ট্রাম্প প্রশাসনের গ্রুপ চ্যাটে ভুল করে প্রবেশ, জানলেন অনেক গুপ্ত তথ্য, কে এই জেফ্রি গোল্ডবার্গ?
মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা গত মাসে ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে বিমান হামলা পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত একটি গ্রুপ চ্যাটে ভুলবশত 'দ্য আটলান্টিক'-এর প্রধান সম্পাদক জেফ্রি গোল্ডবার্গকে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। এই ঘটনার ফলে বেশ কয়েকটি ফেডারেল নিয়ম ও নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গোল্ডবার্গ 'দ্য আটলান্টিক' ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে লিখেছেন, "ইয়েমেনে আসন্ন সামরিক হামলা নিয়ে আলোচনাকালে আমাকে ভুলবশত একটি গ্রুপ চ্যাটে যুক্ত করা হয়েছিল। প্রথমে আমি বিশ্বাসই করতে পারিনি, কিন্তু তারপরই বোমা হামলা শুরু হয়"।

সোমবার প্রকাশিত "দ্য ট্রাম্প অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যাক্সিডেন্টালি টেক্সটড মি ইটস ওয়ার প্ল্যানস" শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গোল্ডবার্গকে সিগন্যাল নামক একটি গোপনীয়তা-কেন্দ্রিক মেসেজিং অ্যাপে তৈরি একটি গ্রুপ চ্যাটে যুক্ত করা হয়েছিল। হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ওয়াল্টজের ছদ্মবেশ ধারণ করে কেউ তাকে ওই গ্রুপে যুক্ত করে।
গোল্ডবার্গ দাবি করেছেন যে তিনি হামলার দুই ঘণ্টারও বেশি আগে এর পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে পেরেছিলেন। আলোচনায় হামলার লক্ষ্যবস্তু, মোতায়েনকৃত অস্ত্র এবং হামলার কৌশল সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ছিল। চ্যাটে বিদেশ মন্ত্রী মার্কো রুবিও, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের বার্তাও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
গোল্ডবার্গ বলেন, "এই তথ্য যদি শত্রুপক্ষের হাতে পড়ত, তাহলে এটি মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা সদস্যদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারত, বিশেষত মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিতে"। এই ঘটনার পর, মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে এমন অনিরাপদ যোগাযোগের ঘটনা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের অনিয়ন্ত্রিত তথ্য বিনিময় সরকারের নিরাপত্তা নীতির গুরুতর লঙ্ঘন। যার শাস্তিও গুরুতর হতে পারে।
দ্য আটলান্টিকের প্রধান সম্পাদক জেফ্রি গোল্ডবার্গ এর আগে 'দ্য নিউ ইয়র্কার' ও 'দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস' ম্যাগাজিনে কাজ করেছেন। আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও নিরাপত্তা বিষয়ক তার বেশ কয়েকটি বিশ্লেষণী প্রতিবেদন আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। তার লেখা "প্রিজনার্স: আ স্টোরি অফ ফ্রেন্ডশিপ অ্যান্ড টেরর" বইটি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং নিরাপত্তার বিষয়ে তার গভীর অন্তর্দৃষ্টি প্রতিফলিত করে।
আর এই সবের মাঝে গোল্ডবার্গের হঠাৎ করে এমন সাংঘাতিক গ্রুপে অ্যাড হয়ে যাওয়া যে ভীষণ চর্চায় চলে এসেছে তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। এই সাম্প্রতিক ঘটনা আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তার দুর্বলতাগুলোর দিকে নতুন করে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল থেকে প্রশাসন কী শিক্ষা নেবে, তা এখন দেখার বিষয়।












Click it and Unblock the Notifications