প্রতিশোধের ডাক ইরানের, শেষ না করা পর্যন্ত থামব না ট্রাম্পের হুঙ্কারে মধ্যপ্রাচ্যে মহাযুদ্ধের আশঙ্কা
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যুদ্ধের কালো মেঘ আরও ঘন হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে ইরান। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শীঘ্রই ইরানের জনগণের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে পারেন বলে জানা গেছে। ওয়াশিংটনের তরফে স্পষ্ট বার্তা যুদ্ধ 'শেষ না করা পর্যন্ত' অভিযান থামবে না।
রবিবার ভোর থেকে ইরানের বিভিন্ন প্রান্তে একযোগে হামলা চালায় মার্কিন ও ইজরায়েলি বাহিনী। লক্ষ্য ছিল ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ও কৌশলগত সামরিক স্থাপনা। রাজধানী তেহরানে একের পর এক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে ভবন, আকাশ ঢেকে যায় ধোঁয়ার কুণ্ডলীতে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, এই অভিযানে ৫৫০ এরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়তুল্লা আলী খামেনি একাধিক শীর্ষ সামরিক আধিকারিক।

ইরানের সামরিক নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। 'শহিদ' সর্বোচ্চ নেতার রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না এমন বার্তাই শোনা যাচ্ছে তেহরান থেকে। পাল্টা আক্রমণে উপসাগরীয় অঞ্চলেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত সহ একাধিক দেশে হামলা জোরদার করেছে ইরান। দুবাই বিমানবন্দর, বুর্জ খলিফা, বাহরিন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি।
অন্যদিকে মার্কিন সেনাবাহিনীর ঘোষণা, তারা ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সদর দপ্তর গুঁড়িয়ে দিয়েছে। এই হামলাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তীব্র হয়েছে। পরিস্থিতি ক্রমশ পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা কূটনৈতিক মহলের।
এই প্রেক্ষাপটে বিস্ফোরক দাবি করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তাঁর কথায়, 'অপারেশন এপিক ফিউরি' তে একযোগে ৪৮ জন শীর্ষ ইরানি নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের নৌবাহিনীর নয়টি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস ও নৌ সদর দপ্তরের বড় অংশ ভেঙে দেওয়ার কথাও জানান তিনি। তবে সংঘর্ষে মার্কিন বাহিনীরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কমপক্ষে তিন মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে, পাঁচজন গুরুতর জখম। আরও কয়েকজন সামান্য আহত হলেও দ্রুত তাদের ফের দায়িত্বে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে।
রক্তক্ষয়ী এই সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্য এখন অগ্নিগর্ভ। কূটনৈতিক সমাধানের পথ কতটা খোলা, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে আন্তর্জাতিক মহলে। বিশ্বজুড়ে নজর এখন তেহরান ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।












Click it and Unblock the Notifications