বাজপেয়ীর সঙ্গে স্বাক্ষরিত লাহোর চুক্তি ভঙ্গ হয়েছে! স্বীকারোক্তি প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের
ভারত আগেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ১৯৯৯ সালের লাহোর চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছিল। এবার সেই অভিযোগের কথা স্বীকার করে নিলেন পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। প্রসঙ্গত ১৯৯৯-তে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর সঙ্গে ওই চুক্তি করেছিলেন নওয়াজ শরিফ।
কিন্তু কারগিল যুদ্ধের কারণে সেই চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছিল ভারত। বিষয়টি স্বীকার করে শরিফ তৎকালীন জেনারেল পারভেজ মোশারফের কারগিলে হানার কথাও উল্লেখ করেছেন।

পিএমএল-এন-এর এক বৈঠকে নওয়াজ শরিফ বলেছেন, ১৯৯৮ সালে পাকিস্তান পাঁচটি পারমানবিক পরীক্ষা চালায়। তারপরেই বাজপেয়ী লাহোরে গিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে চুক্তি করেন। কিন্তু পাকিস্তান সেই চুক্তি লঙ্ঘন করেছিল। দোষটা পাকিস্তানের ছিল বলেও জানিয়েছেন শরিফ। প্রসঙ্গত পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে অযোগ্য ঘোষণার ছয়বছর পরে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ পরিষদ তাঁকে সভাপতি নির্বাচন করেছে।
প্রসঙ্গত লাহোরে একটি ঐতিহাসিক শীর্ষ বৈঠকের পরে, নওয়াজ শরিফ ও অটলবিহারী বাজপেয়ী ১৯৯৯-এর ২১ ফেব্রুয়ারি লাহোর ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেন। সেই চুক্তিতে দুই দেশের মধ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতার কথাই বলা হয়েছিল। এটি পারমাণবিক অস্ত্রের ক্ষেত্রে পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং সহযোগিতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ওই বছরেই ওই চুক্তি দুই দেশের সংসদে অনুমোদিত হয়। কিন্তু এই চুক্তির কয়েক মাসের মধ্যে তৎকালীন জম্মু ও কাশ্মীরের কারগিলে পাকিস্তানের সেনা অনুপ্রবেশ করে। ভারত বাধা দিতেই যুদ্ধ শুরু হয়।
পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন পাকিস্তানকে পারমানবিক পরীক্ষা চালানো থেকে বিরত রাখতে পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সাহায্যের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তিনি আরও বলেন, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান যদি সেখানে থাকতেন, তাহলে তিনি ক্লিনটনের প্রস্তাব গ্রহণ করতেন।
ইমরান খানকে ক্ষমতায় আনতে ২০১৭ সালে তাঁর সরকারের পতনে আইএসআই প্রধান জেনারেল জহিরুল ইসলামের ভূমিকা সম্পর্কেও বলেছেন নওয়াজ শরিফ। তিনি আরও বলেছেন, ২০১৪ সালে তিনি জেনারেল ইসলামের কাছ থেকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের বার্তা পেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করলে, তাঁকে হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন নওয়াজ শরিফ।
নওয়াজ শরিফ ছোটভাই প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের তাঁর পাশে দাঁড়ানোর প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছেন, দুই ভাইয়ের মধ্যে পার্থক্য তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু শেহবাাজ তাঁর প্রতি অনুগত ছিল। এমন কী অতীতে তাঁকে সরিয়ে শেহবাজকে প্রধানমন্ত্রীত্বের প্রস্তাব দেওয়া হলেও, তিনি তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছিলেন।












Click it and Unblock the Notifications