Modi-Trump: পাকিস্তানের সঙ্গে মধ্যস্থতায় আমেরিকার কোনও ভূমিকা ছিল না, ট্রাম্পকে ফের সহজ ভাষায় মনে করালেন মোদী

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, জম্মু ও কাশ্মীরের কিছু অংশ পাকিস্তানের অবৈধভাবে দখল করা নিয়ে ভারত কখনও তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা চায়নি এবং ভবিষ্যতেও মেনে নেবে না।

বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি বুধবার সকালে সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী মোদী যখন জি-৭ সম্মেলনে যোগ দিতে কানাডায় ছিলেন, তখন এই ৩০ মিনিটের ফোনালাপটি হয়। সেখানেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী মোদীর কাছে অপারেশন সিঁদুর সম্পর্কে জানতে চান।

অপারেশন সিঁদুর ছিল পেহলগাঁও জঙ্গি হামলার পরে ভারতের সফল সামরিক পদক্ষেপ। প্রধানমন্ত্রী ট্রাম্পকে জানান যে ভারত শুধুমাত্র পাকিস্তান ও পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের জঙ্গি ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করেই পরিমিত পদক্ষেপ নিয়েছে। তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা নিয়ে ভারতের অবস্থানও তিনি স্পষ্ট করে জানান যে, এর প্রয়োজন নেই এবং এটা কখনই কাম্য নয়।

মিস্রি সাংবাদিকদের বলেন, "প্রধানমন্ত্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন যে ভারত কখনও মধ্যস্থতা স্বীকার করেনি, করে না এবং করবেও না। এই বিষয়ে ভারতে রাজনৈতিক ঐক্য রয়েছে।"

ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে বহুবার ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে অপারেশন সিঁদুর যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার কৃতিত্ব দাবি করেছিলেন, যা ভারত সরকার দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে। এমনকী তিনি জম্মু ও কাশ্মীর সীমান্ত সমস্যার মীমাংসা করার জন্য সাহায্যের প্রস্তাবও দিয়েছিলেন।

এই বিষয়ে মে মাসের ১২ তারিখে প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর প্রথম ভাষণে পাকিস্তানকে বলেছিলেন যে, জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে কোনও আলোচনা হতে পারে না। শুধুমাত্র জঙ্গি পরিকাঠামো ভেঙে ফেলতে হবে এবং ভারতের ভূখণ্ড ফেরত দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর সেই বক্তব্যও এখানে প্রতিধ্বনিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, "যদি আমরা কখনও পাকিস্তানের সঙ্গে কথা বলি, তবে তা কেবল সন্ত্রাসবাদ ও পাক অধিকৃত কাশ্মীর নিয়েই হবে।"

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সফররত পাক সেনাপ্রধান জেনারেল সৈয়দ আসিম মুনিরের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিশ্চিত বৈঠকের প্রেক্ষাপটে এই ফোনালাপটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হোয়াইট হাউসের ক্যাবিনেট রুমে জেনারেল মুনিরের সঙ্গে ট্রাম্পের মধ্যাহ্নভোজের কথা ছিল। এছাড়াও তিনি সেক্রেটারি অফ স্টেট মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের সঙ্গে দেখা করার কথা।

ইরান ও ইজরায়েল সর্বাত্মক যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তা পাকিস্তানের দিকেও ছড়িয়ে যেতে পারে। কারণ পাকিস্তানের সঙ্গে ইরানের স্থলসীমান্ত রয়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রকে সেনা মোতায়েন করতে হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত পাকিস্তানকে রক্ষা করতে বাধ্য হবে। কারণ এই অঞ্চলে পাকিস্তান তাদের মিত্র দেশ।

যুদ্ধবিরতির কৃতিত্ব দাবি করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী জানান যে, পাকিস্তানের অনুরোধে জবাব বন্ধ করা হয়েছে এবং দিল্লি ও ইসলামাবাদ দুটি দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে বিদ্যমান যোগাযোগ চ্যানেলের মাধ্যমে শর্ত নিয়ে আলোচনা করেছে। প্রধানমন্ত্রী আরও জানান যে, ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য চুক্তি এই ঘটনায় কোনও ভূমিকা রাখেনি। এমন দাবি করা হয়েছিল যে, ভারত ও পাকিস্তানের ওপর উচ্চ শুল্কের হুমকির কারণে সংঘাত বন্ধ হয়েছে।

বিদেশ সচিব মিস্রি জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভারতের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন এবং জি-৭ এর পর প্রধানমন্ত্রী মোদীকে আমেরিকা সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তবে পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি থাকায় প্রধানমন্ত্রী সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। নিশ্চিত করা হয়েছে যে, জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে ব্যক্তিগত বৈঠকের পরিবর্তে এই ফোনালাপটি হয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাড়াতাড়ি চলে যাওয়ায় সেই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে পারেনি। বিদেশ সচিব আরও জানান যে, এই ফোনালাপের অনুরোধটি ছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকেই।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+