বন্ডি বিচ কাণ্ডে নতুন মোড়, হামলাকারীর শিকড় হায়দরাবাদে, তেলেঙ্গানা পুলিশের দাবি
অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র বন্ডি বিচে রবিবার ঘটে যাওয়া ভয়াবহ গুলিচালনার ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে আনল তেলেঙ্গানা পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই হামলার মূল অভিযুক্ত ৫০ বছর বয়সি সাজিদ আক্রম আদতে ভারতের হায়দরাবাদের বাসিন্দা ছিলেন। প্রায় তিন দশক আগে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি দেন।
তেলেঙ্গানা পুলিশের দাবি, সাজিদ আক্রম ২৭ বছর আগে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস শুরু করেন ও দীর্ঘদিন ধরে হায়দরাবাদে থাকা পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল অত্যন্ত সীমিত। রবিবার বন্ডি বিচে একটি হানুক্কা অনুষ্ঠান চলাকালীন সাজিদ ও তাঁর ২৪ বছরের ছেলে নাভিদ আক্রম রাইফেল হাতে নির্বিচারে গুলি চালান। এই হামলায় ঘটনাস্থলেই ১৫ জনের মৃত্যু হয়।

পরে পুলিশের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে নিহত হন সাজিদ আক্রম। ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৬ তে। অন্যদিকে, তাঁর ছেলে নাভিদ আক্রম গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ও পুলিশি পাহারায় রয়েছেন।
এই নৃশংস ঘটনাকে অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ সন্ত্রাসবাদী হামলা বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এই হামলাকে "ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত আক্রমণ" বলে আখ্যা দেন। তাঁর কথায়, এটি "ঘৃণা, ইহুদিবিদ্বেষ ও সন্ত্রাসবাদের এক নির্মম প্রকাশ, যা দেশের অন্তঃকরণে আঘাত করেছে।"
তেলেঙ্গানা পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে, সাজিদ আক্রম ও তাঁর ছেলের উগ্রপন্থায় ঝুঁকে পড়ার পেছনে ভারতের বা তেলেঙ্গানার কোনও স্থানীয় প্রভাবের প্রমাণ মেলেনি। পুলিশ সূত্রে আরও বলা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি দেওয়ার আগে ভারতে সাজিদের বিরুদ্ধে কোনও অপরাধমূলক নথি ছিল না।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসের পরও সাজিদ ছয়বার ভারতে এসেছিলেন। তবে তাঁর পরিবার তাঁর উগ্র মানসিকতার বিষয়ে সম্পূর্ণ অজ্ঞ ছিল বলেই জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে ফিলিপিন্সের ব্যুরো অফ ইমিগ্রেশনও নিশ্চিত করেছে যে সাজিদ আক্রম একজন ভারতীয় নাগরিক ছিলেন ও গত নভেম্বর মাসে তিনি তাঁর ছেলের সঙ্গে ফিলিপিন্স সফর করেন। সংস্থার মুখপাত্র ডানা স্যান্ডোভাল জানান, ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর সিডনি থেকে তাঁরা ফিলিপিন্সে পৌঁছন ও ২৮ নভেম্বর দেশ ছেড়ে ফের অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে যান।
জানাগেছে, দীর্ঘদিন পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ না থাকায় বন্ডি বিচের ঘটনার খবর পেয়ে সাজিদের পরিবার চরম বিস্মিত। হায়দরাবাদে বসবাসকারী তাঁর ভাই জানিয়েছেন, প্রায় ২৫ বছর আগে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি দেওয়ার পর সাজিদ একজন খ্রিস্টান নারীকে বিয়ে করেন। সেই বিয়ের পর থেকেই পরিবারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাজিদের বাবা বহু বছর আগে সৌদি আরব থেকে ফিরে হায়দরাবাদে একটি ফ্ল্যাট কিনেছিলেন। পরে সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ভাইদের মধ্যে বিবাদও হয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি জানতে পেরেছে, কয়েক বছর আগে সাজিদ হায়দরাবাদে এসেছিলেন। এই ঘটনার সূত্র ধরে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
বন্ডি বিচ হামলার তদন্তে প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে তেলেঙ্গানা পুলিশ।
-
ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামে উত্তাপ চরমে, শুভেন্দুর বিরুদ্ধে ভয়ের রাজনীতির অভিযোগে মনোনয়ন বাতিলের দাবি তৃণমূলের -
ইডেনে প্রথম জয়ের সন্ধানে কেকেআর-সানরাইজার্স, দুই দলের একাদশ কেমন হতে পারে? -
যুদ্ধ নয়, আলোচনায় সমাধান! হরমুজ ইস্যুতে বৈঠক ডাকল ব্রিটেন, যোগ দিচ্ছে ভারত -
কালিয়াচক কাণ্ডে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের! 'রাজনীতি নয়, বিচারকদের নিরাপত্তাই...', কী কী বলল শীর্ষ আদালত? -
ভোটার তালিকা ইস্যুতে ফের অগ্নিগর্ভ মালদহ, সকালে ফের অবরোধ -
মালদহের ঘটনার তদন্তভার নিল সিবিআই, মমতার তোপে কমিশন -
ভোটের আবহে জলপাইগুড়িতে চাঞ্চল্য, এক্সপ্রেস ট্রেনে জাল নথি সহ ১৪ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার, তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা -
'১৫ দিন বাংলায় থাকব', ভবানীপুরে মমতাকে হারানোর ডাক, শাহের চ্যালেঞ্জে তপ্ত রাজনীতি -
কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্ত! দেশের বিভিন্ন শহরে আই-প্যাকের দফতর ও ডিরেক্টরের বাসভবনে ইডি তল্লাশি -
কালিয়াচকে প্রশাসনিক গাফিলতি? জেলাশাসক, পুলিশ সুপারকে শোকজ, CBI অথবা NIA তদন্তের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট -
৫৪ বছর পর চাঁদের পথে মানুষ, ৪ মহাকাশচারী নিয়ে নাসার 'আর্টেমিস ২'-এ ইতিহাসের নতুন অধ্যায় -
'মালদহ কাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড' মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার, পালানোর সময় বাগডোগরা থেকে ধৃত












Click it and Unblock the Notifications