ইরানের স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, প্রাথমিক তদন্তে আমেরিকার দিকেই আঙুল
ইরানের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় এবার সরাসরি আমেরিকার ভূমিকার ইঙ্গিত মিলেছে। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, ওই হামলায় ব্যবহৃত প্রাণঘাতী টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রটি ছুড়েছিল মার্কিন বাহিনীই। মার্কিন প্রশাসনের একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
ঘটনাটি ঘটে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথভাবে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করার প্রথম দিনেই। ইরানের মিনাব শহরের শাজারা তায়েব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আচমকা এসে পড়ে একটি ক্ষেপণাস্ত্র। সেই হামলায় প্রাণ হারান অন্তত ১৫০ জনেরও বেশি মানুষ। নিহতদের অধিকাংশই ছিল ওই স্কুলের ছাত্রী।

প্রথম দিকে হামলার জন্য আমেরিকা ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও কোনও দেশই দায় স্বীকার করেনি। পরে জানা যায়, ঘটনাস্থলে যে ক্ষেপণাস্ত্রটি ব্যবহার করা হয়েছিল তা ছিল টমাহক। এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র প্রধানত ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও বিশ্বের আরও কয়েকটি দেশের অস্ত্রভাণ্ডারে এটি থাকলেও ইজরায়েলের কাছে এই ক্ষেপণাস্ত্র নেই বলে জানা যায়।
বর্তমানে ঘটনাটির তদন্ত চালাচ্ছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর। তদন্তের সঙ্গে যুক্ত সূত্রের দাবি, ভুল তথ্যের ভিত্তিতেই এই হামলা চালানো হয়েছিল। জানা গেছে, ওই স্কুলের কাছেই একটি ইরানি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছিল মার্কিন বাহিনী। তবে যে ভবনে এখন স্কুলটি রয়েছে, সেটি আগে ইরানের সেনাঘাঁটির অংশ ছিল বলে পুরনো গোয়েন্দা তথ্যের উল্লেখ পাওয়া যায়। সেই তথ্যের উপর নির্ভর করেই মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল বলে অভিযোগ।
তবে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বক্তব্য, এগুলি এখনও প্রাথমিক তদন্তের তথ্য মাত্র। কেন সেই পুরনো গোয়েন্দা তথ্য নতুন করে যাচাই করা হয়নি, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি। মার্কিন তদন্তের পাশাপাশি কয়েকটি স্বাধীন সংস্থাও বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। এর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক অনুসন্ধানকারী সংগঠন বেলিংক্যাট। তাদের প্রাথমিক বিশ্লেষণেও হামলার জন্য আমেরিকার দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে।
এদিকে, এই ঘটনার পর মার্কিন প্রশাসনের উপর চাপ আরও বেড়েছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখেও পড়তে হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। যদিও তিনি জানিয়েছেন, পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে ও চূড়ান্ত রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত কিছু বলা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র শুধু আমেরিকার কাছেই নেই, অন্য দেশগুলির কাছেও রয়েছে। যদিও পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতে জড়িত দেশগুলির মধ্যে এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ইতিহাস রয়েছে মূলত আমেরিকারই।












Click it and Unblock the Notifications