গাজা শান্তি পরিকল্পনায় ভারতের সমর্থন, সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে একসঙ্গে দিল্লি ও তেল আভিভ
জেরুজালেমে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্পষ্ট বার্তা দিলেন সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারত ও ইজরায়েল কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই চালিয়ে যাবে। তাঁর কথায়, "বিশ্বে সন্ত্রাসের কোনও স্থান নেই। যারা সন্ত্রাসকে মদত দেয়, তাদের বিরুদ্ধেও আমাদের অবস্থান এক ও অভিন্ন।" একই সঙ্গে তিনি গাজা শান্তি পরিকল্পনায় ভারতের সমর্থনের কথাও ঘোষণা করেন।
ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও কৃষি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের রূপরেখা তৈরি হয়। দুই দেশের সম্পর্ককে 'বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্ব' এর মর্যাদা দেওয়ার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথাও জানান মোদী। তাঁর মতে, "এটি দুই দেশের জনগণের প্রত্যাশারই প্রতিফলন।"

প্রধানমন্ত্রী জানান, ইজরায়েলে ইউপিআই ব্যবহারের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। খুব শীঘ্রই দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) চূড়ান্ত রূপ পাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এদিন মোদী বলেন, "শালোম, উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে ধন্যবাদ। নয় বছর আগে প্রথমবার ইজরায়েল সফরের সুযোগ পেয়েছিলাম। আবার এই দেশে ফিরে আসা আমার কাছে গর্বের মুহূর্ত।" তিনি আরও জানান, সম্প্রতি প্রাপ্ত কনেসেটের স্পিকারের পদক তিনি ১৪০ কোটি ভারতবাসী ও ভারত ও ইজরায়েল বন্ধুত্বকে উৎসর্গ করেছেন।
দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি ইন্ডিয়া মিডল ইস্ট ইউরোপ ইকনমিক করিডর (আইএমইসি) বাস্তবায়ন ও আইটু ইউটু (ভারত ইজরায়েল ইউএই আমেরিকা) কাঠামোর অধীনে সহযোগিতা নিয়েও দুই পক্ষ মতবিনিময় করে।
নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনার আগে প্রধানমন্ত্রী মোদী ইজরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। শিক্ষা, স্টার্ট আপ, উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও সংযোগ বৃদ্ধি এই ক্ষেত্রগুলিতে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হয়।
দুই দিনের সফরে বুধবার ইজরায়েলে পৌঁছন মোদী। গত নয় বছরে এটি তাঁর দ্বিতীয় সফর। ২০১৭ সালের জুলাইয়ে তাঁর প্রথম সফরের সময় ভারত ইজরায়েল সম্পর্ক কৌশলগত অংশীদারিত্বের স্তরে উন্নীত হয়েছিল।
বর্তমানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, প্রতিরক্ষা, কৃষি, জল ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহ একাধিক ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা সুদৃঢ়। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ইজরায়েল ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার, যেখানে বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সরবরাহ করা হয়।
বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ক্ষেত্রেও ইতিবাচক অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত নভেম্বর মাসে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়ালের ইজরায়েল সফরের সময় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সংক্রান্ত আলোচনার টার্মস অব রেফারেন্স স্বাক্ষরিত হয়। তার আগে সেপ্টেম্বরে দুই দেশ দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি (বিআইএ) স্বাক্ষর করে, যা অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও প্রসারিত করার পথ প্রশস্ত করেছে।
এই সফর ভারত ও ইজরায়েল সম্পর্ককে নতুন গতি দেওয়ার পাশাপাশি সন্ত্রাসবিরোধী যৌথ অবস্থান ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় দুই দেশের অভিন্ন অঙ্গীকারকে আরও জোরালো করল।
-
প্রবল ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইন্দোনেশিয়া, আতঙ্কে পথে মানুষ -
কালিয়াচক কাণ্ডে উত্তেজনা চরমে! বিচারকদের ঘেরাও-ভাঙচুরে তৃণমূলকে নিশানা সুকান্তর, কী বললেন দিলীপ? -
ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামে উত্তাপ চরমে, শুভেন্দুর বিরুদ্ধে ভয়ের রাজনীতির অভিযোগে মনোনয়ন বাতিলের দাবি তৃণমূলের -
ইডেনে প্রথম জয়ের সন্ধানে কেকেআর-সানরাইজার্স, দুই দলের একাদশ কেমন হতে পারে? -
যুদ্ধ নয়, আলোচনায় সমাধান! হরমুজ ইস্যুতে বৈঠক ডাকল ব্রিটেন, যোগ দিচ্ছে ভারত -
কালিয়াচক কাণ্ডে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের! 'রাজনীতি নয়, বিচারকদের নিরাপত্তাই...', কী কী বলল শীর্ষ আদালত? -
ভোটার তালিকা ইস্যুতে ফের অগ্নিগর্ভ মালদহ, সকালে ফের অবরোধ -
মালদহের ঘটনার তদন্তভার নিল সিবিআই, মমতার তোপে কমিশন -
ভোটের আবহে জলপাইগুড়িতে চাঞ্চল্য, এক্সপ্রেস ট্রেনে জাল নথি সহ ১৪ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার, তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা -
'১৫ দিন বাংলায় থাকব', ভবানীপুরে মমতাকে হারানোর ডাক, শাহের চ্যালেঞ্জে তপ্ত রাজনীতি -
কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্ত! দেশের বিভিন্ন শহরে আই-প্যাকের দফতর ও ডিরেক্টরের বাসভবনে ইডি তল্লাশি -
কালিয়াচকে প্রশাসনিক গাফিলতি? জেলাশাসক, পুলিশ সুপারকে শোকজ, CBI অথবা NIA তদন্তের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট












Click it and Unblock the Notifications