দেশের অর্থনীতিকে আঘাত করে ভারতের জবাব, পাক সরকারের অর্থনীতি কোন পথে দেখে নেওয়া যাক
দেশের অর্থনীতিকে আঘাত করে ভারতের জবাব, পাক সরকারের অর্থনীতি কোন পথে দেখে নেওয়া যাক
সম্প্রতি করোনা মহামারি মোকাবিলায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান প্রস্তাব দিয়েছেন, প্রয়োজনে তাঁরা ভারতকে টাকা দিয়ে সাহায্য করবে। যদিও পাকিস্তানকে মোক্ষম জবাব দিয়ে ভারত জানিয়েছে যে পাকিস্তানের গোটা দেশের যা জিডিপি, তা এ দেশের 'করোনা ত্রাণ প্যাকেজ’–এর সমান। ফলে পাকিস্তানের সাহায্যের কোনও দরকারই নেই ভারতের।

দেশের অর্থনীতির জন্য নওয়াজ শরিফের সরকারও দায়ি
এরপরই পাক সরকার তাদের অর্থনৈতিক অবস্থান প্রকাশ করে। প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক ও রাজস্ব উপদেষ্টা ডঃ আব্দুল হাফিজ শেখ অর্থনৈতিক সমীক্ষা করে জানিয়েছেন যে পাকিস্তানের ঋণ জিডিপির ৮৮% বৃদ্ধি পাবে এবং গত ৬৮ বছরে এই প্রথমবার অর্থনীতির হাল ০.৪ শতাংশ সঙ্কুচিত হবে। আইএমএফ ও বিশ্ব ব্যাঙ্কের সঙ্গে পাকিস্তানের চুক্তি এই আর্থিক বছরের এ মাসের শেষে শেষ হয়ে যাচ্ছে এবং তারা পুনরায় ২.৬ শতাংশ পর্যন্ত চুক্তি করবে। ডঃ শেখ দেশের অর্থনৈতিক হালের জন্য অনেকাংশে দায়ি করেছেন ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত শাসনে থাকা নওয়াজ শরিফের মুসলিম লিগ এন সরকারকে। নতুন পাকিস্তানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এরপর ক্ষমতায় আসেন ইমরান খান।

ইমরান খানের প্রভাব কমছে
প্রসঙ্গত সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় ইমরান খান, মাঝে মাঝেই ভারতের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে টুইট করলেও নিজের সরকারের অর্থনীতির রিপোর্ট কার্ড তিনি টুইট করেননি। দিল্লিতে থাকা পাকিস্তানের এক পর্যবেক্ষক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান নিজেকে বাক্সবন্দী করে নিচ্ছেন, তার রাজনৈতিক প্রতিরোধকারীরা, সেনাবাহিনী যেটি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, অর্থনীতি এবং কাশ্মীরের এজেন্ডার জন্য।' মাত্র দু'বছরের মধ্যে, সরকারের অভ্যন্তরে ছাড়া প্রধানমন্ত্রী খানের প্রভাব তীব্রভাবে হ্রাস পেয়েছে। এর মধ্যে সেনাবাহিনীও রয়েছে, পাকিস্তানের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, যারা ছোট ছোট জোটের শরিকদের সমর্থন পেতে ইমরানকে খানকে পেছন থেকে সহায়তা করেছিল। এ সপ্তাহে প্রকাশিত একটি রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে যে এক ডজনেরও বেশি প্রাক্তন ও সামরিক কর্মকর্তাকে বিশিষ্ট ভূমিকায় নিয়োগের জন্য ইমরানের সরকারের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করছে সেনা। জানা গিয়েছে, অবসরপ্রাপ্ত প্রাক্তন লেফটেন্যান্ট জেনারেল অসীম বাজওয়া, যিনি ইতিমধ্যেই চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর প্রশাসনের চেয়ারম্যান, তাঁকে দ্বিতীয় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ বছরের এপ্রিলে জেনারেল বাজওয়া, যিনি ২০১২ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত আইএসপিআরের নেতৃত্বে ছিলেন, তাঁকে ইমরান খানের যোগাযোগ পরামর্শদাতা পদে নিয়োগ করা হয়েছে। এই বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলি ইঙ্গিত করে যে পাক সেনারা এখন আর ইমরানের সঙ্গে একই নৌকায় নেই।

