গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের সফট কৌশল, শুল্ক হুমকি প্রত্যাহার, ন্যাটোর সঙ্গে ‘ফ্রেমওয়ার্ক'
গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে বিশ্ব রাজনীতিতে হঠাৎই নেমে এল 'শীতল উষ্ণতা'। ডাভোসের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে বৈঠকের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার ঘোষণা করলেন ইউরোপের আটটি দেশের বিরুদ্ধে আরোপের জন্য প্রস্তুত রাখা শতকোটি ডলারের শুল্ক হুমকি আপাতত তুলে নেওয়া হচ্ছে। ন্যাটো মহাসচিবের সঙ্গে 'ভবিষ্যৎ চুক্তির ফ্রেমওয়ার্ক' তৈরি হয়েছে বলেই দাবি তাঁর।
ইউ টার্নটি এল ঠিক সেই সময়ে, যখন ট্রাম্পের "গ্রিনল্যান্ড চাই ই চাই" দাবিতে ইউরোপীয় মিত্ররা নড়েচড়ে বসেছিল, ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি স্থগিত রেখেছিল। ডাভোসে হাসিমুখেই ট্রাম্প বললেন, "আমরা চাই কেবল একটি জায়গা গ্রিনল্যান্ড। যুদ্ধ লাগবে না, শক্তি দেখানোরও দরকার নেই।" ন্যাটোও বৈঠককে 'উৎপাদনশীল' বলে স্বীকৃতি দিয়েছে।

ডেনমার্কের বিদেশমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন বললেন, "ট্রাম্প বলছেন গ্রিনল্যান্ডে হামলা হবে না, শুল্কও আপাতত নেই এটা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক।'' ট্রাম্প ন্যাটো আলোচনা ডেনমার্কের কূটনৈতিক মহলে খানিক স্বস্তি ফিরিয়েছে।
এদিকে ইউরোপীয় সংসদ স্পষ্ট করেছে, কোনো সদস্য রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়লে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য হঠাৎই 'জিওপলিটিক্যাল অস্ত্র' হয়ে উঠতে পারে। সংসদের বাণিজ্য কমিটির প্রধান বার্ন্ড ল্যাঙ্গে বললেন, "শুল্ককে চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করলে স্থিতিশীল বাণিজ্য নড়বড়ে হয়ে যাবে।"
গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে উত্তেজনার মাঝেই স্পেনের বিদেশমন্ত্রী ভবিষ্যতে 'ইইউ যৌথ সেনা'র কথা তুলেছে প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সামরিক একীকরণের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনি মন্তব্য করেন বিশ্ব এখন এমন জায়গায় দাঁড়িয়েছে যেখানে শক্তিশালী রাষ্ট্ররা অর্থনীতিকে 'হাতিয়ার' হিসেবে ব্যবহার করছে; শুল্ক, সরবরাহ শৃঙ্খল, আর্থিক ব্যবস্থাপনা সবই কূটনৈতিক চাপের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। নাম না করলেও আঙুল ছিল স্পষ্টই ওয়াশিংটনের দিকে।
রাশিয়ার উদাসীনতা, কিন্তু নজর স্থির
মস্কো যেন হাসি চেপে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বললেন, "গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যা হচ্ছে তা আমাদের বিষয় নয়, ওরা নিজেদের মতো মিটিয়ে নেবে।" কিন্তু আর্কটিক যে রাশিয়ার কৌশলগত নজরদারির বাইরে নয় তা আন্তর্জাতিক মহল জানে।
গ্রিনল্যান্ডে 'সংকট ব্রোশিওর'
এদিকে গ্রিনল্যান্ডের সরকার অদ্ভুত এক নির্দেশিকা জারি করেছে 'সংকট পরিস্থিতি'তে খাদ্য,জল, শিকারি বন্দুক ও গুলি রাখার পরামর্শ। স্থানীয় মন্ত্রী বললেন, "ব্যবহার করতে হবে বলে মনে করি না, তবে প্রস্তুতি থাকা ভালো।"
ট্রাম্প বলছেন গ্রিনল্যান্ড চুক্তির 'ফ্রেমওয়ার্ক' যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা লক্ষ্য পূরণ করেছে, "এটা অসাধারণ, যা আমরা চেয়েছিলাম সবই পেয়েছি।" যদিও গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানায় যাবে কি না সে প্রশ্নের উত্তর মিলল না।
রাশিয়া ও চিনের নজর, মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, বিরল খনিজের মজুত, ওয়ার্মিং-পরবর্তী নতুন বাণিজ্য রুট সব মিলিয়ে গ্রিনল্যান্ড এখন আর্কটিক ভূরাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক নরম সুর হয়তো কৌশলগত, আবার ঝড় উঠবে কি না তা সময়ই বলবে।












Click it and Unblock the Notifications