পরমাণু যুদ্ধের দোরগোড়ায় ছিল, অপারেশন সিঁদুরের পর ভারত পাকিস্তানের যুদ্ধ থামানোর দাবি ফের ট্রাম্পের
আন্তর্জাতিক কূটনীতির মঞ্চে ফের আলোড়ন তুললেন মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসের সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করলেন, ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানকে একটি বিধ্বংসী যুদ্ধের দোরগোড়া থেকে তিনি ফিরিয়ে আনেন, আর সেই সংঘাত ছিল নাকি পরমাণু হামলার দোরগোড়ায় ।
দ্বিতীয় দফা দায়িত্ব নেওয়ার একবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ইভেন্টে সাংবাদিকদের সামনে ট্রাম্প বললেন, "আমি দশ মাসে আটটি অনন্ত যুদ্ধ শেষ করেছি, পাকিস্তান ভারত তখন সত্যিই যুদ্ধের পথে। আটটা বিমান ভূপাতিত হয়েছিল। ওরা পরমাণু পর্যন্ত হাঁটতে যাচ্ছিল, আমার মনে হয়। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী তখন এখানে এসে আমাকে বলেছিলেন ট্রাম্প ১ কোটি মানুষকে বাঁচালেন।"

শুধু এখানেই থামেননি তিনি। শান্তি প্রতিষ্ঠার নেপথ্যে নিজের ভূমিকাকে নোবেল পুরস্কারের যোগ্য বলে ইঙ্গিত দিয়ে মন্তব্য করেন, "আমি লক্ষ লক্ষ মানুষকে বাঁচিয়েছি। নোবেল নিয়ে কে কী বলে বলুক নরওয়েই সব সিদ্ধান্ত নেয়। মারিয়া তাই পদকটা আমায় দেওয়ার কথা বলেছিল," ভেনিজুয়েলার রাজনীতিবিদ মারিয়া মাচাদোর পদক হস্তান্তরের প্রসঙ্গ টেনে এমনই মন্তব্য ট্রাম্পের।
২০২৫ সালের মে থেকে একাধিকবার একই দাবি তুলেছেন ট্রাম্প। তাঁর মতে, আমেরিকার কূটনৈতিক চাপই শেষ পর্যন্ত ভারত পাকিস্তানের উত্তেজনা প্রশমিত করে। যদিও নোবেল শান্তি পুরস্কার অর্জনের স্বপ্ন সে বছর তাঁর ধরা দেয়নি।
কিন্তু দিল্লির অবস্থান একেবারেই ভিন্ন। ভারত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ওই যুদ্ধবিরতি এসেছে দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগের মাধ্যমে, ওয়াশিংটনের কোনও হস্তক্ষেপ ছাড়াই। সরকারি সূত্রে বলা হয়েছে, 'অপারেশন সিঁঁদুর' পাল্টা সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের পরে ১০ মে পাকিস্তানের ডিরেক্টর জেনারেল অফ মিলিটারি অপারেশন (ডিজিএমও) নিজেই ভারতীয় সেনাকে যোগাযোগ করে যুদ্ধবিরতির আবেদন জানায়। এরপরই যৌথভাবে স্থির হয় সংঘাত থামানোর সিদ্ধান্ত।
২০২৫ সালের এপ্রিলে প্যহেলগামে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়। তার জবাবেই 'অপারেশন সিঁঁদুর' যেখানে ভারত ২৪টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে পাকিস্তানের অন্তত ২১টি সন্ত্রাসঘাঁটি ও সামরিক অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেয়। মাত্র ২৫ মিনিটের অভিযানের পরও চার দিন ধরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র পাল্টাপাল্টি চলতে থাকে দুই দেশে। শেষমেশ ক্ষয়ক্ষতির চাপে ইসলামাবাদই যুদ্ধবিরতির রাস্তা খুঁজে নেয়।
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য তাই আবারও প্রশ্ন তুলেছে আন্তর্জাতিক কূটনীতির নেপথ্যে আসল চালচিত্র কী ছিল? আর কে আসলে থামিয়েছিল দক্ষিণ এশিয়ার সম্ভাব্য এক 'নিউক্লিয়ার নাইটমেয়ার' ওয়াশিংটন, নাকি দিল্লি ইসলামাবাদের নিজস্ব হটলাইন?












Click it and Unblock the Notifications