Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

USAID Funding: মার্কিন অনুদান ইস্যুতে ধোঁয়াশা রাখেনি কেন্দ্র, তবু ভারত বিরোধিতায় মত্ত ‘নাছোড়বান্দা’ কংগ্রেস!

USAID Funding: ভারতের নির্বাচনের জন্য বরাদ্দ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনুদান বন্ধ নিয়ে তুমুল রাজনৈতিক বিতর্ক দানা বেঁধেছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, আমেরিকার অনুদান ব্যবহার করে ভারতের ভোটে নেতিবাচক প্রভাব ফেলা হত। যদিও সেই অভিযোগ নস্যাৎ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।

অর্থমন্ত্রকের তরফে স্পষ্টতই জানানো হয়েছে, মার্কিন অনুদান কেবল উন্নয়নমূলক খাতেই খরচ হয়েছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে তার কোনও সম্পর্ক নেই। যদিও নাছোড়বান্দা কংগ্রেস ফের উঠেপড়ে লেগেছে সরকার বিরোধী প্রচারে। ভারতকে অস্থির করে তোলার প্রয়াসে মেতেছে কংগ্রেস।

USAID Funding

ছবি সৌজন্য- PTI & pexels

অর্থমন্ত্রকের ২০২৩-'২৪ অর্থবর্ষের বার্ষিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, মার্কিন অনুদান ভারতের সাতটি প্রকল্পে খরচ হয়েছে। মোট অনুদানের পরিমাণ ছিল ৭৫ কোটি ডলার। প্রকল্পগুলি কৃষি, জল নিকাশি, পুনর্বীকরণযোগ্য শক্তি উৎপাদন, বিপর্যয় মোকাবিলা ও স্বাস্থ্য খাতে খরচ হয়েছে। রিপোর্টে কোথাও ভোটারদের প্রাভাবিত করতে টাকা খরচের উল্লেখই নেই।

ট্রাম্পের অভিযোগের সঙ্গে অবশ্য মিলছে না আসল তথ্য। তদন্ত রিপোর্ট বলছে, যে ২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার নিয়ে এত প্রশ্ন, তা আসলে ২০২২ সালে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল। ২০২৪ এ বাংলাদেশে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলি ও নাগরিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ওই অনুদান বরাদ্দ করা হয়েছিল। এই সমস্ত তথ্য সামনে আসার পরেও ট্রাম্প নিজ মন্তব্যে অনড়। কূটনৈতিক সম্পর্কে জটিলতা বাড়াচ্ছে ট্রাম্প মন্তব্য।

ট্রাম্পের মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও। মার্কিন অনুদানের সঙ্গে ভারতের নির্বাচনের কোনও যোগসূত্র নেই বলে সাফ জানিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলেও দাবি তাঁর। ট্রাম্পের ওই দাবি খুবই উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন এস জয়শঙ্কর। ভারতের ভোট প্রক্রিয়া স্বাধীন ও সার্বভৌম বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মার্কিন অনুদান নিয়ে বিতর্ক এখানেই শেষ হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু না, কংগ্রেসের ভারত বিরোধী ন্যারেটিভ চলবেই। ভারতের ভোটে বিদেশি ইন্ধনের অভিযোগ তুলে কেন্দ্রকে নিশানা করেছে কংগ্রেস। তবে এই প্রথম নয়, এর আগেও একইভাবে বিদেশি বন্ধুদের এককাট্টা করে ভারত বিরোধী প্রচার চালিয়েছে কংগ্রেস।

কংগ্রেসকে প্রায়শয়ই অরগানাইজড ক্রাইম ও করাপশন রিপোর্টিং প্রোজেক্ট ওরফে ওসিসিআরপি-এর রিপোর্ট উল্লেখ করতে দেখা যায়। কেন্দ্রীয় সরকার ও বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে কালিমালিপ্ত করতে কংগ্রেসের এই প্রয়াস বরাবরই দেখা যায়। অথচ ওই রিপোর্টগুলির প্রত্যেকটিই আদালত বা কেন্দ্রীয় এজেন্সি নাকচ করে দিয়েছে। সংসদে বারবার অধিবেশনে বিঘ্ন ঘটাতে তবু সেই সমস্ত রিপোর্ট পেশ করেছে কংগ্রেস।

