ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে আগ্রহী ব্রিটেনের নয়া প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাস, শুভেচ্ছা বার্তা মোদীর
ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে আগ্রহী ব্রিটেনের নয়া প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাস, শুভেচ্ছা বার্তা মোদীর
ঋষি সুনককে পরাজিত করে লিজ ট্রাস ব্রিটেনের নয়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। তিনি ব্রিটেনের তৃতীয় মহিলা প্রধানমন্ত্রী হবেন। বিট্রেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে লিজ ট্রাসের নাম ঘোষণার পরেই ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। ভারত ও ব্রিটেনের সম্পর্ক আরও মজবুত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন।

নরেন্দ্র মোদীর শুভেচ্ছা বার্তা
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরেই লিজ ট্রাসকে শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। টুইটারে তিনি লেখেন, 'আপনার নেতৃত্বে ভারত ও ব্রিটেনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত হবে বলে আশা করছি। আপনার নতুন ভূমিকা ও দায়িত্বের জন্য শুভ কামনা রইল।' প্রসঙ্গত, গত বছরের অক্টোবরে লিজ ট্রাস দুই দিনের ভারত সফরে এসেছিলেন। সেই সময় তিনি ভারত ও ব্রিটেনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুতের করার বিষয়ে জোর দেন। ভারত সফরে লিজ ট্রাস বলেন, ভবিষ্যতের জন্য দুই দেশের একত্রে কাজ করা প্রয়োজন।

ভারত-ব্রিটেন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে আগ্রহী লিজ ট্রাস
৪৭ বছরের লিজ ট্রাস কনজারভেটিভ দলের নেতা ও ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। ভারত-ব্রিটেনের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিকে সম্পর্কের বিষয়ে তাঁর গভীরতা অন্যান্য অনেক ব্রিটিশ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের থেকে বেশি। জনসনের মন্ত্রিসভায় যখন তিনি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সচিব হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন, ভারত-ব্রিটেন এনহ্যান্সড ট্রেড পার্টনারশিপ বা ইটিপিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। এরপরেই লিজ ট্রাস মন্তব্য করেছিলেন, ভারত ও ব্রিটেনের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে মজবুত করার জন্য এটা একটা বড় সুযোগ। তিনি জনসনের মন্ত্রিসভায় এরপরে বিদেশমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হন। সেখানেও তাঁর একাধিক বাণিজ্যিক নীতিতে ভারতকে গুরুত্ব দিতে দেখা গিয়েছে।

নির্বাচনী প্রচারে ভারতকে গুরুত্ব
লিজ ট্রাসের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ঋষি সুনক। নির্বাচনে প্রচারে একদিকে ঋষি সুনক যেমন ভারতীয় বংশোদ্ভুত পরিচয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। অন্যদিকে, লিজ ট্রাস একাধিক প্রচারসভা বা ইভেন্টে ভারতের সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। তিনি দলের কনজারভেটিভ ফ্রেন্ডস অফ ইন্ডিয়া (সিএফআইএন) ডায়াস্পোরার একটি অনুষ্ঠানে ভারতের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী বলেও মন্তব্য করেছিলেন।

আন্তর্জাতিক ইস্যুতে ট্রাসের প্রতিক্রিয়া
বিদেশমন্ত্রী থাকার সময় লিজ ট্রাস রাশিয়ার ইউক্রেনে সামরিক অভিযানেক তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন। রাশিয়ার ওপর একাধিক নিষেধাজ্ঞা জারির বিষয়ে তিনি সম্মত হয়েছিলেন। জি-৭ বৈঠকে তিনি রাশিয়ার সোনা রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে জোর সওয়াল করেছিলেন।

ব্রিটেনের আর্থিক সঙ্কটে ট্রাস
ব্রিটেনের মুদ্রাস্ফীতি প্রায় ১০.১ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতি দেশের হাল ধরতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ব্রিটেনের নয়া প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাস। নির্বাচনী প্রচারের সময় এক সাক্ষাৎকারে লিজ ট্রাস বলেছেন, 'আমি যদি প্রধানমন্ত্রী হই, সেক্ষেত্রে দেশের জ্বালানি মূল্য ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দেব।' তিনি বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে সমাধান সূত্রে আসার চেষ্টা করব। তবে সবার প্রথম দরকার একটি শক্তিশালী মন্ত্রিসভা।'












Click it and Unblock the Notifications