হিজাব না পরার অপরাধ, পুলিশি হেফাজতে তরুণীর মৃত্যু কেন্দ্র করে বিক্ষোভে ফুঁসছে ইরান
পুলিশি হেফাজতে তরুণীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইরান জুড়ে বিক্ষোভ
ইরানে এক তরুণীর মৃত্যুকে ঘিরে নতুন করে দেশ জুড়ে প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছে। হিজাব না পরার জন্য ইরানের নীতি পুলিশ এক তরুণীকে গ্রেফতার করে। ওই তরুণীর মৃত্যুর পর ইরানের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়তে থাকে। বিক্ষোভে মহিলারা হিজাব খুলে প্রতিবাদ দেখায়। সেখানে 'ইসলামিক গণতন্ত্রের মৃত্যু' বলে স্লোগান দিতে থাকেন। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা জানিয়েছে, সোমবার ইরানে মহিলাদের বিক্ষোভের ওপর পুলিশ গুলি চালায়। ঘটনায় পাঁচ মহিলার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমগুলো ইরানে বিক্ষোভকারী পাঁচ মহিলার মৃত্যুর দাবি অস্বীকার করেছে।

ইরানের রাজধানী তেহরান থেকে পুলিশ মাহাসা আমিনিকে হিজাব না পরার জন্য গ্রেফতার করেছিল। এরপরে কোমায় চলে যান আমিনি। পরে ইরানের কুর্দিস্তান প্রদেশের আমিনির মৃত্যুর হয়। তবে ইরান প্রশাসন বা পুলিশের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত্যুর কোনও খবর প্রকাশ করেনি। ইরানের পুলিশ দাবি করে, আমিনি যখন অন্যান্য বন্দিদের সঙ্গে অপেক্ষা করছিলেন, তখন অসুস্থ পড়েছিলেন। অন্যদিকে, আমিনির বাবা জানিয়েছেন, তাঁর মেয়ের কোনও শারীরিক সমস্যা ছিল না। পায়ে একটা ক্ষত ছিল। ইরান পুলিশ দাবি করেছে, ক্ষতের জন্য মৃত্যু হয়েছে।
আমিনির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইরানের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ইরানির সরকারি সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ জানিয়েছে, ইরানের সাতটি প্রদেশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ সেই বিক্ষোভকে ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে। অন্যদিকে, ইরানেররাষ্ট্রীয় টেলিভিশন দাবি করেছে, পুলিশ বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে। বিক্ষোভের সময় দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে ইরান পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। তবে ইরান পুলিশ জানিয়েছে, ওই দুই যুবকের মৃত্যু হয়নি। আমিনির নিন্দায় দেশব্যাপী নিন্দার ঝড় উটতে শুরু করেছে। টুইটারে মাহাসা আমিনি ট্যাগে ইতিমধ্যে দুই মিলিয়ন টুইট হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ইরানের কুর্দি অঞ্চলে বিক্ষোভ সব থেকে জোড়াল ছিল। কুর্দিস্তানে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করেছেন। সেখানে পুলিশ বিক্ষোভ প্রশমিত করতে বল প্রয়োগ করে বলে অভিযোগ। ঘটনায় ৭৫ জন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন। সম্প্রতি একটি ভিডিও ইন্টারনেটে ছডিয়ে পড়েছে। সেখানে বিক্ষোভ দমন করতে পুলিশকে নির্বিচারে বিক্ষোভকারীদের ওপর আক্রমণ করতে দেখা যায়। টুইটারে এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ইরানে বিক্ষোভের ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। তেহরান ছাড়াও রাশত, মাশহাদ এবং ইসফাহানের মতো শহরে ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভ। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভের একাধিক ছবিতে কখনও দেখা যাচ্ছে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের জানলার কাঁচ পাথর ছুঁড়ে ভেঙে দিচ্ছে। কোথাও আবার বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে জলকামান ব্যবহার করা হচ্ছে। বিক্ষোভে এক মহিলাকে বলতে দেখা গিয়েছে স্বৈরাচারী শাসকের মৃত্যু হোক।
তেহরানের পুলিশ কমান্ডার হোসেন রাহিমি বলেন, পুলিশের বিরুদ্ধে কাপুরুষচিত অভিযোগ করা হয়েছে। আমিনিকে পুলিশ নিগ্রহ করেনি। ওকে শারীরিকভাবে কোনও আঘাত করা হয়। ইরান পুলিশ আমিনিকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এই ধরনের ঘটনা দুর্ভাগ্যজনক বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। এই বিষয়ে একটি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করেছে তেহরান পুলিশ।












Click it and Unblock the Notifications