এর আগে পেগাসাস নিয়ে বিতর্ক ও অভিযোগগুলিও এই ওসিসিআরপি রিপোর্ট উসকে দিয়েছিল। কংগ্রেস নেতারা, বিশেষত রাহুল গান্ধী দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতাবস্থা বিগড়ে দিতে এই ইস্যু নিয়ে উদ্যত হয়েছিলেন। আবার, বাংলাদেশের এক সাংবাদিক মুশফিকুল ফজল আনসারির সঙ্গে রাহুলের যোগ নিয়েও সন্দেহ তৈরি হয়েছে। ওসিসিআরপির প্রাক্তন সদস্য তিনি।

গত বছর তাকে আবার বাংলাদেশের দূত হিসেবে নিয়োগ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। আর এরপরই কংগ্রেসের সঙ্গে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলির যোগ নিয়ে আরও প্রশ্ন মাথাচাড়া দিয়েছে। দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশন নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। জর্জ সোরসের নেটওয়ার্ক ফোর্ড ফাউন্ডেশনের অনুদানে চলে দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশন। জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের অবস্থানকেও সমর্থন করেছিল তারা। এদের সঙ্গে কংগ্রেসের পরোক্ষ যোগাযোগ স্বাভাবিকভাবেই হাত শিবিরের দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

জর্জ সোরসের ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশনের অনুদানপুষ্ট ফ্রিডম হাউস ২০২১ সালে ভারতকে আংশিকভাবে স্বাধীন বলে উল্লেখ করেছিল। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘুদের কণ্ঠরোধ করার অভিযোগ করে ওই সংস্থা। বহু সমালোচকদের মতে, ক্ষমতায় ফিরতে মরিয়া কংগ্রেস বহু এমন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতিয়েছে, যারা আদতেই ভারতের ভোটে ব্যাঘাত ঘটাতে চায়।

আবার USAID-এর মদতপুষ্ট CEPPS সংস্থাটি সারা বিশ্বে ভোটে প্রভাব ফেলার জন্য কুখ্যাত। রিপোর্ট বলছে, USAID এর তরফে ভারতে ভোটারদের বুথমুখী করতে যে ২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দেওয়া হয়েছিল, তখন ক্ষমতায় ছিল কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার। আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক মার্কিন কমিশনের সঙ্গেও আঁতাত ছিল ইন্ডিয়ান আমেরিকান মুসলিম কাউন্সিলের। ভারতকে বিশেষ উদ্বেগের দেশ বলে উল্লেখ করে তারা।

তবে বিদেশি ইন্ধন বা প্ররোচনার বিরুদ্ধে বরাবরই কড়া অবস্থান নিয়েছে ভারত। ভারতের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনও বিদেশি শক্তির অঙ্গুলিহেলন চলবে না বলে সাফ জানিয়েছে জয়শঙ্করের মন্ত্রক। বিদেশমন্ত্রক ও অর্থমন্ত্রকের বিস্তারিত রিপোর্টেই প্রমাণিত হয়ে গিয়েছে, ভারতের ভোটে কোনও বিদেশি প্রভাব নেই। বরং কংগ্রেস বিদেশি শক্তিকে কাজে লাগিয়ে প্ররোচনা দিচ্ছে বলে দাবি করেছে বিজেপি।

কংগ্রেস নিজেকে গণতন্ত্রের পূজারী দাবি করলেও বিদেশি শক্তিগুলির সঙ্গে তাদের যোগসাজশ নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে। বিভ্রান্তিকর সমস্ত রিপোর্ট তৈরি করে ও আন্তর্জাতিক নানা রিপোর্টকে হাতিয়ার করে যেভাবে তারা বারবার ভারত বিরোধিতায় সরব হয়েছে, তাতে কংগ্রেসের অভিসন্ধি নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। আন্তর্জাতিক মঞ্চে বারবার কংগ্রেসের কারণে কালিমালিপ্ত হয়েছে ভারত।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+