পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের আঁচে সতর্ক ভারত, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জ্বালানি মজুতের খোঁজে তৎপর কর্তৃপক্ষ
পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে যুদ্ধের মেঘ। ইরান, আমেরিকা ও ইজরায়েলের সংঘাতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গোটা অঞ্চল। হামলা ও পাল্টা হামলার জেরে বহু দেশের আকাশসীমা আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ। বন্ধ হয়েছে একাধিক বিমানবন্দরও। এই অস্থির পরিস্থিতিতে ভারতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলিতে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে উদ্যোগী হয়েছে এয়ারপোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া।
সংবাদসংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়া সূত্রে জানা গিয়েছে, অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের নির্দেশে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে দেশের সব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে আগামী সাত দিনের জ্বালানি চাহিদা ও মজুত সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। গড়ে প্রতিদিন কত জ্বালানি খরচ হয়, সামনের সপ্তাহে সম্ভাব্য প্রয়োজন কত, বর্তমান ভাঁড়ারে কতটা মজুত রয়েছে ও নতুন করে জ্বালানি সরবরাহের প্রয়োজন কবে পড়তে পারে, এই সব দিকেই বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, দেশে মোট ৩৩টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রয়েছে। প্রতিটি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তথ্য পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এদিকে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত আরও জটিল আকার নিয়েছে। ইরানে আমেরিকা ও ইজরায়েলের সামরিক হামলার পর তেহরানের পাল্টা আঘাতে পরিস্থিতি কার্যত যুদ্ধাবস্থায় পৌঁছেছে। সংঘর্ষের চতুর্থ দিনে ইরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তবে রাশিয়া ও চিনের তেলবাহী জাহাজকে এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
সামুদ্রিক বাণিজ্য পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা উইন্ডওয়ার্ড ও কেপলার এর পরিসংখ্যান বলছে, গত রবিবার মাত্র তিনটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার প্রায় ২৮ লক্ষ ব্যারেল তেল নিয়ে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে পেরেছে। সোমবার সেই সংখ্যা নেমে আসে একটি ছোট ট্যাঙ্কারে। চলতি বছরের শুরুর দিকের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত শুরুর আগে পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে প্রায় এক কোটি আটানব্বই লক্ষ ব্যারেল তেল এই প্রণালী দিয়ে রফতানি হতো। বর্তমানে সেই প্রবাহ প্রায় ৮৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
ফলে পশ্চিম এশিয়ার তেল ও গ্যাসের উপর নির্ভরশীল দেশগুলির জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খল নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তবে আশ্বাস দিয়েছেন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরী। তাঁর বক্তব্য, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে ও উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারত সম্পূর্ণ প্রস্তুত।












Click it and Unblock the Notifications