সোভিয়েত ইউনিয়নের শেষ প্রেসিডেন্ট মিখাইল গর্বাচেভ, দীর্ঘ জীবনের উত্থান-পতন

সোভিয়েত ইউনিয়নের শেষ প্রেসিডেন্ট তিনি। তারপরই ছত্রখান হয়ে গিয়েছিল ইউরেশিয়ার এই বৃহত্তম দেশ। মানচিত্র থেকে মুছে গিয়েছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন। জন্ম নিয়েছিল অনেক রাশিয়া-সহ আরও ছোটো ছোটো দেশের।

সোভিয়েত ইউনিয়নের শেষ প্রেসিডেন্ট তিনি। তারপরই ছত্রখান হয়ে গিয়েছিল ইউরেশিয়ার এই বৃহত্তম দেশ। মানচিত্র থেকে মুছে গিয়েছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন। জন্ম নিয়েছিল অনেক রাশিয়া-সহ আরও ছোটো ছোটো দেশের। সোভিয়েতের সেই শেষ প্রেসেডেন্টের জীবনাবসান হল। পশ্চিমা দেশগুলিতে তিনি শ্রদ্ধেয় ও জনপ্রিয় থাকলেও রাশিয়ানদের দ্বারা সমালোচিতও হতে হয়েছিল তাঁকে।

সোভিয়েতের শেষ প্রেসিডেন্ট মিখাইল গর্বাচেভের উত্থান-পতন

প্রাক্তন সোভিয়েত নেতা মিখাইল গর্বাচেভ ৯১ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন। তিনি তাঁর রাজনৈতিক জীবনে বহু উত্থান-পতনের সাক্ষী থেকেছেন। তাঁর আমলেই সংস্কারসাধন হয়েছিল যুদ্ধ পরিস্থিতিতে। পারমানবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা ও স্নায়ুযুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছিলেন তিনি। অসম্ভব জনপ্রিয় ছিলেন এবং ছিলেন শ্রদ্ধার পাত্র। তাঁকে গরবি নামে ডাকতেন সোভিয়ের ইউনি্য়নের মানুষজন।

গর্বাচেভ অনেক উপায়ে সোভিয়েত নেতা জোসেফ স্ট্যালিনের ন্যায়ের দণ্ড হাতে তুলে নিয়েছিলেন। পূর্ব ইউরোপের বেশিরভাগ অংশকে তিনি মস্কোর উপগ্রহের একটি ব্লকে পরিণত করেছিলেন। এবং তিনিই প্রথম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন। তিনি পেরেছিলেন স্ট্যালিনের যোগ্য উত্তরসূরি হয়ে উঠতে।

তিনি তাঁর কাজকে সোভিয়েত প্রতিষ্ঠাতা ভ্লাদিমির লেনিনের নীতিতে প্রত্যাবর্তন এবং ব্যর্থ কমান্ড অর্থনীতির পুনর্গঠন এবং কঠোর কমিউনিস্ট মতবাদকে মানবিক করার প্রচেষ্টা করেছিলেন। ২০১১ সালের পেরেস্ত্রোইকার ২৫তম বার্ষিকীতে তিনি বলেছিলেন তত্ত্বে এবং অনুশীলনে আমরা লেনিনের উত্তরাধিকারে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করেছি।

১৯৮০-র দশকের শেষের দিকে তিনি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক মহাশক্তিধর হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর পা ছিল মাটিতেই। তিনি সোভিয়েতকে এক সুরে বেঁধে দিয়েছিলেন। দেখিয়েছিলেন মুক্ত প্রজাতন্ত্রের অটুট মিলন কী! তবুও ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন হয়েছিল। তিনি একতার সুর বেঁধেও পারেননি সোভিয়েত ইউনিয়নকে এক রাখতে। সোভিয়েতের অর্থনীতিও তিনি সচল রাখতে পারেননি। রেকর্ড নিম্ন তেলের দাম প্রত্যাঘাত করেছিল সোভিয়েত অর্থনীতিকে।

সোভিয়েতের শেষ প্রেসিডেন্ট মিখাইল গর্বাচেভের উত্থান-পতন

গর্বাচেভের অভ্যন্তরীণ নীতির জন্য আরও বেশি প্রাণঘাতী ছিল তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বরিস ইয়েলতসিনের মধ্যে লড়াই। তিনি ইউএসএসআরের বাকি ইংশ থেকে রাশিয়ার স্বাধীনতা ঘোষণা করে দিয়েছিলেন। যদিও রাশিয়া-সহ ৯টি সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রই ১৯৯১ সালের গমভোটে একসঙ্গে থাকার পক্ষে রায় দিয়েছিল।

