রাষ্ট্রীয় শোকের আবহে খালেদা জিয়ার শেষযাত্রা, পুত্রের হাতে প্রধানমন্ত্রীর শোকবার্তা তুলে দিলেন জয়শঙ্কর
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক দীর্ঘ অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার শেষযাত্রাকে ঘিরে বুধবার ঢাকাজুড়ে নেমেছে শোকের আবহ। সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, তাঁর মরদেহ শেষকৃত্যের জন্য নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এদিকে, ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বিএনপি নেত্রীর পুত্রের হাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পক্ষ থেকে পাঠানো শোকবার্তাও তুলে দেন।
খালেদা জিয়ার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে মুহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। রাজধানী ঢাকায় বিপুল জনসমাগমের আশঙ্কায় নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। দেশের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেত্রীর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে দূরদূরান্ত থেকে মানুষের ঢল নামবে বলেই মনে করছে প্রশাসন।

সরকারি সূচি অনুযায়ী, বুধবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জোহরের নামাজের পর খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে। সেখানেই রয়েছে তাঁর স্বামী, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধি, যিনি ১৯৮১ সালে নিহত হন।
চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন খালেদা জিয়া। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্ত্রী হিসেবে তিনি বিএনপির নেতৃত্ব দেন এবং ১৯৯১-৯৬, ১৯৯৬ ও ২০০১-০৬
এই তিন দফায় দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ ও তিক্ত রাজনৈতিক দ্বন্দ্বই আধুনিক বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।
দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর খালেদা জিয়ার মৃত্যু হয়। নানা শারীরিক জটিলতার কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে অনেকটাই দূরে ছিলেন। তাঁর প্রস্থানে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক শক্তিশালী কণ্ঠের অবসান ঘটল যার ছাপ থেকে যাবে দেশের ইতিহাসে।












Click it and Unblock the Notifications