ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ জয়শঙ্করের, ভেনেজুয়েলার মানুষের কল্যাণ চায় ভারত
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করল ভারত। মঙ্গলবার এই বিষয়ে প্রথম প্রকাশ্য ও স্পষ্ট মন্তব্য করেন বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর। তিনি জানিয়েছেন, ভারতের মূল ভাবনা ভেনেজুয়েলার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও কল্যাণ।
লুক্সেমবার্গের উপ প্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী জাভিয়ের বেতেলের সঙ্গে বৈঠকের ফাঁকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জয়শঙ্কর বলেন, "ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক ঘটনাবলিতে আমরা উদ্বিগ্ন। সব পক্ষের উচিত আলোচনার টেবিলে বসে এমন একটি সমাধানে পৌঁছনো, যাতে সে দেশের মানুষের নিরাপত্তা ও মঙ্গল সুনিশ্চিত হয়।" তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন, ভেনেজুয়েলার সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রয়েছে ও ভারত চায় সে দেশের মানুষ এই সংকট থেকে নিরাপদে বেরিয়ে আসুক।

এর আগেই রবিবার বিদেশ মন্ত্রক (এমইএ) এক বিবৃতিতে ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতিকে 'গভীর উদ্বেগের বিষয়' বলে উল্লেখ করে। জানানো হয়, ঘটনাপ্রবাহের উপর নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে ও ভারত শান্তিপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের পক্ষেই রয়েছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখার উপর জোর দেওয়া হয়।
বিদেশ মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, কারাকাসে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস সেখানে বসবাসকারী ভারতীয়দের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে ও প্রয়োজন অনুযায়ী সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা হবে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে শনিবার ভেনেজুয়েলা নিয়ে একটি ট্রাভেল অ্যাডভাইজরিও জারি করে বিদেশ মন্ত্রক। তাতে ভারতীয় নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, যাঁরা ইতিমধ্যেই ভেনেজুয়েলায় রয়েছেন, তাঁদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে, চলাচল সীমিত রাখতে এবং কারাকাসে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখতে বলা হয়েছে।
এদিকে, ভেনেজুয়েলায় মার্কিন বিমান হামলা ও ক্ষমতাচ্যুত নেতা নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীর গ্রেপ্তারি প্রসঙ্গে ভারতের প্রতিক্রিয়াকে 'সংযত ও পরিমিত' বলে ব্যাখ্যা করেছেন প্রাক্তন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত ওয়াই কে সিনহা। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের দিকটি মাথায় রেখেই নয়াদিল্লিকে সতর্ক অবস্থান নিতে হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ইউরোপীয় দেশগুলির বেশিরভাগই এই ঘটনায় সাবধানী প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, যদিও চিন ও রাশিয়া সরাসরি একটি সার্বভৌম দেশের উপর হামলার নিন্দা করেছে।












Click it and Unblock the Notifications