গর্বাচেভের ভালো উদ্দেশ্যও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নে আন্তঃজাতিগত সংঘাতের পথ প্রশস্ত করেছিল। রাশিয়া এবং ১৪টি সদ্য স্বাধীন দেশ এক দশকের বেদনাদায়ক অর্থনৈতিক উত্তরণ ও রাজনৈতিক উত্থানের পথ বেছে নিয়েছিল। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের অধীনে রাশিয়া যুদ্ধ, নব্য রক্ষণশীল জাতীয়তাবাদের দিকে প্রবাহিত হতে শুরু করে। কিরগিজস্তান, জর্জিয়া এবং ইউক্রেনে পশ্চিমাপন্থী দেশগুলি একক-মেয়াদি রাষ্ট্রপতি স্থাপন করে।

গর্বাচেভের পতনে লাভ হয় পশ্চিমা দেশগুলির। মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের দেশগুলি এখনও গর্বাচেভের বিকল্প কেউ নেই বলে মনে করেছ। গর্বাচেভের নেতৃত্বাধীন সাবেক সোভিয়েতকে এখনও তাঁরা স্বর্ণযুগ বলে মনে করে। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁরা সেই ভবিষ্যতের দিশারি। অনেক রাশিয়ান তাঁর শাসনের অবসানে গভীরভাবে হতাশ হয়ে পড়েছিল।

গর্বাচেভের উত্থানের পিছনে ছিল একটি বিনয়ী পটভূমি। তিনি সম্মিলিতকরণের ফলে সৃষ্ট দুর্ভিক্ষের দিনে রাশিয়ান এবং ইউক্রেনীয় বংশোদ্ভূত একটি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ১৯৩১ সালের ২ মার্চ। তারপরউ জক্ষিণ রাশিয়ার প্রিভলনয়ে গ্রামকে ধ্বংস করে দিয়েছিল। ১৯৩০-এ গ্রেট পার্জের সময়ে তাঁর দুই দাদাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ফলে জন্মের সময় থেকেই পরিবারকে সংগ্রাম করতে দেখেছেন। তিনি ১৫ বছর বয়সে একটি কম্বাইল হারবেস্টার পরিচালনা শুরু করেন। তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রম তাঁকে একটি সরকারি পুরস্কার এনে দেয়ষ। মস্কো স্টেট ইউনিভার্সিটিতে আইন পড়ার সুযোগ পেয়ে যান তিনি।

১৯৭১ সালে গর্বাচেভ কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সর্বকনিষ্ঠ সদস্য হন। ১৯৭৮ সালে তিনি তাঁর স্ত্রী রাইসা ও কন্যা ইরিনাকে নিয়ে মস্কো চলে আসেন। তিনি তখন লক্ষ করেছিলেন অস্ত্রের প্রতিযোগিতা সোভিয়েত অর্থনীতিকে শুষ্ক করে দিয়েছে। সোবিয়েত নেতা লিওনিড ব্রেজনেভ ১৯৮২ সালে ৭৭ বয়সে মারা যাওয়ার পর আরও দুই প্রবীণ নেতার মৃত্যু হয়। তারপরই ১৯৮৫ সালে গর্বাচেভ কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এবং তিনি হয়ে ওঠেন সোভিয়েত নেতা। ৫৪ বছর বয়সে বিশ্বের তৃতীয় সর্বাধির জনবহুল দেশের নেতৃত্বে উঠে আসেন তিনি। য়ে দেশের ৫ মিলিয়ন সৈন্য ও অফিসারদের নিয়ে গঠিত বাহিনী বিশ্বের গর্ব ছিল।

গর্বাচেভ সোভিয়েতের কুর্সিতে বসে বুঝতে পেরেছিলেন সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা। স্কান্ডেনেভিয়ান সামাজিক গণতান্ত্রিক মডেল দ্বারা তিনি অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। তাঁর প্রথম পদক্ষেপগুলোই তাঁকে জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছে দিয়েছিল। তিনি অ্যালকোহলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছিলেন অবং দ্রাক্ষাক্ষেত্রগুলি কেটে ফেলার নির্দেশ দেন তিনি। ১৯৮৬ সালে তিনি সোভিয়েত অর্থনীতির পুনর্গঠনের কথা ঘোষণা করেছিলেন।

এর মধ্যে গর্বাচেভ জাতিগত উত্তেজনা, ছত্র দাঙ্গা ও বাল্টিক রাজ্যে মস্কো ছেকে স্বাধীনতা ঘোষণার প্রচেষ্টা দমন করতে সেনা মোতায়েন করেছিলেন। সেটি তাঁর ভুল পদক্ষেপ বলে বিবেচিত হয়। এর ফলে তাঁকে সমালোচিতও হতে হয়। সেই থেকেই সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পথ সুগম হতে শুরু করে। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন হয়। রাশিয়-সহ ১৪টি পৃথক দেশে ভাগ হয়ে যায় সোভিয়েত ইউনিয়ন।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+