প্রধানমন্ত্রী–সেনার মত বিরোধ
পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান যে মাঠের বাইরে চলে গিয়েছেন তার স্পষ্ট ইঙ্গিত মেলে মার্চে। যেখানে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ঘোষণা করেন যে দেশের লক্ষাধিক মানুষ চাকরি হারাচ্ছেন এবং গরীবদের দুর্দশা বাড়ায় তিনি এই লকডাউন সমর্থন করছেন না। ২৪ ঘণ্টার কম সময়ের মধ্যেই পাক সেনা জানায় যে সংক্রমণ যাতে না ছড়িয়ে পড়ে তার জন্য তারা লকডাউনের ওপর নজরদারি রাখবে। লকডাউন কার্।কর করার জন্য মোতায়েন করা হয় সেনা। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাদের বিশ্বাস, সরকারে বিদেশমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশির ক্রমবর্ধমান ভূমিকার দিকেই সেনাবাহিনী চেয়ে রয়েছে।

কাশ্মীর সমস্যা
পাকিস্তানের অর্থনীতি নিম্নগামী হওয়ার পেছনে আরও একটি কারণ হল পাকিস্তান ও বিশ্বের দরবারে কাশ্মীর সমস্যার ওপর মনোযোগ দিতে ব্যর্থ হয়েছেন ইমরান খান। ভারত সরকারের এক আধিকারিক এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বা অন্য কোনভাবে কাশ্মীরকে দেশীয় উত্থান থেকে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পাকিস্তান দীর্ঘকাল ধরে ব্যবহার করে আসছে। কিন্তু এটা আর গত বছর সম্ভব হয়ে ওঠেনি বহু প্রচেষ্টা সত্ত্বেও।' সন্ত্রাসবাদী তহবিল নজরদারি এফএটিএফ-এর মতো বহুপক্ষীয় সংস্থাগুলির চাপের কারণে যেখানে পাকিস্তান কালো তালিকাভুক্ত হওয়ার ঝুঁকির মুখোমুখি, ইমরান খান সরকার কাশ্মীরকে প্রকাশ্যে সমর্থন করার পক্ষে পুরোপুরি বাইরে যেতে পারছে না। এর পাশাপাশি দিল্লি ২০১৬ সালে উরি সার্জিক্যাল স্ট্রাইক ও ২০১৯ সালে বালাকোট বিমান হামলা দিয়ে পাকিস্তানকে বুঝিয়ে দিয়েছে যে সন্ত্রাস হমলা আর বরদাস্ত করা হবে না এবং তা হলে পাকিস্তানকেও পাল্টা হামলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

অর্থনীতির দিকে মনোনিবেশ করেননি ইমরান খান
অর্থনীতির প্রতি নির্লজ্জ দৃষ্টিভঙ্গি প্রধানমন্ত্রী খানের সমস্যাকে এত বড় করে তুলেছে। বৃহস্পতিবারের অর্থনৈতিক সমীক্ষা, খবরের সংস্থা রয়টার্সে প্রকাশিত হয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী খানের সরকার বিশ্বব্যাপী নতুন করোনা ভাইরাস মহামারির আগেও প্রায় সকল অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা বিস্তৃত ব্যবধানে হারিয়ে ফেলেছিল। করোনা ভাইরাস মহামারি জনিত কারণে কমপক্ষে ১০ মিলিয়ন মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নামবে বলে আশা করা হচ্ছে এবং ৬০ মিলিয়ন মানুষকে লড়াই করে বেঁচে থাকতে হচ্ছে। প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের সেনারই সমর্থনে ৮৬ শতাংশ জনমত নিয়ে পাকিস্তান শাসন করতে বসেছিলেন ইমরান খান। চোখে ছিল নয়া পাকিস্তান গড়ার লক্ষ্য। কিন্তু গত তিনবছরে দেশের আর্থিক হাল ফেরেনি বরং উল্টে আরও খারাপের দিকে গিয়েছে। লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি, ইমরানের ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও তা কড়া হাতে দমন করতে ব্যর্থ হয়েছেন পাক প্রধানমন্ত্রী। এইসবের জন্য দেশের জনসংখ্যার বড় অংশ ইমরানের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। সরকার-প্রশাসনেও তাঁর রাশ আলগা হচ্ছে। আর সেই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে পাক সেনা।












Click it and Unblock the Notifications