জাপানে টানা তিনদিন ভূমিকম্প, জারি মেগাকোয়েক-এর সতর্কতা
ফের এদিন বুধবার জাপানে ৬.৫ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ৫.৯। মাটি থেকে গভীরতা ছিল ৩০ কিলোমিটার। মূলত দেশের পূর্বাঞ্চলীয় আওমরি ও হোক্কাইদো প্রদেশে এই কম্পন অনুভূত হয়। সর্বশেষ এই ভূকম্পনের পর কোনও সুনামি সতর্কতা জারি হয়নি।
তবে এর আগে গত সোমবার ৭.৬ মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্পে জাপান কেঁপে ওঠে। এতে এখনও পর্যন্ত ৫১ জন আহত হয়েছেন, সংখ্যাটি এখনও বাড়ছে। ওই ভূমিকম্পে বাড়ি, রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ৭০ সেন্টিমিটার (২৮ ইঞ্চি) পর্যন্ত উচ্চতার সুনামি ঢেউ সৃষ্টি হয়েছে। পরের দিন, মঙ্গলবার হনচো শহরে ৬.৭ মাত্রার আরও একটি কম্পন অনুভূত হয়।

সোমবারের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর, মঙ্গলবার জাপান মেটিওরোলজিক্যাল এজেন্সি (জেএমএ) বিরল "মেগাকোয়েক অ্যাডভাইজরি" জারি করেছে। সংস্থাটি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ৮-এর বেশি মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের উচ্চ সম্ভাবনার সতর্কবার্তা দিয়েছে। এএফপি জানিয়েছে, কর্তৃপক্ষও আগামী দিনগুলিতে আরও বড় কম্পনের আশঙ্কা করছে। জেএমএ জানায়, "এই ভূমিকম্পের কারণে, ওই অঞ্চলে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় একটি নতুন বড় মাত্রার ভূমিকম্পের আপেক্ষিক সম্ভাবনা বেড়েছে।"
জাপানি সংস্থাটি উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের সর্বদা সতর্ক থাকতে, জরুরি সামগ্রী প্রস্তুত রাখতে এবং প্রয়োজনে দ্রুত সরিয়ে নিতে পরামর্শ দিয়েছে। তারা আরও যোগ করেছে, "যদি ভবিষ্যতে একটি বড় মাত্রার ভূমিকম্প হয়, তবে ওই এলাকায় বিশাল সুনামি আসার বা তীব্র কম্পন অনুভব করার সম্ভাবনা রয়েছে।"
জেএমএ জানিয়েছে, সোমবারের ভূমিকম্প হোক্কাইদো-সানরিকু উপকূলে ভূমিকম্পের ঝুঁকি বাড়িয়েছে। এই অঞ্চলে প্রশান্ত মহাসাগরীয় প্লেট জাপানের নিচে ডুবে জাপান ট্রেঞ্চ এবং চিশিমা ট্রেঞ্চ গঠন করে, যা জাপানে অনেক বড় ভূমিকম্পের উৎস।
এজেন্সিটি আরও জানিয়েছে, ২০১১ সালের ৯.০ মাত্রার মেগাকোয়েকের মাত্র দুই দিন আগেও একই অঞ্চলে ৭.৩ মাত্রার কম্পন হয়, যা এই সপ্তাহের পরিস্থিতির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।












Click it and Unblock the Notifications