়ের সাম্প্রতিক ট্র্যাজেডি এই চিরস্থায়ী দোষারোপের আরেকটি উদাহরণ, যা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। একটি দায়িত্বশীল দেশ হিসেবে তার ভূমিকা অব্যাহত রেখে, পাকিস্তান যেকোনো নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ এবং বিশ্বাসযোগ্য তদন্তে অংশগ্রহণের জন্য উন্মুক্ত।"
তিনি আরও বলেন, "পাকিস্তান সর্বদা সকল ধরণের সন্ত্রাসবাদের নিন্দা করেছে।" নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফের "আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের দ্বারা পরিচালিত যেকোনও তদন্তে পাকিস্তান সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।" এই মন্তব্যের একদিন পর শরীফের এই মন্তব্য এসেছে।
এদিকে পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈবার সহযোগী সংগঠন রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (টিআরএফ) পহেলগাঁও হামলার দায় স্বীকার করেছে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রায়শই সীমান্ত পার হয়ে অনুপ্রবেশে জড়িত জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিকে আশ্রয় এবং অর্থায়নের অভিযোগ আনা হয়। গোয়েন্দা সূত্র অনুসারে, হামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত আদিল আহমেদ ঠোকার পাকিস্তানে গিয়ে জঙ্গি গোষ্ঠীর কাছ থেকে সামরিক প্রশিক্ষণ নেয়। ৬ বছর পর বেশ কয়েকজন পাকিস্তানি জঙ্গির সঙ্গে ভারতে অনুপ্রবেশ করে।
২৩শে এপ্রিল পহেলগাঁও হামলার প্রতি ভারতের প্রতিক্রিয়া নির্ধারণের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিএস) ডাকা হয়েছিল। সিসিএস পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিসরি এই পদক্ষেপগুলি ঘোষণা করেন। এর মধ্যে প্রধান হল, প্রতিটি দেশের কূটনৈতিক মিশনের কর্মী সংখ্যা ৫৫ থেকে কমিয়ে ৩০ জন করা। ভারত ও পাকিস্তান উভয় হাইকমিশনই ১ মে-র মধ্যে তাদের কর্মী সংখ্যা ৫৫ থেকে কমিয়ে ৩০ জন করবে।
ভারত নয়াদিল্লিতে অবস্থিত পাকিস্তানি হাইকমিশন থেকে সমস্ত প্রতিরক্ষা, নৌ ও বিমান উপদেষ্টাকে বহিষ্কার করেছে। এই ব্যক্তিদের অবাঞ্ছিত ব্যক্তি ঘোষণা করা হয়েছে এবং এক সপ্তাহের মধ্যে দেশ ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে, ভারত ইসলামাবাদে অবস্থিত নিজস্ব হাইকমিশন থেকে সামরিক উপদেষ্টাদের প্রত্যাহার করবে। উভয় মিশনে পরিষেবা উপদেষ্টাদের জন্য নিযুক্ত ৫ জন সহায়তা কর্মীকেও প্রত্যাহার করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
এদিকে ভারত পাকিস্তানি নাগরিকদের জন্য সার্ক ভিসা অব্যাহতি প্রকল্প আরও স্থগিত করেছে। এই কর্মসূচির আওতায় পাকিস্তানি নাগরিকদের জন্য জারি করা যেকোনো বিদ্যমান ভিসা তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করা হয়েছে।
সিসিএস ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে একমাত্র কার্যকর স্থল সীমান্ত ক্রসিং আটারিতে ইন্টিগ্রেটেড চেক পোস্ট অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে। বৈধ কাগজপত্র নিয়ে এই পোস্ট দিয়ে ভারতে প্রবেশকারী পাকিস্তানি নাগরিকরা ১ মে-র সময়সীমার আগে ফিরে আসতে পারবেন বলে মিসরি জানান।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলির মধ্যে একটি ছিল ১৯৬০ সালের সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করা। মিসরি বলেন, "চুক্তিটি স্থগিত থাকবে যতক্ষণ না পাকিস্তান বিশ্বাসযোগ্যভাবে এবং অপরিবর্তনীয়ভাবে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদের প্রতি তার সমর্থন ত্যাগ করতে পারে।"
উল্লেখ্য, উভয় দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায়, পাকিস্তানি সেনারা নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলওসি) বরাবর বিনা উস্কানিতে গুলি চালায়। দ্বিতীয় রাতে, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলওসি) বরাবর ভারতীয় অবস্থানগুলিতে গুলি চালিয়েছে, বলে খবর। যার জবাবে ভারতীয় বাহিনীও পাল্টা জবাব দিয়েছে। উভয় পক্ষের কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।












Click it and Unblock the Notifications