হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতের তেল ট্যাঙ্কারগুলিকে আনতে 'সেফ প্যাসেজ' দিক ইরান, আলোচনায় বিদেশমন্ত্রক
ভারত হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে ২০টিরও বেশি তেল ও গ্যাসের ট্যাঙ্কারের নিরাপদ চলাচলের জন্য ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে। বিদেশ মন্ত্রক এই আলোচনার দায়িত্বে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের ইরানের উপর হামলার কারণে চলমান যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালী বর্তমানে বন্ধ। ফলে তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং অপরিশোধিত তেল বহনকারী এসব ট্যাঙ্কার আটকে পড়েছে।
পারস্য উপসাগরকে ওমান সাগরের সঙ্গে যুক্তকারী এই সংকীর্ণ জলপথটি বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের অপরিশোধিত তেলের এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত হরমুজ প্রণালী দিয়েই চলাচল করে। সংকটের আগে ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ৪৫ শতাংশ এই পথ ব্যবহার করত।

এর আগে জানা গিয়েছিল যে, ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি-র ফোনালাপের পর ইরান ভারতীয় তেলের ট্যাঙ্কারগুলিকে এই জলপথ দিয়ে অতিক্রম করার অনুমতি দিয়েছে। এটি তাৎক্ষণিক কূটনৈতিক সাফল্যের ইঙ্গিত দিয়েছিল।
পরে, বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল দুই নেতার আলোচনার কথা নিশ্চিত করলেও বিস্তারিত তথ্য দেননি। জয়শঙ্কর এই সপ্তাহে টুইট করে জানান, তিনি আরাগচি-র সঙ্গে কথা বলেছেন, উভয় পক্ষই যোগাযোগ রাখতে সম্মত। তবে ট্যাঙ্কার তাঁর টুইটে সরাসরি উল্লিখিত ছিল না।
এদিকে, এদিন বৃহস্পতিবার সংসদে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী বলেছেন যে দেশে জ্বালানির কোনও অভাব নেই। তিনি বলেন, "আধুনিক জ্বালানি ইতিহাসে এমন মুহূর্তের মোকাবিলা কখনও হয়নি। ভারতের অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি সুরক্ষিত, এবং হরমুজ যা সরবরাহ করতে পারত তার চেয়ে বেশি পরিমাণ তেল নিশ্চিত করা হয়েছে।"
মন্ত্রী আরও বলেন, "সংকটের পূর্বে, ভারতের প্রায় ৪৫ শতাংশ অপরিশোধিত তেল আমদানি হরমুজ প্রণালী আসতো। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অসাধারণ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও সদিচ্ছার কারণে ভারত বিঘ্নিত হরমুজ প্রণালী একই সময়ে যা সরবরাহ করতে পারত তার চেয়ে বেশি অপরিশোধিত তেল নিশ্চিত করেছে।"
তিনি জানান, তেল শোধনাগারগুলি উচ্চ ক্ষমতায় কাজ করছে, অনেক ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশেরও বেশি। সংঘাত শুরুর সময় ৫৫ শতাংশ থেকে হরমুজ-বহির্ভূত দেশগুলি থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি প্রায় ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
হরদীপ পুরী উল্লেখ করেন, "পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন, এটিএফ বা জ্বালানি তেলের কোনও ঘাটতি নেই। পেট্রোল, ডিজেল, অ্যাভিয়েশন, টারবাইন ফুয়েল, কেরোসিন এবং জ্বালানি তেলের সহজলভ্যতা সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিত। সারা দেশের খুচরো আউটলেটগুলিতে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং এই পণ্যগুলির সরবরাহ শৃঙ্খল স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে।"












Click it and Unblock the Notifications