ভোট বাতিল করতেই খুন, শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে ঘিরে ইউনূস প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ
বাংলাদেশের রাজনীতি ফের অগ্নিগর্ভ। তরুণ নেতা শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে নতুন করে অস্থিরতা ছড়িয়েছে। এই হত্যার নেপথ্যে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র রয়েছে এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন নিহত নেতার ভাই ওমর হাদি। তাঁর দাবি, মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী প্রশাসনই এই হত্যার দায় এড়াতে পারে না।
ইনকিলাব মঞ্চ আন্দোলনের মুখপাত্র, কবি ও সক্রিয় যুবনেতা শরিফ ওসমান হাদি গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় একটি নির্বাচনী প্রচার কর্মসূচিতে গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই দেশজুড়ে শুরু হয় বিক্ষোভ, সংঘর্ষ ও উত্তেজনা। হাদির ভাই ওমর সরাসরি শাসকগোষ্ঠী ও অন্তর্বর্তী সরকারের দিকে আঙুল তুলে বলেন, বিচার দিতে না পারলে ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই।

প্রশাসনকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তাঁর বক্তব্য, "আপনারা যদি ন্যায়বিচার দিতে না পারেন, তাহলে দেশ ছেড়ে চলে যেতে হবে।" তাঁর অভিযোগ, হাদিকে সামনে রেখে আসন্ন নির্বাচন বাতিলের পথ প্রশস্ত করতেই এই হত্যাকাণ্ড। "আপনারাই ওসমান হাদিকে খুন করেছেন, এখন তাকেই অজুহাত করে ভোট বন্ধ করতে চান" এই প্রশ্নে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি।
কড়া নিরাপত্তার মধ্যে হাদির শেষকৃত্যে হাজির হন লক্ষাধিক মানুষ। শোকযাত্রায় বারবার ধ্বনিত হয় স্লোগান "হাদির রক্ত বৃথা যাবে না।" জুলাই ২০২৪-এর গণআন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়া হাদি শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর নতুন রাজনৈতিক প্রজন্মের কণ্ঠস্বর হিসেবে উঠে এসেছিলেন।
আগামী ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে তাঁকে সম্ভাবনাময় নেতা হিসেবেই দেখছিলেন বহু মানুষ।
ওমর হাদি আবারও দাবি জানান, ভাইয়ের হত্যার সঙ্গে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনতে হবে। তাঁর কণ্ঠে দৃঢ় প্রত্যয় হাদি কখনও মাথা নত করেননি। সেই দৃঢ়তাই আজ রাজপথে প্রতিবাদী মানুষের কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে, ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতার দাবিতে।












Click it and Unblock the Notifications