প্রয়াত খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকা যাচ্ছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর
মঙ্গলবার সকালে ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপার্সন ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর এই প্রয়াণে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। বিএনপির প্রেস উইং থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, “বিএনপি চেয়ারপার্সন এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই।”
বাংলাদেশের রাজনীতিতে খালেদা জিয়া এক অন্যতম প্রভাবশালী ও আলোচিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্ত্রী এবং ১৯৯১ সালে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। কয়েক দশক ধরে তিনি দেশের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন এবং শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ ও তিক্ত রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বেগম খালেদা জিয়ার শেষকৃত্যে যোগ দিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা জানাতে ঢাকা পৌঁছবেন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে অভ্যুত্থানের নেতা শরীফ ওসমান হাদীর মৃত্যুর পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের মধ্যে কিছুটা টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছিল, তাই এই ধরনের সংকটময় মুহূর্তে জয়শঙ্করের এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে 'এক্স’ প্ল্যাটফর্মে একটি বার্তা দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত। তাঁর পরিবার এবং বাংলাদেশের সকল জনগণের প্রতি আমাদের আন্তরিক সমবেদনা। ঈশ্বর যেন তাঁর পরিবারকে এই মর্মান্তিক ক্ষতি সহ্য করার শক্তি দেন।”
মোদী তাঁর বার্তায় আরও উল্লেখ করেছেন, “বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক সুদৃঢ়করণে তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।” দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকার কথা বিশেষভাবে স্মরণ করেছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী মোদী ২০১৫ সালে ঢাকায় খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাঁর উষ্ণ সাক্ষাতের কথাও স্মরণ করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা আশা করি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ও উত্তরাধিকার আমাদের পার্টনারশিপকে ভবিষ্যতেও পথ দেখাবে। তাঁর আত্মা শান্তি লাভ করুক।” এর আগে ডিসেম্বরের গোড়ার দিকে মোদী খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন এবং ভারত "সবরকম সম্ভাব্য সহায়তা" দিতে প্রস্তুত বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন।












Click it and Unblock the Notifications